কলকাতা: অনশনের ২১তম দিন। নির্দিষ্ট আসনেই শুয়ে ছিলেন সোনম ওয়াংচুক (Sonam Wangchuk)। হঠাৎ যন্তর মন্তরে সাদা পোশাকে ঢুকে পড়ে পুলিশ। সাদা চাদরে ঢেকে, কার্যত জোর করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হল, সোনম ওয়াংচুকে। বলা হয়, শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক সমাজসৈনিক তথা শিক্ষাবিদের। তাঁকে সেই মুহূর্তে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা শুরু না করা গেলে, প্রাণসংকট হতে পারে। তবে সোনম ওয়াংচুকের শারিরীক অবস্থার যে রিপোর্ট হাসপাতালের তরফ থেকে দেওয়া হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, সোনম ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি জে আংমো।
সোমবার যা পরিকল্পনা ছিল, তাইই হবে… আশ্বাস সোনমের স্ত্রী-র
এদিন সোনম ওয়াংচুকের স্ত্রী সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘মুখে অথবা ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে, কোনোভাবেই ওঁকে (সোনম ওয়াংচুক) কোনও খাবার বা ওষুধ দেওয়া হবে না। আর যা যা দেওয়া হবে, রিপোর্ট অনুযায়ীই দেখাও হবে। আমাদের রিপোর্ট দেখানো হচ্ছে বটে.. সেখানে ওঁর পটাশিয়াম ২.৯। কিন্তু রিপোর্টটা আমাদের দেওয়া হচ্ছে না। স্বচ্ছতার অভাব বলে মনে হচ্ছে, আমি বিশ্বাস করতে পারছি না। আর এটা যদি শুধু শারীরিক ব্যাপারই হত, তাহলে এত পুলিশ কেন? দ্বিতীয়ত, সোনমকে ওঁর ফোনটা পর্যন্ত নিয়ে যেতে দেওয়া হয়নি! এটা হাসপাতাল নাকি জেলখানা? এক পুলিশ রয়েছে ওই ফ্লোরটায়। আর ওর পটাশিয়াম ২.৯ বলা হচ্ছে আর সেই জন্য ওঁকে ইন্ট্রাভেনাস দেওয়ার কথা বলা হচ্ছে। আমি বারণ করছি। কারণ এক সন্ধেয় পটাশিয়াম ৪.৩ থেকে ২.৯-এ নেমে আসবে, চিকিৎসার দিক থেকেও এটা সম্ভব নয়।’
সোনম ওয়াংচুকের স্ত্রী এদিন আরও বলেন, ‘আমরা জানতামই, এভাবেই আন্দোলন প্রতিহত করার চেষ্টা হবে। গত ২০ দিন যে আন্দোলন চলছে.. এটা দেশের ইতিহাসে থেকে যাবে। যে জেন জি-দের নিয়ে এত খারাপ কথা বলা হয়েছে, সেই জেন জি-ই দেখাচ্ছে কীভাবে শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের দাবিগুলোর কথা তুলে ধরা যায়। সোনম ওয়াংচুকের মনে হয়েছিল ছাত্রছাত্রীদের দাবিটা খুব সঠিক, স্বাভাবিক। সেই কারণেই এই আন্দোলনের সঙ্গে উনি যুক্ত হয়েছিলেন, যাতে এই আন্দোলন সঠিক রাস্তায় থাকে। সোনম কাউকে কোনও কষ্ট না দিয়ে, কোনও সমস্যা তৈরি না করে অনশন করছিলেন। সরকারের কাছে কোনও কারণ ছিল না যে ২০ তারিখ যে জনসমাগমের ডাক দেওয়া হয়েছে, সেটাকে আটকানোর। কারণ ওঁরা জানেন, সোমবার সকালে যে যাত্রা বেরবে, সেটা আটকানো আর সম্ভব হবে না। আর সেটা শুধু দিল্লিতে বেরোবে না। গোটা দেশ পরিকল্পনা করছে ওই একই সময়ে মিছিল করবে। সোনম সুস্থ আছেন, আমরা বেসরকারি জায়গা থেকে ফের ওর যাবতীয় টেস্ট করাচ্ছি। সোনম সুস্থ হয়ে যাবে আর মিছিলে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকবেন। আন্দোলন জারি আছে। যদি সোনম যদি মিছিলে না ও হাঁটতে পারে.. ওর হয়ে আমি যাব মিছিলে। আমি নেতৃত্ব দেব। সোমবারের যা পরিকল্পনা রয়েছে, তাইই হবে। সোনমকে জোর করে তুলে নিয়ে আসা মানে, আন্দোলন থামিয়ে দেওয়া নয়।
