Voice of Eastern India

Seuli Saha: দিদির হাতে আর দল নেই, দিদির হাত থেকে দল অনেক আগে বেরিয়ে গিয়েছে: শিউলি সাহা


কলকাতা: তৃণমূলের অভ্যন্তরে বিদ্রোহের আগুন। একে যদিও বিদ্রোহ বলছেন না বিধায়ক শিউলি সাহা। আজ শিউলি সাহা সহ তৃণমূলের ৫৮ জন বিধায়ক অধ্যক্ষকে চিঠি দিয়েছেন। যেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে বিরোধী দলনেতা হিসাবে তাঁরা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে চান। আর সেটা মেনেও নিয়েছেন অধ্যক্ষ। তারপর এবিপি আনন্দের মুখোমুখি হয়েছিলেন বিধায়ক শিউলি সাহা। কী বললেন তিনি?

আরও পড়ুন: ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উপদেষ্টা হিসাবে থাকুন, কিন্তু যখন দেখি অন্য কারও হাতে দল চলে গিয়েছে…’, ক্ষোভ উগরে দিলেন বিধায়ক শিউলি সাহা

প্রশ্ন: এই বিদ্রোহের পথে কেন হাঁটলেন আপনারা?

শিউলি সাহা: বিদ্রোহ নয়, এটা করতে আমরা বাধ্য হয়েছি। দল যা করতে পারেনি, আমরা সেই বিরোধী দলনেতা ও মুখ্য সচেতক ঠিক করেছি। দল করতে পারেনি মানে, বারবার নেত্রী ডেকেছেন, মিটিং করেছেন। সই নিয়ে বিতর্ক, সিআইডি তদন্ত, এর পর দলের সংখ্যাগরিষ্ঠ বিধায়কের সঙ্গে কথা বলে আমরা সকলের ঐক্যমতে আমরা বিরোধী দলনেতা ও মুখ্য সচেতক ঠিক করেছি।

প্রশ্ন: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর এত রাগ কেন?

শিউলি সাহা: না, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর রাগ নয়। দিদির হাতে আর দল নেই। দিদির হাত থেকে দল অনেক আগে বেরিয়ে গিয়েছে।

প্রশ্ন: তাহলে বলছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে তৃণমূল কংগ্রেস নেই?

শিউলি সাহা: না নেই। থাকলে কি তিনি বলতেন, উঠে দাঁড়িয়ে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদককে হাততালি দিয়ে সম্মানিত করার? আমি জানি না কেন? সেদিন বক্সীদা হাততালি দিচ্ছেন। ববিদাও হাততালি দিচ্ছেন। আমিও দিচ্ছি। ৮০ বছরের বৃদ্ধ সমরদাও দিচ্ছেন। সবাই মিলে। আমার তো মনে হয়েছিল সেদিন গিয়ে, যে এত কঠিন পরিস্থিতিতে যেসব কর্মীরা জিতিয়েছে, রক্ত-ঘাম ঝরিয়েছে, যারা জিতে এসেছি, যারা জিততে পারিনি, সেই ২৯৪টা বিধানসভা কেন্দ্রের কর্মীদের সম্মানিত করার কথা দিদির বলা উচিত ছিল হাততালি দিয়ে।

আরও পড়ুন: ‘অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ওই সং আছে, গঠন নেই’, তীব্র আক্রমণ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের

প্রশ্ন: আপনারা মনে করছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্যই দলের এই অবস্থা?

শিউলি সাহা: নিশ্চয় তাই। দিদি যতদিন ছিল, আমরা প্রথমে ২০১১-তে ৩৪ বছরের সিপিএমকে সরিয়ে দিদি তৃণমূলকে নিয়ে এলেন। ২০১৬-তে আমরা মানুষের কাছ থেকে ম্যান্ডেট পেয়েছি। ২০২১-এ দেখতে পাচ্ছেন, ২০১৬-এর কিছু পর থেকে শুরু হল। কথা বলার জায়গা নেই। অভিযোগ জানানোর স্পেস নেই। দিদি কোনও সিদ্ধান্ত নিলে সেটা ইমপ্লিমেন্ট হচ্ছে না। বহু ক্ষেত্রে দিদি বলেছে এটা করে দে। সেটা করা হয়েছে। তারপর তাকে বদলে দিয়ে দিদির নির্দেশকে অমান্য করে অভিষেকবাবু যেটা বলেছে, সেটাই করা হচ্ছে।

প্রশ্ন: এটা কি মনে করছেন অন্ধ স্নেহ?

শিউলি সাহা: দিদি বুঝতে পারবেন। দিদি যদি একটু বোঝেন, একটু যদি চেষ্টা করেন। আমাদের না বকে, না সরিয়ে দিয়ে। আমাদের কথাগলো যদি একটু শোনেন। আমরা আজও দিদিকে অভিভাবক ভাবি। এখনও দিদি আমাদের অন্তরে। দিদিকে শ্রদ্ধা একটুও কমেনি। কমবে না। দিদি একটু ভাবুক।

প্রশ্ন: কিন্তু দিদি যাকে দল থেকে বহিষ্কার করলেন, তাঁকে আপনারা নেতা নির্বাচিত করলেন, এটা কি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মেনে নিতে পারবেন?

শিউলি সাহা: আমি দিদিকে আপনাদের মাধ্যমে বলছি। সামনে গিয়ে বলার সুযোগও নেই। তিনি শুনবেনও না। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় যেদিন দলে আসেন, সেদিন দলে দাঁড়িয়ে কি সিদ্ধান্ত নেওয়াহয়েছিল যে তাঁকে দলে নেব কি না? তিনিই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। নেবেনও। রাজ্য সভায় কারা যায়? একদম উপরের দিকের মানুষরা। তাঁকে রাজ্যসভায় কে পাঠিয়েছিলেন? দলনেত্রীই। INTTUC-এর রাজ্য সভাপতি, কে করেছিলেন? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উলুবেড়িয়ার বিধায়ক কে করেছেন? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজকে এই কথা বললেন হবে? আমি তো বুঝি না।

প্রশ্ন: তার মানে তাঁকে তো পছন্দ করতেন, কিন্তু অন্যায় করেছেন বলে হয়তো সরিয়ে দিয়েছেন?

শিউলি সাহা: অন্যায়টা কী করেছেন? তিনি এতবার তাঁকে পোস্ট দিলেন। তাঁকে রাখলেন। আর সে বিরোধী দলনেতা হওয়ার প্রস্তাব আসতেই সে খারাপ হয়ে গেল? অদ্ভূত কথা। আমরা তো দিদির ছবি আর সিম্বলেই জিতেছি। দিদি যদি মেনে নেন এটাকে। আখরুজ্জামান কে? আপনারই তো বিধায়ক। শিউলি সাহা। ৬ বার টিকিট দিয়েছেন আপনি। ৬ বার বিধায়ক হয়েছি। আপনারই সৈনিক।

প্রশ্ন: যাঁর দল তাঁকে আপনি উপদেষ্টা করছেন?

শিউলি সাহা: কোথায় অন্ধ স্নেহ আপনার কাজ করছে?

প্রশ্ন: দাবি করবেন অভিষেক বন্দ্যোপাধায়কে সরানোর?

শিউলি সাহা: সেটা ওঁর ব্যাপার। আমি শুধু বলব ভাবুন একটু। ভেবে সিদ্ধান্ত নিন। আমি বলব ৮০ জনের ৬০ জন এক রায় দিয়েছে। বাকি ২০ জনের, আমি এখন নাম বলব না। একটু আড়ালে গিয়ে জিজ্ঞাস করুন, একই কথা বলবে। সবাইকে নিয়ে থাকতে চাই। ৮০ জনই চলে আসুন। দিদি আমাদের পরামর্শ দিন। আমরা ফ্লোরে লড়াই করব। বিজেপির বিরোধিতা করব।



Source link

Leave A Reply

Your email address will not be published.