Voice of Eastern India

TMC News : বিদ্রোহী বিধায়করা কি দল বেঁধে ‘অন্য় তৃণমূল’ গঠন করতে পারেন ? কত সংখ্যা প্রয়োজন ?


দীপক ঘোষ, কলকাতা : রবিবার মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের ডাকা বৈঠকে ৮০ জন তৃণমূল বিধায়কের মধ্য়ে উপস্থিত ছিলেন মাত্র ২০ জন ! সূত্রের খবর, তৃণমূলনেত্রীর ঠিক করা বিরোধী দলনেতার নামও নাকি দলের বিধায়কদের একাংশ খারিজ দিতে পারেন। প্রশ্ন উঠছে, এই বিদ্রোহীরা কি ‘অন্য় তৃণমূল’ গঠন করতে পারেন ? উদ্ধব ঠাকরে বা শরদ পাওয়ারের মতো অবস্থা হতে পারে মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের ?

বালির বস্তা দিয়ে নদী ভাঙন আটকানো যায় না। ভোটে ভরাডুবি-ভাইপোর বিরুদ্ধে বিদ্রোহের পর কি মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়, তাঁর হাতে তৈরি তৃণমূলকে দু’-টুকরো হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে পারবেন ? এন্টালির বহিষ্কৃত তৃণমূল বিধায়ক সন্দীপন সাহা বলেন, “মানুষ যাতে প্রশ্নের পর প্রশ্ন করে, প্রত্য়েকটা বিধায়ককে সন্দেহের চোখে দেখে, সেই ব্য়বস্থা করে দিচ্ছে দল।”

যে মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায় কংগ্রেস ভেঙে তৃণমূল তৈরি করেছিলেন, যিনি ক্ষমতায় থাকাকালীন কংগ্রেস-সিপিএমে ভাঙন ধরিয়ে বহু জেলা পরিষদ-পুরসভা দখল করেছিলেন, আজ তাঁর তৃণমূল কি অন্য় কেউ দখল করবে ? উলুবেড়িয়া পূর্বর বহিষ্কৃত তৃণমূল বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্য়োপাধ্য়ায় বলেন, “আমি যা যা জানি দুর্নীতির হুইসলব্লোয়ারের কাজ করব। সরকারকে লিখব, যা যা জানি। যেগুলো জানি, সেগুলো লিখে জানাব।”

রবিবার মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের ডাকা বৈঠকে ৮০ জন বিধায়কের মধ্য়ে উপস্থিত ছিলেন মাত্র ২০ জন ! অর্থাৎ এক চতুর্থাংশ। সূত্রের খবর, পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে, যে মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের ঠিক করা বিরোধী দলনেতার নামও তৃণমূল বিধায়কদের একাংশ খারিজ দিতে পারেন বলে জল্পনা তৈরি হয়েছে। এখানেই প্রশ্ন উঠছে, এই বিদ্রোহী বিধায়করা কি দল বেঁধে তৃণমূলের মধ্য়েই ‘অন্য় তৃণমূল’ গঠন করতে পারেন ? তাঁরাই কি ‘আসল’ তৃণমূল হয়ে উঠতে পারে ?

এ প্রসঙ্গে অধ্য়াপক ঊর্বি দাস বলেন, “৮০টি আসন যে ওরা পেয়েছে তারমধ্যে ৫৩টি আসন দরকার হবে। দুই-তৃতীয়াংশ অঙ্কটা আসতে গেলে। তখন একটা দাবি আসতেই পারে যে তারাই মূল বিরোধী হয়ে আসছে। দাবিটা আসতেই পারে। ৫৩ জন যদি আলাদা হয়ে আসতে পারেন, তাহলে কিন্তু স্পিকার স্বীকৃতি তাদের দিতে পারেন।” মহারাষ্ট্রে শিবসেনা তৈরি করেছিলেন বাল ঠাকরে! সেই শিবসেনাকে তাঁর ছেলে উদ্ধব ঠাকরের হাত থেকে নিয়ে নিয়েছেন একনাথ শিন্ডে। কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে এনসিপি তৈরি করেছিলেন শরদ পাওয়ার। এখন সেই এনসিপি সিনিয়র পাওয়ারের হাতছাড়া। একটা সময় অবিভক্ত অন্ধ্রপ্রদেশে রাজত্ব করতেন এনটি রামা রাও। সেই টিডিপিও তাঁর হাত থেকে নিয়ে নিয়ে নিয়েছিলেন তাঁর জামাই চন্দ্রবাবু নায়ডু। অর্থাৎ রাজনীতিতে অনেক কিছুই হয়। পশ্চিমবঙ্গেও কি এমন কিছু হতে পারে ? উত্তর দেবে সময়।



Source link

Leave A Reply

Your email address will not be published.