কৃষ্ণেন্দু অধিকারী, কলকাতা : বিধায়কদের সই জালিয়াতির পরে আরও বিপাকে তৃণমূল কংগ্রেস ! তৃণমূলের নতুন চিঠির বৈধতা নিয়েই প্রশ্ন তুললেন মন্ত্রী তাপস রায়। তিনি বলেন, “৬০ জনের সই সম্বলিত একটা চিঠি বোধহয় দেওয়া হয়েছিল। সেই চিঠিতে সই ছিল অনেক বিধায়কদের যা জাল। সেই সই কারা করলেন ? অন্য বিধায়করা করলেন ? না, বিধায়কদের বাইরে তৃণমূলের কোনও পদাধিকারী বা অন্য কেউ করলেন, সেটা নিয়ে হেয়ার স্ট্রিট থানায় একটি মামলা হয়েছে। সিআইডি-র হাতে কেস দেওয়া হয়েছে। হ্যান্ড রাইটিং এক্সপার্ট, সিআইডি তার তদন্ত করছে। এগুোল মাথায় রাখতে হবে তৃণমূলীদের। সমস্যা হচ্ছে, তৃণমূলীরা বেশিরভাগই কিছু জানে না। না জেনে যেটা পারে সেটা বলে দেয়। সুতরাং, রীতি-নীতি জানতে হবে। আজ স্পিকার নেই। স্পিকার কাল আসবেন। তখন বোঝা যাবে, দেখা যাবে, কথা বলা যাবে। সুতরাং, নিয়ম-নীতি রয়েছে। সবচেয়ে বড় কথা, এটার উত্তর ওরা দিক, ওরা এরকম বেহায়া বা নির্লজ্জ কেন যে বিধায়কের সই জাল হচ্ছে এটা বাংলায় কেন, ভারতের কোনও বিধানসভায় আমি আজ পর্যন্ত হয়েছে বলে শুনিনি। বিধায়করা বলছেন, এটা তাঁদের সই নয়। এটা যদি প্রমাণিত হয় (সই জাল করা হয়েছে) যে কোনও এমএলএ করেছেন, তাঁর মেম্বারশিপ যাবে এবং শাস্তি হবে। আর যদি বাইরের কেউ করে থাকেন, তাহলেও তাঁর শাস্তি হবে।”
তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, গতকাল তৃণমূলের তরফে চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। আজও কুণাল ঘোষ ও অসীমা পাত্ররা এসেছিলেন …। এ প্রসঙ্গে তাপসের বক্তব্য, “তাহলে তৃণমূল কত চিঠি দেবে ? আগে বোধহয় শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় দিয়েছিলেন। তারপরে আজ কুণাল ঘোষ দিলেন। তারপরে ঋতব্রত দিচ্ছেন। এ তো চিঠির লড়াই চলছে তৃণমূলেরই মধ্যে। আমরা খুশি। খুশি হব না ? তৃণমূল ভাঙছে। বেজায় খুশি।”
একদিকে আজ যখন বিধানসভায় আসেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়, অন্যদিকে তখন বিধানসভায় আসেন কুণাল ঘোষ এবং অসীমা পাত্র-রা। ডেরেক ও’ব্রায়েনের গাড়িতে আসেন কুণাল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ রাস্তায় নেমেছেন। সেখান থেকে কুণাল ঘোষ, অসীমা পাত্র-রা এসে তড়িঘড়ি বিধানসভায় একটা চিঠি দিতে আসেন। এ প্রসঙ্গে কুণাল বলেন, “গতকাল আমরা একটা চিঠি দিয়েছিলাম। অফিসেই জমা পড়েছে। তাঁরা খুব নিয়মমাফিক চিঠিটি গ্রহণ করেছেন। মানে, চিঠিটি জমা নিয়েছেন এবং রিসিপ্ট কপি দিয়েছেন। আজ আমরা যখন দিতে এলাম তখন আমাদের বলা হল, স্পিকার গতকালের চিঠির পর মৌখিকভাবে নির্দেশ দিয়েছেন, কোনও চিঠি নেওয়া যাবে না। এ তো হাসব না কাঁদব ! এ তো অবাক কাণ্ড! যাইহোক, আমরা সেটা দলের নেতৃত্বকে জানাই। ডেরেক ও’ ব্রায়নেও আমাদের সঙ্গে আছেন। আমরা এখন সেই চিঠিটি…যেটি ওঁরা নিলেন না..আরে বলেই দিতে পারত যে আমরা কনটেন্ট ভেরিফাই করিনি…যে রীতিটা আছে,সেভাবেই তো রিসিভ হয়। গতকাল রিসিভ হল, আর আজ স্পিকার সাহেব বলে দিয়েছেন কিছু রিসিভ করা যাবে না। এখন আমরা আবার সেটা ই-মেলে আবার পাঠিয়ে দিয়েছি। হার্ড কপি কীভাবে কী আইন-মাফিক পদ্ধতিতে পৌঁছানো যায় সেটা হবে। কিন্তু, ই-মেলে ইতিমধ্যেই স্পিকারকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।”
