Suvendu Adhikari : ‘মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে হাত মিলিয়ে বলেছেন ভোট নষ্ট করব না’, রেজিনগরে প্রচারে ঝড় তুললেন শুভেন্দু
শিবাশিস মৌলিক, রাজীব চৌধুরী ও আশাবুল হোসেন, রেজিনগর : বৃহস্পতিবার রেজিনগরে বিজেপি প্রার্থীর প্রচারে গিয়ে ঝড় তুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বললেন, ‘রেজিনগরকে বলে গেলাম, আমাদের ঋণে আবদ্ধ করুন। ৭০-৩০ এর গল্প শোনাবেন না। হিন্দু মুসলিম করবেন না।’ এনিয়ে কটাক্ষ করেছেন হুমায়ুন কবীর। হুমায়ুন কবীরের পাশাপাশি কংগ্রেস, সিপিএম ও তৃণমূলকেও আক্রমণ শানান শুভেন্দু অধিকারী।
৬ অক্টোবর নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা কেন্দ্রে উপনির্বাচন। বৃহস্পতিবার রেজিনগরে বিজেপি প্রার্থীর প্রচারে গিয়ে ঝড় তুললেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ২০২৬-এ রেজিনগর থেকে জয়ী হন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। তাঁর ছেড়ে যাওয়া আসনেই ভোট হচ্ছে। বৃহস্পতিবার রেজিনগরের মাটিতে দাঁড়িয়ে ২০২৪ সালে লোকসভা নির্বাচনের আগে ভরতপুরের তৎকালীন তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীরের একটি মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে আক্রমণ শানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, “হিন্দু মুসলিম করবেন না। ৭০-৩০ এর গল্প শোনাবেন না। রেজিনগরের মানুষ সাম্প্রদায়িক বিভাজন নয়, তাঁরা উন্নয়ন চান। গ্রামের পর গ্রাম যে সংখ্য়ালঘুরা এতদিন বিজেপিকে ভোট দেয়নি, তাঁরা লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন আর বলেছেন আমরা ভোট নষ্ট করব না।” পাল্টা হুমায়ুন কবীর বলেন, “মুখ্য়মন্ত্রী দ্বিচারিতা করছেন, মিথ্য়া কথা বলছেন।”
হুমায়ুন কবীরের পাশাপাশি কংগ্রেস, সিপিএম ও তৃণমূলকেও আক্রমণ করেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “লালবাবুরা বিধানসভায় কত ? সবেধন নীলমণি ১। এই রাজ্যকে ২৫ বছর শাসন করা সাইন বোর্ড হয়ে যাওয়া কংগ্রেস বিধানসভায় কত ? মাত্র ২। তাও যদি কেউ চায় তাহলে সাগরদিঘির মতো হয়ে যাবে। একদিনেই ভোকাট্টা। অন্যদিকে ১৫ বছর এই রাজ্যকে ধ্বংস করে দিয়েছেন যিনি সেই তৃণমূল কংগ্রেস, আমি গণনার দিন ১৫ হাজার ১০৫ ভোটে ভবানীপুরে হারালাম। নাম আর নিশান থাকবে না।” পাল্টা জবাব এসেছে বিরোধী শিবির থেকেও। কংগ্রেস নেতা বলেন, “পশ্চিমবঙ্গে বিজেপিরও কোনও অস্তিত্ব নেই। আপনারা তৃণমূলকে ভাঙিয়ে এনে বিজেপি তৈরি করেছেন। আমরা দেখেছিলাম, ২০১৯-এ আপনাদের কতগুলো বুথ এজেন্ট বসেছিলেন। ‘২১-এ দেখেছি, ‘২৬-এও দেখেছি। যে ‘২৬-এ ভোট ট্যাম্পারিং করে নির্বাচন কমিশনের সহায়তায় আপনারা বাংলায় ক্ষমতায় এসেছেন। কংগ্রেস তো মহান দল। ৪৯ বছর তারা ক্ষমতায় নেই। তারপরেও কংগ্রেস দলটা আছে। কংগ্রেসকে কটাক্ষ করতে হচ্ছে। কিন্তু, বিজেপির তৃণমূল ছাড়া আছেটা কী ?”
সম্প্রতি হুমায়ুন কবীরের একটি বক্তব্য় নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়। সেই প্রসঙ্গও টানেন মুখ্য়মন্ত্রী। হুমায়ুন কবীর বলেছিলেন, “এ যত তাড়াতাড়ি পৃথিবী থেকে বিদায় হয়ে যায়, ওপরওয়ালা যেন ওর টিকিট কাটিয়ে দেয়। শরদ পাওয়ারের ভাইপো অজিত পাওয়ারের কীভাবে কিছুদিন আগে মৃত্যু হয়েছে, ইন্দিরা গান্ধীকে কীভাবে যেতে হয়েছে, রাজীব গান্ধীকে কীভাবে যেতে হয়েছে, এঁর এত অহঙ্কার, অহঙ্কারের পতন হবে। আর এঁকে ওইভাবেই এই পৃথিবী ছেড়ে যেতে হবে। পাপ বাপকেও ছাড়ে না।”
অন্যদিকে শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, “সব হিসাব এখানেই হয়। তাই দম্ভ, ঔদ্ধত্য, অহঙ্কার, অত্যাচার যারা করবে, মানুষের মৃত্যু কামনা যারা করে তাদের পতন অনিবার্য। বিধানসভায় উনি গেছেন নওদা থেকে। এই ৫ মাসে নওদার লোককে কী দিয়েছে? একটা ইটও দিতে পেরেছেন? পারেননি। আগামী ৫৫ মাসও পারবেন না।”
রেজিনগরে সভার পর শক্তিপুরে রোড শো করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
Akhruzzaman News: “BJP-র বিরুদ্ধে আমরা ঐক্যবদ্ধ লড়াই করতে চাই”, মন্তব্য আখরুজ্জামানের | ABP Ananda
