Voice of Eastern India

Annapurna Bhandar: অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম নিয়ে ‘সন্তুষ্ট’ মহিলারা? ফর্ম পূরণে তথ্য জানাতে চাইছেন না অনেকেই?


কলকাতা: কেউ বলছেন খুব সহজ, কেউ আবার ১২ পাতার ফর্ম ফিলআপ করতে খুব একটা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন না। অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম বিলি শুরু হতেই আবেদনকারীদের মধ্যে দেখা গেল মিশ্র প্রতিক্রিয়া। এরই মধ্যে গ্রামে গিয়ে ফর্ম ফিলআপে সহায়তা করলেন ছাতনার বিজেপি বিধায়ক সত্যনারায়ণ মুখোপাধ্যায়। 

বুধবার রাতেই অনলাইনে আপলোড করে দেওয়া হয়েছে অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম। ১২ পাতার ফর্মে, নিজের ও পরিবার সম্পর্কে নানা তথ্য দিতে হচ্ছে আবেদনকারীদের।

যেমন, পরিবার কি মাসিক রেশন তোলে?

৩টির বেশি পাকা ঘর আছে কি? 

পরিবারের সব সদস্য মিলে মোট জমির পরিমাণ কত? 

পরিবারে কারও চারচাকা গাড়ি আছে কি?

স্বাস্থ্যবিমা আছে কি?

পরিবারের সদস্যরা কী ধরনের কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত?

ইতিমধ্য়ে অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম ফিল-আপ করেছেন 

যাদবপুরের বাসিন্দা তনুশ্রী কর্মকার থেকে বাঘাযতীনের বাসিন্দা গৃহবধূ সুনন্দা মালাকার। তিনি বলেন, ‘খুব কঠিন না। যা যা আপনাদের কাছে ডকুমেন্টস আছে সেই অনুযায়ী এটা ফিলআপ করতে হবে। যাদের পাওয়ার দরকার তাঁরা পাবেন। অযথা কাউকে দিয়ে জিনিসটা নষ্ট হবে না। আমার মনে হয় এটা সুষ্ঠু পথে এগোচ্ছে’। 

আরেক অন্নপূর্ণা যোজনায় আবেদনকারী সুনন্দা মালাকার বলেন, ‘না মোটেও কঠিন নয়। আমি অনলাইন থেকে এটাকে ডাউনলোড করে নিয়েছি। ডাউনলোড করে নেওয়ার পর ফিলআপ করছি। যবে জমা দেওয়ার জমা দিয়ে দেব। স্বচ্ছভাবে করার জন্য যেটুকু প্রক্রিয়া রয়েছে, যেটুকু করা দরকার সেটুকুই করছি। সমস্ত সোজা ভাষায় লেখা’। 

তবে অনেকে এক্ষেত্রে ভিন্নমত। সন্তোষপুরের বাসিন্দা বলেন, ‘অন্নপূর্ণার ফর্ম ফিলআপ করব না। ১২ পাতার ফর্ম। বাড়ির দলিল চাইছে। পাকা বাড়ি কিনা জানতে চাইছে। হাজব্যান্ড ডিটেলস চাইছে এগুলো দেওয়া যায় নাকি?’  বিজয়গড়ের বাসিন্দা গৃহবধূ পূজা সাহার মন্তব্য, নিজের সম্পর্কে তথ্য দিতে কোনও আপত্তি নেই। তিনি বলেন, ‘যে ফর্মটা এসেছে সেটা খুবই সহজ। মানুষ খুব ভয় পাচ্ছে, কী দিতে হবে, কী ফিলআপ করতে হবে আদৌ পাব কিনা। এটাই বেস্ট। আমি মনে করি এটাই বেস্ট’।

পঞ্চসায়রের বাসিন্দা মুনমুন দে আবার অন্য কথা বলছেন। তিনি বলেন, ‘শুধু আমরা কেন বহু প্রান্তিক মানুষই দিতে পারবে না। এত তো তথ্য দেওয়ার দরকার ছিল না। আমাদেরকে ভোটের আগে যেই ফর্ম দেখানো হয়েছিল সেটায় তো এক কিছু ছিল না’। 

যদিও, সমস্ত আবেদনকারীকেই আশ্বস্ত করেছেন রাজ্যের নারী ও শিশুকল্যাণ মন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রথমে ভেবেছিলাম ফর্মটা আমরা আনব না। যারা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পান তাঁরাই অন্নপূর্ণা পাবেন। কিন্তু শুভেন্দু অধিকারী যেমনটা বলেছেন প্রচুর ভুয়ো লোক ঢুকে আছে এর মধ্যে। তাই ফর্মটা আনতে হয়েছে’।

বৃহস্পতিবার বাঁকুড়ায় অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম ফিলআপে সহায়তার জন্য গ্রামে ঘুরলেন বিজেপি বিধায়ক। বিডিও-কে সঙ্গে নিয়ে আদিবাসী গ্রামে গিয়ে ফর্ম ফিলআপে সহায়তা করলেন ছাতনার বিজেপি বিধায়ক সত্যনারায়ণ মুখোপাধ্যায়। উত্তর ২৪ পরগনার একাধিক ব্লকেও শুরু হয়েছে অন্নপূর্ণা যোজনার ফর্ম বিলি। 



Source link

Leave A Reply

Your email address will not be published.