কৃষ্ণেন্দু অধিকারী, কলকাতা : বিদ্রোহের ধাক্কায় ডুবছে তৃণমূলের তরী ? স্পিকারের কাছে জমা পড়তে পারে বিদ্রোহী ব্লকের চিঠি ? বিধানসভায় পৌঁছে গেলেন তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, তৃণমূলের পরিষদীয় দলে ভাঙন কি সময়ের অপেক্ষা ? বিধানসভায় ঋতব্রত ঢুকতেই পাল্টা চিঠি তৃণমূলের। স্পিকারের সচিবালয়ে চিঠি দিলেন কুণাল ঘোষ, অসীমা পাত্ররা। সূত্রের খবর, ৭৮ বিধায়কের সই ছাড়া বিরোধী দলনেতার নাম প্রস্তাব করা হয়েছে। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের হয়ে নতুন করে চিঠি দেওয়া হয়েছে তৃণমূলের তরফে।
বিস্তারিত…
টান টান উত্তেজনা আজ বিধানসভায়। তৃণমূলের পরিষদীয় দলের বিরোধী দলনেতা কে হবেন তা নিয়ে কাল থেকে যে পরতে পরতে উত্তেজনা, আজ সেই উত্তেজনা একেবারে বিধানসভা চত্বরে চলে এসেছে। বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় তিনি কিছুক্ষণ আগেই এসেছেন বিধানসভায়। তিনি ভিতরে রয়েছেন। তবে, স্পিকার আজ নেই। বিধানসভার প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি আছেন। সম্ভবত তাঁরই কাছে গেছেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।
প্রসঙ্গত, বারবার একাধিক তৃণমূল বিধায়কের সঙ্গে বৈঠক করেছেন ঋতব্রত। কোথাও হোটেলে, তো কোথাও অন্য এক বিধায়কের বাড়িতে, কখনো এমএলএ হস্টেলে বৈঠক করেছেন কেউ কেউ। সূত্রের খবর, একাধিক বিধায়কের সঙ্গে বৈঠক করে ৫০-এর মতো বিধায়কের সই তাঁরা সংগ্রহ করেছেন। যাতে নতুন করে তাঁরা সই বিধানসভায় জমা দিতে পারেন। সেই চিঠি ঋতব্রত জমা দিয়েছেন কি না তা কিছুক্ষণ পরেই স্পষ্ট হবে।
কিন্তু, তারমধ্যে কিছুক্ষণ আগেই বিধানসভায় ঢোকেন কুণাল ঘোষ এবং অসীমা পাত্র। ডেরেক ও’ব্রায়েনের গাড়িতে আসেন কুণাল। এদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ রাস্তায় নেমেছেন। সেখান থেকে কুণাল ঘোষ, অসীমা পাত্র-রা এসে তড়িঘড়ি বিধানসভায় একটা চিঠি দিয়ে যান। যদিও সেই চিঠি সম্পর্কে বিশদে মুখ খুলতে চাননি তৃণমূল নেতৃত্ব। কিন্তু কুণাল ঘোষ জানিয়েছেন, যেহেতু আজ স্পিকার নেই, সচিবালয়ের টেবিলে সেই চিঠি রেখে এসেছেন তাঁরা। ভিডিওগ্রাফি করেছেন গোটা বিষয়টা। কিন্তু, কী আছে সেই চিঠিতে ? তৃণমূল সূত্রে জানা যাচ্ছে, বহিষ্কৃত দুই বিধায়ক বাদে, বাকি ৭৮ জনের কারো সই ছাড়া দলের তরফ থেকে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা করার প্রস্তাব দিয়ে নতুন করে চিঠি তৃণমূলের তরফ থেকে আজ বিধানসভায় জমা দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে তৃণমূলের তরফে একটা তৎপরতা দেখা যাচ্ছে।
