কলকাতা: লটারিকাণ্ডে গ্রেফতার পানিহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষ। শুক্রবার তাঁকে আদালতে পেশ করার জন্য় থানা থেকে বের করতেই জনতার হাত থেকে উড়ে আসে ডিম, জুতো ও কাদা। মারা হয় লাথিও। উঠেছে চোর চোর শ্লোগান। অভয়া মামলায় অভিযুক্ত পানিহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষকে ঘিরে শুক্রবার এভাবেই আছড়ে পড়ে বিক্ষোভ। এবার ফের নয়া মামলায় নাম জড়াল তাঁর। লটারির টাকা আত্মসাৎ-এর পর এবার সরকারি খাস জমি দখলের অভিযোগ উঠল তাঁর বিরুদ্ধে। লটারিকাণ্ডে ইতিমধ্যেই তাঁকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শ্যোন অ্যারেস্ট করা হয়েছে অভয়া মামলাতেও।
পানিহাটির ৫ বারের বিধায়ক নির্মল ঘোষ। ২০১১ থেকে টানা ক্ষমতায়। কিন্তু ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটে তাঁকে টিকিট দেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার পানিহাটিতে বিজেপির প্রার্থী, অভয়ার মা-রত্না দেবনাথের কাছে হেরে যান তৃণমূলের হয়ে দাঁড়ানো নির্মল ঘোষের ছেলে তীর্থঙ্কর ঘোষ। এবার একে একে প্রাক্তন বিধায়কের নামে নানা অভিযোগ সামনে আসছে।
কী অভিযোগ ?
২০১৪ সাল থেকে তালা ঝুলছে পানিহাটির ডঃ বিধানচন্দ্র রায় বিদ্যায়তনে। বিশেষভাবে সক্ষমদের জন্য সকুল ও একটি লাইব্রেরি ছিল ৪৭ কাঠা জমির উপর। তার মধ্যে ৩১ কাঠা সরকারি খাস জমি। এই স্কুলের জন্য তৈরি হওয়া ট্রাস্টের সভাপতি ছিলেন পানিহাটির প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষ। স্কুলের প্রিন্সিপাল ছিলেন নির্মল ঘোষের বড় মেয়ে ছন্দা ঘোষ। বিজেপির অভিযোগ, সরকারি খাস জমি বেআইনিভাবে দখল করে নিজের নামে করে নেন নির্মল ঘোষ। স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, ”একটা প্রতিবন্ধী স্কুল, একটা লাইব্রেরি বন্ধ করে দিয়ে গায়ের জোরে, সম্পূর্ণ অনৈতিক পদ্ধতিতে নির্মল ঘোষ এটাকে হস্তগত করেন এবং এখনও পর্যন্ত যে সরকারি অনুদান আসছে এই স্কুলের নামে, সেটা তিনি নিচ্ছেন।”
আরও পড়ুন – ‘তৃণমূলেই থাকতাম…,’ রচনার ‘সাফাই’ ভাইরাল সোশ্যাল মিডিয়াতে, জানালেন দল পরিবর্তনের কারণ
কী অভিযোগ বিজেপির ?
বিজেপি নেতা কৌশিক চট্টোপাধ্যায় জানান, ”নিজের নামে করে নিয়েছে জমি। বিক্রি করে দিয়েছে, প্রোমোটিং শুরু করে দিয়েছে।” যদিও এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন নির্মল ঘোষের মেয়ে, যিনি এই স্কুলের প্রিন্সিপাল ছিলেন। ছন্দা ঘোষ জানান, ”আমরা করিনি, কেউ বিক্রি করেনি।”
