Abhishek Banerjee: অভিষেকের ‘সাংসদ পদ’ বাতিল হতে পারে? ‘বিদেশে গিয়ে দ্বীপে থাকা ভাল, বিনয় মিশ্র ওর বন্ধু আছে ওখানে’, বলছেন কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ!
কলকাতা: ভেঙে গিয়েছে তৃণমূল। দলের জয়ী ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে ৫৮ জন বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। তাঁদের নিশানায় মূলত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ই। যদিও নতুন এই তৃণমূলের নেতারা পরিষদীয় দলের মুখ্য উপদেষ্টা হিসাবে চাইছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেই। তবে, শুধু তাঁরা নং, আরও অনেক তৃণমূল নেতাই ফেটে পড়ছেন ক্ষোভ। অনেকেই আবার বলছেন, সাংসদ পদ চলে যেতে পারে ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের।
আরও পড়ুন: ‘দিদির হাতে আর দল নেই, দিদির হাত থেকে দল অনেক আগে বেরিয়ে গিয়েছে: শিউলি সাহা
তৃণমূলের দীর্ঘদিনের সৈনিক, পুরোনো নেতা, আদি তৃণমূলের অংশ, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের প্রাক্তন মন্ত্রী কৃষ্ণেন্দুনারায়ণ চৌধুরী। আর তৃণমূল যখন ভেঙে টুকরো টুকরো, তখন তাঁর গলায় শোনা গেল চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক ও ইংরেজবাজার পুরসভার চেয়ারম্যান বললেন, “কীভাবে তৃণমূলের গরিমা সব নষ্ট হয়ে গেল। তিল তিল করে দলটাকে শেষ করে দিল অভিষেক। কর্পোরেট কালচার নিয়ে এল। অন্যান্য কালচার নিয়ে এল। তোলাবাজি, মাফিয়া কালচার নিয়ে এল। সব কালচারকে এখানে একসঙ্গে মিশিয়ে দিল। এমনিই তো মনে হয় পার্লামেন্টে কমিটি প্লেস হবেই, ওর সদস্যপদ চলে যাবে সংসদের। তখন আর কী করবে? আমার মনে হয় রিটায়ার করে ওর বিদেশে চলে যাওয়াই ভাল। বিনয় মিশ্র ওর বন্ধু, আছে তো ওখানে। ওখানে থেকে গেলে, কোন দ্বীপ আছে, দ্বীপে থাকা ভাল। এখানে থাকতে পারবে না ও।”
দলত্যাগী তৃণমূল নেতা বিশ্বজিৎ দেব আবার বলছেন, “অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে আমি দায়ী করব। তার সঙ্গে আমি মমতাদিকেও দায়ী করব। এঁরা দুজনে দায়ী। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নজরের বাইরে গিয়ে এই দুর্নীতি হয়েছে এই কথা কেউ বিশ্বাস করবে না। অসম্ভব ব্যাপার। এত বড় একটা ঘটনা অভয়া, আর জি করের ঘটনা, মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে ওঁর উচিত ছিল আইনের শাসন নেওয়া। সেটা না করে উনি অপরাধীদের এবং যাদের নামে অভিযোগ, তাদের গার্ড করার চেষ্টা করেছেন। দলটায় এত দুর্নীতি, এত চুরি, এত বাটপাড়ি, এর আগে পশ্চিমবঙ্গের ইতিহাসে হয়নি।”
রাজ্য বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন, “একটা তদন্ত চলছে, জিজ্ঞাসা চলছে। আমাকে ও সন্দীপন সাহাকে আগামিকাল জিজ্ঞাসাবাদ করবে সিআইডি। কারণ, আমরা যা দেখেছি, যে যারা সেদিনের বৈঠকে ছিলেন না, তাঁদের নামও বড় হাতের অক্ষরে লেখা রয়েছে। আর সেই কারণেই তদন্ত চলছে। আগামিকাল আমাকেও ডাকা হয়েছে। সেই নিয়ে কোনও মন্তব্য করব না। কিন্তু ব্যাপারটা হল, ১৮ তম বিধানসভার সঙ্গে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দূর দূরান্ত পর্যন্ত কোনও সম্পর্ক নেই। এবং লোকসভার সদস্য হিসাবে তিনি একটি জালি ডকুমেন্ট দিয়ে একটা চিঠি পাঠিয়েছিলেন। এটা লোকসভার স্পিকারের বিশেষাধিকার, হাউসের প্রধান হিসাবে তিনি সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। কোনও নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসাবে এমন কিছু কেউ করলে, সেটা প্রমাণিত হলে স্পিকারের ক্ষমতা আছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের লোকসভার সদস্যপদ বাতিল করার।”
অন্যদিকে রাজনীতি ছাড়ার ইচ্ছা প্রকাশ করলেন রাজ্যের প্রাক্তন পরিবহনমন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী। তিনি বললেন, “অভিষেক যে যে পদক্ষেপ করেছে, যে স্টাইলে করেছে, সেটা কাউকে কাউকে হয়তো ব্যথিত করেছে। আমার মনে হয়েছে বিধায়ক বা সাংসদ, কথা বলার যে অধিকার বা স্কোপ, তার অভাব ছিল। তার জন্যই কিন্তু এই অবস্থা।”
