Voice of Eastern India

Kunal Ghosh: ‘গতকালের ঘটনা কলঙ্কজনক’, বিধানসভায় অধ্যক্ষ বলতেই আজ যা করলেন কুণাল ঘোষ…


কৃষ্ণেন্দু অধিকারী, উজ্জ্বল মুখোপাধ্যায়, কলকাতা: বুধবারের পর আজ বৃহস্পতিবারও উত্তাল বিধানসভা। ফের একবার নজিরবিহীন ঘটনার সাক্ষী থাকল বিধানসভা। গতকালের ঘটনা ‘কলঙ্কজনক’, আজ স্পিকারের এই মন্তব্যের পরেই নিজের আসন ছেড়ে অধ্যক্ষের কাছে উঠে গেলেন কুণাল ঘোষ। একইসঙ্গে জড়িয়ে পড়লেন বিজেপি বিধায়কদের সঙ্গে বাদানুবাদে। 

বিধানসভায় আজ কী ঘটল?  

আজ বিধানসভায় ৩টের সময় ক্রীড়া এবং যুব কল্যাণ দফতরের বাজেট বক্তৃতা শুরু হওয়ার কথা ছিল। শুরুতেই ‘কালীঘাট তৃণমূল’-পন্থী বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় (Sovandeb Chattopadhyay) গতকালের বিষয় নিয়ে কিছু বলতে চান বলে জানান। কিন্তু গতকালের ঘটনা নিয়ে কোনও কথা শুনতে রাজি হননি বিধানসভার অধ্যক্ষ রথীন্দ্র বসু (Rathindra Bose)। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “গতকালের বিষয় নিয়ে কোনও আলোচনা হবে না। যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার হয়ে গেছে। বিধানসভার ইতিহাসে এরকম ঘটনা খুব কম ঘটেছে। কলঙ্কজনক অধ্যায়। আর রিপিট করবেন না।” এর পাল্টা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় বলেন, “এরকম ঘটনা আগেও বহুবার হয়েছে।” এরপরেই বিধানসভায় ফের উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।  

এহেন ঘটনার ফলস্বরূপ বিধানসভায় অধ্যক্ষের সঙ্গে বাদানুবাদে জড়ান কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh)। বিধানসভায় (West Bengal Assembly) উত্তেজনার সৃষ্টি হলে অধ্যক্ষ তা থামাতে উদ্যত হন। এর ঠিক পরেই নিজের আসন ছেড়ে অধ্যক্ষের কাছে উঠে যান কুণাল ঘোষ। তৃণমূল বিধায়ক গতকালের ঘটনার কার্যত সাফাই দিয়ে বলেন, “আমি কোনও ধাক্কাধাক্কি করিনি।” এরপর তাঁর গলায় অনুরোধের সুর, “আপনি কলঙ্ক শব্দটা স্যার ঠিক বলেননি।” স্পিকারের উদ্দেশ্যে ‘কালীঘাট তৃণমূল’-পন্থী তৃণমূল বিধায়ক বলেন, “আমি ধাক্কাধাক্কি করিনি। আমি আপনাকে সম্মান করি। আপনি কলঙ্ক কথাটা স্যার প্রত্যহার করে নিন।” এরপর অধ্যক্ষ বলেন, “আমি একদম ঠিক বলেছি। আপনি নিজের জায়গায় বসুন। আপনি কথা শুনছেন না। সভার কাজ পরিচালনা করতে দিচ্ছেন না।” তিনি বারংবার কুণাল ঘোষকে নিজের আসনে বসার জন্য অনুরোধ করেন। পাশাপাশি ‘ঋতব্রত তৃণমূল’-পন্থী ফিরহাদ হাকিমকেও দেখা গেল এগিয়ে এসে কুণাল ঘোষকে বুঝিয়ে তাঁকে নিজের আসনে ফিরে যাওয়ার অনুরোধ করতে।    

বুধবার বিধানসভায় কী ঘটে?   

বুধবার ‘কালীঘাট তৃণমূল’ ও ‘ঋতব্রত তৃণমূল’-এর মধ্যে চলা সংঘাত নজিরবিহীনভাবে বিধানসভার অন্দরেও দেখা যায়। বিধায়ক আখরুজ্জামান যখন নিজের বক্তব্য রাখতে শুরু করেন, তখন কুণাল ঘোষ তাঁর সামনে গিয়ে প্রতিবাদ করেন। কুণাল ঘোষের অভিযোগ, ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁর নাম বক্তাদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এই অভিযোগ ঘিরে দু’পক্ষের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। অধিবেশন কক্ষে উত্তেজনার পরিস্থিতি তৈরি হয়। বাকবিতণ্ডা বাড়তে থাকলে মার্শাল দিয়ে তাঁকে বের করে দেওয়া হয়। এমনকি, গতকালের জন্য কুণাল ঘোষকে সাসপেন্ড করে দেওয়া হয়।   



Source link

Leave A Reply

Your email address will not be published.