নদিয়া: ফের রক্ত ঝরল বঙ্গে! নদিয়ার নাকাশিপাড়ায় কংগ্রেস নেতা ও তাঁর ছেলেকে নৃশংসভাবে খুন করল দুষ্কৃতীরা। বাইকে বাড়ি ফেরার পথে বাবা-ছেলেকে প্রথমে কুপিয়ে মারার চেষ্টা করা হয়। পরে মৃত্যু নিশ্চিত করতে গুলি করে খুন করা হয়। নিহত হয়েছেন আনিসুর রহমান ও তাঁর ছেলে আবু সুফিয়ান রহমান। আনিসুর রহমান নাকাশিপাড়া ব্লক কংগ্রেসের প্রাক্তন সভাপতি। বেথুয়াডহরী থেকে বাইকে বাড়ি ফিরছিলেন বাবা ও ছেলে। ফেরার পথে নাগাদি রেলগেটের কাছে সশস্ত্র দুষ্কৃতীদের হামলা। বাবা-ছেলের বাইক আটকে এলোপাথাড়ি কোপ, পর পর গুলি। দেহ উদ্ধার করে বেথুয়াডহরি স্টেট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত বলে ঘোষণা করে।
নাকাশিপাড়ায় কংগ্রেস নেতা ও তাঁর ছেলেকে খুন করা ঘিরে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। আনিসুর রহমান প্রদেশ কংগ্রেসের নেতা ও তাঁর ছেলে আবু সুফিয়ান রহমান ছিলেন আইনজীবী। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে যে, বেথুয়াডহরী থেকে বাড়ি ফেরার পথে এই হামলা চালায় দুষ্কৃতীরা। ঘটনার পর তৃণমূলের দিকে আঙুল তুলেছে পরিবার। খরনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের স্বামী জুব্বার শেখ ও তার দলবলের দিকে খুনের অভিযোগ তোলা হয়েছে। খবর পেয়ে নাকাশিপাড়ার পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। খুনের প্রকৃত কারণ ও এই ঘটনার সঙ্গে কারা কারা জড়িত, সেই সব বিষয় খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
পরিবারের এক সদস্য জানিয়েছেন, ”কংগ্রেস পার্টি করতেন। খুব ভাল মানুষ ছিলেন। কোনও ঝামেলা হলে মিটিয়ে দিত, বিনা কিছু ভেবে, প্রত্যেকটা মানুষের পাশে থাকত। এটা হিংসা থেকে করেছে। ও কেন পারছে, আমি কেন পারছি না, এই কারণে খুন করিয়ে দিল। আমরা মেনে নিতে পারব না। আমার বোনের একটাই মাত্র ছেলে। LLB করেছে। তাকে বিদেশে পাঠাত ব্যারিস্টারী করার জন্য। সব ঠিক হয়ে গিয়েছিল। সেই ছেলেকেই খুন করে দিল।”
উল্লেখ্য, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে একই ভাবে খুন হতে হয়েছিল দক্ষিণ ২৪ পরগনার রায়দিঘির এক বিজেপি কর্মীকেও। তিনি বুথ সহ-সভাপতি ছিলেন। বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক আগে ঘটনাটি ঘটে রায়দিঘি বিধানসভার ২১৬ নম্বর বুথের মেনা গ্রামে। মৃত ওই ব্যক্তির নাম কিশোর মাঝি। রাতে গলা কেটে নৃশংসভাবে খুন করা হয় তাঁকে, এমনটাই অভিযোগ উঠেছিল পরিবারের তরফ থেকে।
