Voice of Eastern India

TMC News : ‘বাড়ির ছেলে ক্রিমিনাল হলে…’ সরাসরি অভিষেককে নিশানা করলেন তৃণমূলেরই হেভিওয়েট! এবার বিদ্রোহী কে?


কলকাতা : রাজ্যে ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্য সামনে আসছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে। দলীয় নেতৃত্ব নিয়ে ক্ষোভ, পদত্যাগ, প্রকাশ্য আক্রমণ—সব মিলিয়ে কার্যত চাপে ঘাসফুল শিবির। এবার সেই অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে সরাসরি নেতৃত্ব বদলের দাবি তুললেন কলকাতা পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলর ও মেয়র পারিষদ তারক সিং।

এবিপি আনন্দের প্রশ্নের উত্তরে কাকে বদলাতে চান জানতে চাওয়া হলে তারক সিং বলেন, “যারা নেতৃত্ব দিচ্ছে তাদের বদলাতে চাই।” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বোঝাচ্ছেন কি না জানতে চাইলে তিনি স্পষ্ট জবাব দেন, “হ্যাঁ, নিশ্চয়।”

এতেই থেমে থাকেননি তিনি। আরও বলেন, “দলটা কারও পৈতৃক সম্পত্তি নয়। আমরা নেতৃত্বের পরিবর্তন চাই। আমি চাই। আপনাকে খোলাখুলি বলছি। তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্বের পরিবর্তন চাই।” পাশাপাশি অভিষেককে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য় করলেন কলকাতা পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলর এবং মেয়র পারিষদ তারক সিং। ‘বাড়ির ছেলে ক্রিমিনাল হলে শাসন করব না! ‘ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা তারক সিংয়ের। 

এদিকে, ভোটে হার এবং দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেছেন তৃণমূল নেতা বিশ্বজিৎ দেব। তাঁর অভিযোগ, “মমতাদি এবং অভিষেক। এদের নজরে ছাড়া, এদের জ্ঞানের বাইরে, এদের অজান্তে এই ধরনের দুর্নীতি চলতে পারে না।”

দলের অন্দরে ক্ষোভ যে ক্রমশ বাড়ছে, তার ইঙ্গিত মিলেছে একাধিক পদত্যাগেও। বুধবার বরো চেয়ারম্যান পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষ। একই দিনে মিউনিসিপাল অ্যাকাউন্টস কমিটির সদস্যপদ থেকেও পদত্যাগ করেন আরেক কাউন্সিলর অরূপ চক্রবর্তী।

সদ্য পদত্যাগী সুশান্ত ঘোষ বলেন, “আমি হতাশ তৃণমূল। কোথাও যেন দলটা হারিয়ে গেছে।” অরূপ চক্রবর্তীর বক্তব্যও ছিল তীব্র। তিনি বলেন, “দলের নেতৃত্ব কোথায়? সেই নেতৃত্বকে আমরা পাইনি, যাঁরা মমতা ব্য়ানার্জির ডান কান, বাঁ কান, ডান হাত, বাঁ হাত, অজুহাত ছিলেন..”

বিদ্রোহের তালিকায় বুধবার নাম লেখান প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ শান্তনু সেনও। তিনি বলেন, “বাংলার মানুষ ২০২৬ সালের চৌঠা মে বিপুল ম্যান্ডেটের মধ্যে দিয়ে যখন বুঝিয়ে দিলেন, যে চাকরি চুরি, আর জি কর কাণ্ড, অভয়াকাণ্ড সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে পাহাড়প্রমাণ দুর্নীতির বিরুদ্ধে তারা রায় দিয়েছেন”

অন্যদিকে, দলের দুই প্রবীণ সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কাকলি ঘোষ দস্তিদারের প্রকাশ্য সংঘাতও এখন তৃণমূলের অস্বস্তি বাড়িয়েছে। লোকসভার স্পিকারকে চিঠি লিখে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানিয়েছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার।

কাকলি ঘোষ দস্তিদার বলেন, “ইদানিংকালে একজন সাংসদ, তিনি পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে যেভাবে মহিলা সাংসদদের উপরে আক্রমণ করতেন, আমি এটা সমীচীন মনে করিনি।” এর পাল্টা জবাবে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “তো তাকে আমি যদি বলে থাকি তাহলে কখন বলেছি? আর ওকে বলব কখন, ওর অ্যাটেন্ডেন্স এত কম, কোথায় কাকে বলব? থাকে কোথায়? হাউসেই তো থাকত না!”

একদিকে নেতৃত্ব নিয়ে অসন্তোষ, অন্যদিকে ধারাবাহিক পদত্যাগ এবং প্রকাশ্য অন্তর্দ্বন্দ্ব—সব মিলিয়ে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে এখন প্রবল চাপের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, দলীয় অন্দরের এই ক্ষোভ আগামী দিনে আরও বড় আকার নিতে পারে।

 



Source link

Leave A Reply

Your email address will not be published.