কলকাতা : বিধানসভায় সই-জালিয়াতি, এই ঘটনা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে শনিবার CID নোটিশ পাঠিয়েছিল তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। আজ হাজিরার দিন থাকলেও, শারীরিক অসুস্থতার কথা জানিয়ে এড়িয়ে যান তিনি। আর এর পরই সোমবার বিকেলে ফের কালীঘাট রোডের বাড়িতে উপস্থিত হন CID অধিকারিকরা। আজ হাজিরা এড়াতেই শনিবারের মত পুনরায় একটি নোটিশ পেপার নিয়ে আসেন CID কর্তারা। তাঁদের দাবি ছিল, অভিষেক যেন নিজে এসে সেটি নিয়ে যান। কিন্তু তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে একজন এসে সেই কাজে সাহায্য করেন।
বিকেল ৫.৫০-এ CID অধিকারিকরা হাজির হন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে। বির্ঘক্ষণ অপেক্ষা করার পর অবশেষে স্বাক্ষর করা সেই নোটিশ হাতে পান তাঁরা। তাতে স্পষ্ট উল্লেখ করা আছে, ১৫দিন নয়, হাজিরায় অভিষেককে ৭দিন সময় দিল CID। ৮ তারিখ বেলা ১২টার সময় অভিষেককে ভবানীভবনে উপস্থিত থাকতে হবে।
আরও পড়ুন – অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে CID আধিকারিকরা
উল্লেখ্য, বিধানসভা সংক্রান্ত সই-বিতর্ক মামলায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিস পাঠিয়েছিল তদন্তকারী সংস্থা। সোমবার তাঁকে হাজির থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়েও তিনি CID দফতরে যাননি। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবীর পাঠানো চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, শারীরিক সমস্যার কারণে তিনি আপাতত তদন্তকারীদের সামনে হাজির হতে পারছেন না।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোমবার ২ বিধায়ককে বহিষ্কার করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দল বিরোধী কাজের অভিযোগে বহিষ্কৃত হলেন তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা। এই ঘটনা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন এর তদন্ত হবে। মুখ্যমন্ত্রী বিধানসভার সই জাল বিতর্কে নিশানা করেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কেও। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘তদন্তের স্বার্থে আঞ্চলিক দলের সাধারণ সম্পাদককে হাজিরার নোটিস দিয়েছিল CID। কিন্তু তিনি নির্ধারিত দিনে হাজিরা দেননি।’ এত বড় দুর্নীতিগ্রস্ত একটা দল তদন্তের মুখোমুখি হতেও ভয় পাচ্ছে।’ ‘হারের পরেও চুরির অভ্যাস যায়নি, দলের বিধায়কদেরই সই জাল।’ ‘১৩জন তৃণমূল বিধায়কের সঙ্গে কথা হয়েছে’। ‘সই জালিয়াতির কথা স্বীকার করেছেন তৃণমূলেরই ৩ বিধায়ক।’
আরও পড়ুন – ‘প্রতিবাদ করলেই শাস্তি,’ বহিষ্কৃত হয়ে দলের বিরুদ্ধে কী কী অভিযোগ আনলেন সন্দীপন সাহা ?
