Suvendu Adhikari : মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকে ফিরহাদ, কুণাল, নয়না, জাভেদরা, একের পর এক তৃণমূল MLA নবান্ন সভাঘরে
কলকাতা : আরও গভীর হচ্ছে তৃণমূলের অন্দরের সংঘাত। একদিকে ভোটে হারের একমাসের মধ্যেই দলীয় প্রতীক ও নেতৃত্ব ঘিরে জল্পনা তুঙ্গে, অন্যদিকে নবান্নে মুখ্যমন্ত্রীর প্রশাসনিক বৈঠকে হাজির হচ্ছেন একের পর এক তৃণমূল বিধায়ক যাঁরা তথাকথিত মমতা-ঘনিষ্ঠ ও ‘বিদ্রোহী’ শিবিরের নন। কার্যত চমকে দিয়েই নবান্নে প্রশাসনিক বৈঠকে প্রবেশ করলেন ফিরহাদ হাকিম, কুণাল ঘোষরা। এই ঘটনা রাজনৈতিক মহলে চর্চা আরও জোরদার করল। কারণ এই ছবি কার্যত নজিরবিহীন। গত ১৫ বছরে বিরোধী শিবিরের বিধায়করা প্রশাসনিক বৈঠকে ডাকই পাননি।
এরই মধ্যে বুধবার সকাল থেকেই পরতে পরতে নাটকীয় পরিস্থিতির সাক্ষী থেকেছে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা। সকাল ১০টার পর থেকেই একে একে বিধানসভায় আসতে শুরু করেন তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়করা। এরপর বিধানসভার নৌসের আলি কক্ষে তৃণমূলের বিদ্রোহী বিধায়কদের বৈঠক শুরু হয়। বৈঠকের শেষে বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্রনাথ বসুকে সাদা কাগজে লিখে তাদের পরিষদীয় দলের পদাধিকারীদের নাম প্রস্তাব করেন বিদ্রোহী তৃণমূল বিধায়করা। ৮০ জন তৃণমূল বিধায়কের মধ্যে ৫৮ জন বিধায়ক আলাদা করে ‘বহিষ্কৃত’ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম প্রস্তাব করেছেন বিরোধী দলনেতা হিসেবে। চিঠি দিয়েছেন বিধানসভার অধ্যক্ষকে। সমর্থনে লিখিতভাবে সই করেছেন । শুধু তাই নয়, বিদ্রোহী শিবির স্পিকারকে চিঠি দিয়ে দাবি করেছে, “আমরাই আসল তৃণমূল”। এই দাবিকে ঘিরেই রাজনৈতিক উত্তাপ আরও বেড়েছে।
অন্যদিকে, মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর প্রশাসনিক বৈঠকে দেখা গেল তৃণমূলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে। নবান্নে অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত হলেন ফিরহাদ হাকিম, কুণাল ঘোষ, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, জাভেদ আহমেদ খান, অশোক দেব-সহ একাধিক নেতা। সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়, মুখ্যমন্ত্রীর বৈঠকে যোগ দিতে গেলেন বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহাও। তৃণমূলের অন্দরের টানাপোড়েন আগামী দিনে কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই দেখার। তৃণমূলের অস্তিত্বই বা কীভাবে থাকে , তাও বলবে সময়।
১৯৯৮ সালে, কংগ্রেস ভেঙে, তৃণমূল কংগ্রেস তৈরি করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় আসা। এরপর একের পর এক বিজয়। পশ্চিমবঙ্গে লালের ছিটেফোঁটা মুছে ফেলে সবুজ বিপ্লব শুরু করা। আর, ২০২৬ এর বিধানসভা ভোটে গোহারা হারার পর, আঠাশ দিনের মাথায় দলের এই হাল। কার্যত তাসের ঘরের মতো ভেঙে গেল আঠাশ বছরের দলটা। আর জোড়াফুল প্রতীক হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কার মধ্য়েই, সঙ্গে-সঙ্গে দলের সব সাংগঠনিক কমিটি ভেঙে দিল তৃণমূল কংগ্রেস।
