Voice of Eastern India

Kunal Ghosh: ‘নেতৃত্বের প্রতি আমার বহু অভিযোগ, রাগ, যন্ত্রণা ছিল…’, হঠাৎই ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট কুণাল ঘোষের


কলকাতা: সই জাল বিতর্ক নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী তথ্য সামনে আনার সঙ্গে সঙ্গেই ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, সন্দীপন সাহাকে বহিষ্কার করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দল বিরোধী কাজের অভিযোগে বহিষ্কৃত করা হয়েছে ২ তৃণমূল বিধায়ককে। এবার সেই ইস্যুতেই নিজের সোশ্য়াল মিডিয়ায় পোস্ট করলেন কুণাল ঘোষ।

নিজের ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে বেলেঘাটার তৃণমূল বিধায়ক লেখেন, ‘আমার অবস্থান স্পষ্ট করে আবার বলি। তৃণমূল কংগ্রেস করি। নেতৃত্বের প্রতি আমার বহু অভিযোগ, রাগ, যন্ত্রণা ছিল এবং আছে। দলের কিছু কাজ, কিছু নেতার ঔদ্ধত্যপূর্ণ অপরিণত আচরণ, লোক চেনার ভুল, অভিজ্ঞ যোগ্য কর্মীদের গুরুত্বহীন করার আমি বিরোধী। আমি স্তাবক, সুবিধাবাদীদের বিরুদ্ধে। ব্যক্তি স্বার্থান্বেষীদের পছন্দ করি না। আমার জীবন অপবাদে ধ্বংস করতে গেছিল এদের কেউ কেউ। জ্ঞানত কোনো অপরাধ করিনি। তখন তো আজকের বিপ্লবীরা কেউ মুখ খোলেনি। তবু, আমি দলের সৈনিক থেকে গেছি।’ তিনি আরও লেখেন, ‘এবার বিধানসভা নির্বাচনে দলনেত্রী আমাকে মনোনয়ন দিয়েছেন। দলের প্রতীকেই আমি এবং আমরা বিধায়ক। ফল প্রকাশের এক মাসও হয়নি। তার আগেই দলে বিদ্রোহ, বিশ্বাসঘাতকতা?? দলের বিরুদ্ধে এত অভিযোগ?? তাহলে আমরা দাঁড়িয়েছিলাম কেন?? আজ দিদি মুখ্যমন্ত্রী হলে তো অনেকে মন্ত্রী হওয়ার লবি করত। এখন হঠাৎ নানা কারণ দেখিয়ে দূরত্ব?? এটা কাপুরুষতা। দলের কর্মপদ্ধতি নিয়ে দলের বৈঠকে খোলাখুলি বলব। প্রয়োজনে প্রকাশ্যে বলব। কিন্তু দলের পাশে থেকে। তাতে কাজ না হলে তারপর দেখা যাবে। তার আগেই ‘ভালো’ সাজার এত চেষ্টা? অনেকের এর পেছনে অন্য কোনো কারণ নেই তো??? যাঁরা দলের কাছ থেকে বহু দায়িত্ব, পদ, ক্ষমতা এতদিন পেয়ে এসেছেন, তাঁদের মধ্যে ক’জন আজ সামনে আছেন? বাকিরা কোথায়? দলের ভালোর সময়ে ক্ষমতা, ছবি, সেলফি; আর খারাপ সময়ে হাঁটু কাঁপছে???? ভয়??? আপনি বিরোধী বিধায়ক হতে ভয়??? সরকারপক্ষে থাকলে সাহসী?? দলের তরফে বিধায়ক হওয়ার পর দলের বৈঠক নিয়ে কোনো বক্তব্য থাকলে দলকে না জানিয়ে গোপনে প্রতিপক্ষের কাছে অভিযোগ? এত বড় বিশ্বাসঘাতকতা!!! কর্মীরা বিচার করবেন। দল আবার ঢেলে সাজাবেন নেত্রী। একটু অপেক্ষা করা গেল না? তৃণমূলকে ভালো-মন্দের পথে রাখার ক্ষমতা বা এক্তিয়ার কোনোটাই আমার নেই। কিন্তু সদ্য বিধায়ক হওয়ার পরেই দলবিরোধী বা দিদির বাইরে কিছু করলে আমার বেলেঘাটার মানুষও আমাকে গদ্দার, বেইমান ভাববেন। নিজের কাছেও ছোট হয়ে যাব। তাই, হতে পারে বিরোধী দল, হতে পারে এখন চাপের মুখে, হতে পারে দল সমালোচিত; তবু মমতা ব্যানার্জির পাশেই থাকব। হতে পারে এর জন্য অনেক ঝড়, হয়রানি, নিগ্রহ আসবে আমার উপর, কিন্তু আমি এখন এই অবস্থানেই থাকব। যিনি আমাকে দলের প্রতীক দিয়ে বিধায়ক হওয়ার দরজা খুলে দিয়েছেন, এখন দলের খারাপ সময়ে তাঁর পাশ থেকে সরে যাব না। কর্মীরা মনে রাখুক এই বলে, আমাকে বিপদে ফেলে একসময় দল আমার পাশ থেকে সরে গেছিল। কিন্তু দলের বিপদে কুণাল ঘোষ দলের পাশ থেকে সরেনি। জয় বাংলা। পুনশ্চ: যদি তৃণমূলের কাউকে কাউকে গাজর দেখিয়ে ভাঙানোর চেষ্টা বিজেপি করে, তাতে আমি বিজেপির দোষ দেখি না। ওরা আগেও ‘যোগদান মেলা’ করেছে। আমরাও ওদের লোককে নিয়েছি। ওরা আজ ক্ষমতায়। ওদের সমালোচনার আগে নিজের ঘরের দিকে তাকাবো। যারা নিজেরা সদ্য জিতে, দল সরকার থেকে সরেছে বলে বিলম্বিত বিবেক জাগরণের চিত্তচাঞ্চল্যে কাতর; দমবন্ধের ছটফটানি, তাদের দিকে দেখব। এরা নির্দল হিসেবে নিজে জেতেননি। মমতাদির প্রতীক, মুখ, প্রচার ব্যবহার করে জিতেছেন। তাদের অনেককে মাথায় তুলল কারা, তাদের প্রশ্ন করব। আগাগোড়া লোক চেনার ভুল হয়েছে, পদ্ধতির ভুল হয়েছে, কাজে ভুল হয়েছে। মস্ত ভুল। তবে অন্য অনেক দল ধোয়া তুলসীপাতা ভাবার কোনো কারণ নেই। যা হবার হবে, আমি মমতাদির সঙ্গে থাকছি।’



Source link

Leave A Reply

Your email address will not be published.