কলকাতা: সপ্তাহের মাঝে বুধবার কাজের দিনে আলিপুরের (Alipore) একটি সরকারি অফিসে আগুন লাগা নিয়ে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পরিষদ ভবনে একাধিক তলে আগুন লাগে। তড়িঘড়ি সেই আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে দমকল। সাময়িকভাবে নিয়ন্ত্রণে থাকলেও দুপুর সাড়ে ১২ টা নাগাদ নতুন করে আগুন লাগে। শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী, বিকেল ৪টে নাগাদ ফের দাউদাউ করে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। ৬ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনও দাউদাউ করে জ্বলছে আগুন। জানা যাচ্ছে, এই বহুতলের অষ্টম তলে সর্বশিক্ষা অভিযানের অফিসে আগুন লাগে। তার পাশে মিড ডে মিলের অফিসেও আগুন লেগে যায়। দমকল ক্রমাগত চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া সত্ত্বেও আগুনের লেলিহান শিখা এই দুই তলা কার্যত গ্রাস করে নিয়েছে।
এদিকে, আলিপুরের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পরিষদ ভবনে আগুন লাগার ঘটনায় অন্তর্ঘাতের অভিযোগ এনেছেন বিজেপি নেতা রাকেশ সিং (Rakesh Singh)। তাঁর অভিযোগ, “আগুন লাগানো হয়েছে। ষড়যন্ত্র করে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের কাছে আবেদন, এর নেপথ্যে যে যে আছে তাদের প্রকাশ্যে নিয়ে আসুন। এটা শুধু আমার সন্দেহ নয়, জনতাও এই একই সন্দেহ করছে।” এরপর সরাসরি নাম নিয়ে বিজেপি নেতা রাকেশ সিং দাবি করেন, “এর পিছনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) ও জাহাঙ্গির খান (Jahangir Khan)…লোকজন নিয়ে পাপ ঢাকতে এই কাজ করানো হয়েছে। গভীর রাতে ষড়যন্ত্র করে বা দু-চারদিন আগে থেকে ষড়যন্ত্র করে এই জিনিসটা করানো হয়েছে। এর নেপথ্যে যে যে আছে তাদের প্রকাশ্যে নিয়ে আসুন।” এরপর প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে রাকেশ সিং বলেন, “সকালবেলা AC চলছিল না, কিছু চলছিল না – আগুন লাগল কী করে?”
বিজেপি নেতার রাকেশ সিংয়ের মতোই সন্দেহ প্রকাশ করেছেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার (Sukanta Majumdar)। তাঁর কথায়, “সম্ভাবনা আছে। আগুন লাগিয়ে সব ফাইল পুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা কিনা সেই বিষয়ে তদন্ত হওয়া উচিত।” প্রসঙ্গত, এখানেই রয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার কর্মাধ্যক্ষ জাহাঙ্গির খানের অফিস। আর সেখানেই বিজেপির অভিযোগ যে তথ্য প্রমাণ লোপাটের জন্যই এই আগুন লাগানো হচ্ছে।
কীভাবে লাগল আগুন? ঠিক কী পরিস্থিতি হয়েছিল? জানা যাচ্ছে, প্রথম এই বহুতলের তৃতীয় তলে আগুন লেগেছিল। সেখানে নীচে থেকে জল দেওয়া সম্ভব হচ্ছিল। কিন্তু অষ্টম তলায় আগুন নেভানো সম্ভব হচ্ছিল না। তারপর অন্য পদ্ধতি অবলম্বন করে সেই আগুন নেভানোর চেষ্টা করা হয়। ইতিমধ্যেই আগুন লাগে সর্বশিক্ষা অভিযানের অফিসে। ওই দফতরের এক কর্মী প্রায় কেঁদেই ফেললেন। বললেন, “আমাদের দফতরটা সম্পূর্ণ পুড়েই গেল। এত নথি। এমন ভাবে ক্ষতি হয়ে গেল। এই আগুন লাগা মেনে নিতে পারছি না।”
Swarup Biswas : প্রাক্তন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভাই স্বরূপ বিশ্বাসের বাসভবনে পুলিশ
