কলকাতা: একদিকে কুণাল ঘোষের (Kunal Ghosh) ইস্যুতে উত্তাল বিধানসভা। অন্যদিকে, ২২ জুলাই বুধবার লোকসভা থেকে সাসপেন্ড হয়েছেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)। ফলে কিছুটা হলেও অস্বস্তিতে ‘কালীঘাট তৃণমূল’। মহিলা সাংসদদের বিরুদ্ধে আপত্তিকর ও অসংসদীয় শব্দ ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। এরপর আজ তাঁকে কার্যত তুলোধোনা করলেন রাজ্যের পঞ্চায়েত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)। পাশাপাশি আক্রমণ করলেন তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষকেও।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাসপেনশন নিয়ে তাঁকে কটাক্ষ করেছেন দিলীপ ঘোষ। মন্ত্রীর কথায়, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অন্য সাংসদ এর আগেও অভিযোগ করেছেন। এমনকী ২১ জুলাইয়ের (21 July) প্রসঙ্গ তুলে ধরে দিলীপ ঘোষ বলছেন, নেত্রীর সঙ্গে বাদানুবাদে জড়িয়ে নাটক করেছেন তিনি। চাঁচাছোলা ভাষায় আক্রমণ হেনে রাজ্যের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেন, “এর আগে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে তাঁর নিজের দলের অন্য সাংসদ অভিযোগ করেছেন। দলের মধ্যেই তাঁকে নিয়ে অনেক অভিযোগ রয়েছে। তিনি যে একজন অভদ্র লোক সেটা শহিদ মঞ্চেও দেখিয়েছেন।” একুশে জুলাইয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাদানুবাদের প্রসঙ্গ টেনে এনে বিজেপি নেতা বলেন, “শহিদ মঞ্চে নেত্রীর সঙ্গে বাদবিবাদ করেছেন। ড্রামা করেছেন।”
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রসঙ্গ ধরেই এবার তিনি নিশানা করেন কুণাল ঘোষকে। নাম না করে ‘কালীঘাট তৃণমূল’ পন্থী বিধায়ককে নিশানা করে তিনি বলেন, “বিধানসভায় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়েরই একটি কার্বন কপি তৈরি হয়েছে। যাকে চ্যাংদোলা করে বাইরে ফেলতে হচ্ছে। এমনি কথা বললে, গলা ধাক্কা দিলেও ওঁরা বাইরে যাচ্ছেন না। এভাবে রাজনীতিতে টিকে থাকা যায় না। তারপর উনি বাঁচার চেষ্টা করছেন। একজন ভাষণ দিচ্ছেন, কেন তাঁর নাম বলেননি, তাই তাঁকে বিরক্ত করছেন। সেই সমস্যা বাইরে মিটিয়ে নেওয়া উচিত। স্পিকার (Speaker) কেন এটা সহ্য করবেন?”
প্রসঙ্গত, বুধবার গোটা বাদল অধিবেশনের (Parliament Monsoon Session) জন্য সাসপেন্ড হয়ে আজ অভিনব প্রতিবাদ করতে দেখা গেল কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে। গলায় প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে একাই বিক্ষোভ দেখান তিনি। সেখানে লেখা, ‘ভাজপাকে সাথ সদন মে, ২০ গদ্দার মওজুদ হ্যায়’। সুর চড়িয়ে তৃণমূল সাংসদ বলেন, “একলা কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কেই বিজেপি ভয় পায়। একলা কল্যাণ ব্যানার্জি ইজ এনাফ ফর দিস বিজেপি পিপল। ওরা জানে যে এই লোকটাকে বের করে রাখতে পারলে এখন অন্তত একটু নিঃশ্বাস, প্রশ্বাস পাবে। একলাই কাফি আছি।” এরপর ফের একবার ‘লড়াই জারি’-র আওয়াজ তুলে তিনি বলেন, “লড়াই বিজেপির বিরুদ্ধে থাকবে। লড়াই গদ্দারদের বিরুদ্ধে থাকবে। লড়াই বেইমানদের বিরুদ্ধে থাকবে। যে বেইমান, পশ্চিমবঙ্গের ২০ জন বেইমানকে চিহ্নিত করা হচ্ছে, সারা দেশ দেখছে। এসব বেইমানদের জন্য বিজেপির সাহস বেড়ে গেছে। বিজেপিতে যে যার মতো কমেন্ট করবে। গদ্দার কোথাকারের।”
