শুধু মুখ্যমন্ত্রী, হামিম-অর্পিতার টার্গেট ছিল রাজ্যের এই মন্ত্রী ও তাঁর ছেলেও, কীভাবে কাজ এগোচ্ছিল জঙ্গিরা?
কলকাতা : পাকিস্তানি জঙ্গি শাহজাদ ভাট্টির গ্যাংয়ের নিশানায় ছিলেন মূলত হাই প্রোফাইল ব্যক্তিরা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ছাড়াও যাদের টার্গেটে ছিলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই ও তাঁর ছেলে। শুধু মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী নন, পাকিস্তানি জঙ্গি শাহজাদ ভাট্টির গ্যাংয়ের নিশানায় ছিলেন মূলত হাই প্রোফাইল ব্যক্তিরা। STF সূত্রে দাবি, তাঁদের মধ্যে যেমন ছিলেন মন্ত্রী, আমলা, তেমনি তাঁদের আত্মীয়-পরিজনরাও। ধৃত জঙ্গি হামিম মণ্ডলের বান্ধবী অর্পিতা সরকারকে গ্রেফতারের পর, এই তথ্য আরও স্পষ্টভাবে সামনে এসেছে। জানা গিয়েছে, তার টার্গেটের মধ্যে অন্যতম ছিলেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই ও তাঁর ছেলে।
STF-এর তরফে জানানো হয়েছে, ভাট্টি গ্যাংয়ের এক চক্রী পাক নাগরিক হাম্মাদ রাজ্যের মন্ত্রী উমেশ রাইকে হুমকি দিয়ে টাকা আদায়ের পরিকল্পনা করে। পরে হাম্মাদ পরিকল্পনা পরিবর্তন করে উমেশ রাইয়ের ১৭ বছরের ছেলে উজ্জ্বল রাইকে অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের ছক কষে। এর জন্য হাম্মাদ ধৃত জঙ্গি হামিমের সাহায্য চায়। টাকার বিনিময়ে সে সাহায্য করতে রাজিও হয়ে যায়। হাম্মাদ মন্ত্রীর ছেলের হানিট্র্যাপে ফেলবে বলে অর্পিতাকে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেয়। অর্পিতা এরপর ইনস্টাগ্রামে উজ্জ্বলের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে। ৩ দিন যোগাযোগ করে মোবাইল নম্বর নিয়ে নেয় এবং পাকিস্তানের হ্যান্ডলার ও ধৃত জঙ্গির সঙ্গে তা শেয়ারও করে। দেখা করার জন্য মন্ত্রীর ছেলেকে অর্পিতা রাজিও করায়।
সোশ্যাল মিডিয়ায় বন্ধুত্বের পর টাকার টোপ, কোন কোন অ্যাপের ব্যবহার করে তৈরি হচ্ছিল জঙ্গি মডিউল ?
একসময় হাওড়ার পিলখানায় থাকত ধৃত জঙ্গি হামিম মণ্ডল। এই এলাকায় থাকেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন দফতরের প্রতিমন্ত্রী ও হাওড়া উত্তরের বিজেপি বিধায়ক উমেশ রাই। পরে অবশ্য বর্ধমানে চলে যায় হামিম। জঙ্গিদের টার্গেটে কি আরও কোনও হাই প্রোফাইল ব্যক্তিরা রয়েছেন? ধৃতদের জেরা করে জানার চেষ্টা চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা। অন্যদিকে, স্পষ্ট ভাবে জানা গিয়েছে জঙ্গিদের টার্গেটে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। জঙ্গি হামিম মণ্ডল ও তাঁর বান্ধবী অর্পিতা সরকারকে গ্রেফতারের পর এমনই দাবি করা হল STF-এর তরফে। কোন ৩০ মিনিট অরক্ষিত থাকেন মুখ্যমন্ত্রী, সহযোগীকে জানিয়েছিল ধৃত জঙ্গি।
পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা, অথচ তারই সঙ্গে পাকিস্তানি জঙ্গি গোষ্ঠীর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ। এমনকি পাক গুপ্তচর সংস্থা ISI-এর সঙ্গেও যোগাযোগ ছিল, ধৃত জঙ্গি হামিম মণ্ডলের। আর তাদেরই নিশানায় ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। STF-এর তরফে জানানো হয়েছে, ধৃত জঙ্গির এলিমেন্ট-X চ্যাট পরীক্ষা করে একটি টেক্সট মেসেজ পাওয়া গেছে, যেখানে সে সহযোগী রানাকে মুখ্যমন্ত্রীর গতিবিধি সংক্রান্ত কিছু তথ্য জানিয়েছিল। মেসেজটিতে ধৃত জঙ্গি হামিম মণ্ডল জানায় যে, মুখ্যমন্ত্রী অরক্ষিত থাকেন, এমন প্রায় ৩০ মিনিট সময় সে খুঁজে বের করেছে। এই মেসেজটি পাঠানোর পর দুই থেকে তিন মিনিটের মধ্যে রানার কাছ থেকে দুটি ভয়েস মেসেজ পায় ধৃত হামিম। যে ভয়েস মেসেজগুলি ছিল ৩০ মিনিট করে। সেখানে কী কথা বলা হয়েছে, তা উদ্ধার করার চেষ্টা করছে পুলিশ।
