Voice of Eastern India

TMC News : ‘দল বিপদের দিনে দেখে না…কাজ ফুরোলেই ছুড়ে ফেলে দেওয়া প্র্যাকটিস’ কার বিরুদ্ধে বোমা পার্থর?


কলকাতা : একসময় তৃণমূল কংগ্রেসের মহাসচিব ছিলেন তিনি। মমতার কাছের লোক। দলনেত্রীর পর দলের শেষ-কথা তিনিই, এমনটাই বলতেন কাছের মানুষরা। এরপর  শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর দল তাঁকে সাসপেন্ড করে। দীর্ঘদিন জেলে থাকার পর বর্তমানে জামিনে মুক্ত রয়েছেন প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। হাল আমলে নির্বাচনে তৃণমূলের ভগ্নদশার জন্য নিজের দলকেই নিশানা করলেন তিনি। একেবারে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন একের পর এক। সরাসরি নিশানা করলেন কাকে? 

সম্প্রতি ABP Ananda কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পার্থ চট্টোপাধ্যায় দাবি করলেন, দলের হয়ে কাজ করা নেতাদের বিপদের সময়ে পাশে দাঁড়ায় না তৃণমূল। তাঁর অভিযোগ, যাঁরা একসময় দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন, তাঁদের অনেককেই পরবর্তীতে গুরুত্বহীন করে দেওয়া হয়েছে। পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের অভিযোগ, দলের হয়ে যারা কাজ করে, দল তাদের বিপদের দিনে দেখে না। কাউকেই দেখেনি। না মুকুলকে দেখেছে, না শুভেন্দুকে দেখেছে, না সোনালিকে দেখেছে, না তাপস রায়কে দেখেছে। পার্থ বলেছেন, ” দলের হয়ে যারা কাজ করে, দল তাদের বিপদের দিনে দেখে না। কাউকেই দেখেনি। না মুকুলকে দেখেছে। না দলের সঙ্কট তৈরি করতে পারে, দলের নেতৃত্বের মধ্যে শুভেন্দু, তাকে দেখেনি। সোনালিকে দেখেনি। তাপস রায়কে দেখেনি। যারাই উচ্চস্বরে কণ্ঠ ছাড়ো জোরে করেছে, তাদের কণ্ঠ কেটেই দিয়েছে। “

গ্রেফতারির পিছনে ‘ষড়যন্ত্র’, দাবি পার্থর

শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হওয়ার প্রসঙ্গেও বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, তাঁকে রাজনৈতিকভাবে বলি দেওয়া হয়েছে। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, “আমি হয়তো এই দলের কেরম বোর্ডের লাল ঘুঁটি। ফেলে দিয়েছে। না হলে দল দাঁড়ায়নি কেন? দল তো পাশে নেই। কেউ তো পাশে নেই।”পার্থর আরও অভিযোগ, তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে দল যে তৎপরতা দেখিয়েছে, অন্যদের ক্ষেত্রে সেই একই নীতি অনুসরণ করা হয়নি।

বাদুড়িয়ার টাকা উদ্ধারের ঘটনাও টানলেন

উত্তর ২৪ পরগনার বাদুড়িয়ায় চাষের জমি থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধারের ঘটনাও উল্লেখ করেছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর প্রশ্ন, এত বড় ঘটনা ঘটলেও দল কেন কোনও কড়া অবস্থান নেয়নি? পার্থর বক্তব্য, “এই ছোটরা যারা ধরা পড়ছে, দেখানো হচ্ছে, কেউ তো কারও ডানহাত, বাঁহাত। জানত না মানে কী? তাহলে অন্য লোক জানত?” তাঁর দাবি, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের ব্যবহার করে পরে সরিয়ে দেওয়ার সংস্কৃতি দীর্ঘদিন ধরেই দলের মধ্যে ছিল।

অনুব্রত-জ্যোতিপ্রিয় প্রসঙ্গেও প্রশ্ন

গরু পাচার মামলায় গ্রেফতার হওয়া অনুব্রত মণ্ডল কিংবা রেশন দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হওয়া জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের প্রসঙ্গও টেনেছেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর প্রশ্ন, “জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক সঙ্গে সঙ্গে হল না কেন? কেষ্ট বাঘ হয়ে গেল, আমায় কেন ইঁদুর করা হল, আমি তো তা জানি না।” পার্থর দাবি, দলের একাংশ তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছে এবং তিনি সেই পরিস্থিতির শিকার।

রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা

তৃণমূল কংগ্রেসের একসময়ের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন করে জল্পনা তৈরি করেছে। ভোট-পরবর্তী সময়ে দলের সাংগঠনিক অবস্থা, দুর্নীতির অভিযোগ এবং নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে যখন বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে, তখন পার্থর এই বিস্ফোরক মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। 



Source link

Leave A Reply

Your email address will not be published.