কলকাতা : ‘এরা এত বড় দুর্নীতিগ্রস্ত এবং আমি সিআইডি-কে বলেছি, ভারতীয় ন্যায় সংহিতায় Forgery-তে যা যা আছে অ্যাকশন আমরা নেব।’ বিধানসভায় সই-জালিয়াতি ইস্যুতে স্পষ্ট বলে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বিরোধী দলনেতা হবেন – এই মর্মে একটি প্রস্তাব নিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের বিধায়কদের সই-সহ সেই প্রস্তাব জমা দেওয়া হয় বিধানসভায়। মুখ্য়মন্ত্রী জানিয়েছেন, সেখানে সই জালিয়াতি নিয়ে তৃণমূলের দুই বিধায়কই অভিযোগ জানান।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এদের যে হেরে যাওয়ার পরেও চুরির অভ্যাস কাটেনি, ভেটেরান চোর এরা। এত প্রতিষ্ঠিত চোর দেখা যায় না। নিজের দলের বিধায়কদের সই জাল করেন এবং তিনজন এমএলএ সেটা স্বীকার করেন সিআইডির সামনে। সিআইডি একটা নোটিস করে আঞ্চলিক দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদককে যে, আপনি রেজ্যুলিউনশনের বুক নিয়ে আজ হাজির হবেন। বাকিটা সিআইডি-পুলিশ বলতে পারবে। সম্ভবত, আমাকে ডিজিপি বলছিলেন, উনি টাইম চেয়েছেন। সেটা তাঁদের প্রসিডিওর অনুযায়ী করবেন। আমি তদন্ত পার্টে ঢুকব না। ইট ইজ নট মাই ডিউটি। যেহেতু ব্রেকিং নিউজ আসছে। অভিযোগ করছে। আমি দেখছিলাম, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন…আমি অবাক হয়ে গেছি, আমি সই করিনি কিন্তু। কুণাল বাবু বলছেন। তারপরে চন্দ্রনাথ সিনহা উপদেশ দিচ্ছেন যে… সিআইডি এসেছিল, তাদের উপদেশে দিয়েছি। যে, এই এইভাবে করা উচিত। আমাদের তো ডেকেই বলতে পারতেন। ডেকে বলবে, কেন ভাই ! মিনিটস রেজ্যুলিউশন তো আমাদেরও দিতে হয়েছে লোকভবনে। আমাকে যে দলনেতা করেছে বিজেপি। ‘২১-এ আমি যে LOP হয়েছি, তার রেজ্যুলিউশন দিতে হয়েছে মিটিংয়ে। তুমি তোমার লোকেদের সইগুলো জাল করবে, সে তো পাবলিক ডোমেনে এখন।”
এরপরই স্পষ্ট বার্তা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “এরা এত বড় দুর্নীতিগ্রস্ত এবং আমি সিআইডি-কে বলেছি, ভারতীয় ন্যায় সংহিতায় Forgery-তে যা যা আছে অ্যাকশন আমরা নেব। কারও অসুবিধা থাকলে, কেউ অসুস্থ থাকলে তাঁকে সময় দেবেন কি না তা আইও বা তাঁর অর্গানাইজেশন ঠিক করবে। ওখানে আমি ইন্টারফেয়ার করব না। ইট ইজ নট মাই ডিউটি। কিন্তু, এর সঙ্গে সংবাদমাধ্যমের প্রচার, তাতে মনে হতে পারে প্রতিহিংসা নিচ্ছে। কিন্তু, প্রতিহিংসা আমরা নিতে চাই না। কারণ, উঠেই গেছে ওই পার্টিটা।”
এদিকে সই জালিয়াতি ফাঁস করা উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্য়োপাধ্য়ায় ও এন্টালির তৃণমূল বিধায়ক সন্দীপন সাহা বহিষ্কার করেছে দল।
