Mamata Banerjee in Halisahar: ‘গালিগালাজ করেছে, ইট মেরেছে গোটা রাস্তা’, হালিশহরে মমতাকে ঘিরে বিক্ষোভ, ‘বিজেপি-র লুম্পেন’, বললেন তৃণমূলনেত্রী
হালিশহর: হালিশহরে মৃত তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে তীব্র বিক্ষোভের মুখে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর গাড়ি আটকে দেওয়া হল রাস্তায়। গাড়ি আটকে চলল বিক্ষোভ। গাড়িতে কাদা লেপে দিল বিক্ষোভকারীরা। গাড়ি লক্ষ্য করে ছোড়া হল চটি-জুতো। ‘ডাকাত রানি’, ‘চোর’ স্লোগানও উঠল। সেই নিয়ে তীব্র প্রতিক্রীয়া জানালেন তৃণমূল নেত্রী। জানালেন, স্থানীয় গ্রামবাসী নয়, বিজেপি-র ‘লুম্পেন’রা এই ঘটনা ঘটিয়েছে। (Mamata Banerjee)
পুলিশি হেফাজতে ওই তৃণমূলকর্মীকে পিটিয়ে মেরে ফেলা হয়েছে বলে দাবি পরিবার থেকে দলের। যদিও স্থানীয়দের দাবি, মমতা শান্ত জায়গাকে অশান্ত করতে পৌঁছেছেন সেখানে। সেই নিয়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। গোটা ঘটনার জন্য মমতা সরাসরি বিজেপি-কেই আক্রমণ করেছেন। তিনি বলেন, “বাইরে থেকে বিজেপি লুম্পেন জোগাড় করেছে। অশ্রাব্য গালিগালাজ করেছে। বড় বড় ইট মেরেছে। গাড়িটা দেখুন আপনারা। গোটা রাস্তা ইট মারা হয়েছে। তীব্র নিন্দা করছি। ধিক্কার জানাচ্ছি আমরা।” (Mamata Banerjee in Halisahar)
আরও পড়ুন: হালিশহরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গাড়ি লক্ষ্য করে কাদা-জুতো, ‘চোর’ স্লোগান বিক্ষোভকারীদের
মৃত তৃণমূল কর্মীর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে মমতা আরও বলেন, “লকআপে পিটিয়ে মেরে ফেলার পরও বাড়ি গিয়ে ভয় দেখাচ্ছে। আমরা আসব বলেছিলাম, এসেছি। ইট, বড় বড় পাথর ছুড়েছে। নিরাপত্তা ভুলে যান। পুলিশের সামনে গাড়িতে পাথর ছোড়া হয়েছে। বাইরের লুম্পেনরা এসেছে। নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে লুম্পেন জোগাড় করেছে পুলিশ। এই লুম্পেনদের দ্বারাই প্রোটেকশন নিচ্ছে পুলিশ। হেফাজতে মৃত্যু হচ্ছে। বাংলা আজ লুম্পেনদের হাতে চলে গিয়েছে। আমি দেখা করতে আসব বলেছি, ওর স্ত্রীর সঙ্গে কাল দু’বার কথা হয়। বিধায়ক এসে বলে গিয়েছে, ‘ঘর থেকে বেরোবেন না’। আমরা মামলা করব। পুলিশের সামনে পাথর মেরেছে। পুলিশের উপর আমার কোনও রাগ নেই। রাগ হচ্ছে যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজে উপদ্রব করছেন। বাংলায় বর্বরতা চলছে। পুলিশ বিজেপি-র কার্ড হোল্ডারে পরিণত হয়েছে। বিজেপি-র সন্ত্রাস চলছে।”
মমতার সঙ্গে এদিন হালিশহর যান সাংসদ দোলা সেন এবং কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ও। দোলা বলেন, “বিধায়ক নিজে এসে ভয় দেখিয়ে গিয়েছে।” কল্যাণ বলেন, “যেভাবে অত্যাচার করা হয়েছে…এটা হেফাজতে মৃত্যু। বিচার হবে। বাড়ির লোককে ভয় দেখিয়ে আমাদের সরাতে পারবে না। আমরা করব। মমতাদি আছেন। আমরা আছি। আজ ওদের যেভাবে ভয় দেখিয়ে বাড়ির মধ্যে ঢুকিয়ে রাখা হয়েছে, বাংলার মানুষ কেন, ভারতের মানুষ দেখবেন বিচারব্যবস্থা কী। এই আইসি থেকে শুরু করে…ব্যবস্থা হবে। ডিজি এবং সিপি-র পদত্যাগ চাই আমরা। কারণ ডিজি এবং সিপি-র নির্দেশে রাত ২টোয় তুলে নিয়ে গিয়ে, লেডিস হস্টেলে পিটিয়ে মারা হয়েছে। এফআইআরে নামও ছিল না। এখানে ঢোকার পর বিজেপি যেভাবে অত্যাচার করছে, তাতে বোঝা যাচ্ছে, পুলিশ দিয়ে রাজত্ব চালাচ্ছে শুভেন্দু অধিকারী। মাফিয়া রাজত্ব তৈরি করেছে। বলেছে, পুলিশকে সব ক্ষমতা দিচ্ছি। তাতেই হেফাজতে মৃত্যু হল। পশ্চিমবঙ্গে হেফাজতে মৃত্যু ছিল না।” পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে এই ঘটনা ঘটানো হয়েছে বলে দাবি করেন কল্যাণ। তিনি বলেন, “পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে আজ এখানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মারার চক্রান্ত করেছে শুভেন্দু অধিকারী। বাংলা থামবে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গায়ে হাত পড়লে গোটা পশ্চিমবঙ্গ জেগে উঠবে। দিদির দু’-তিনটি সিকিওরিটির জন্য আজ আমরা বেঁচে গিয়েছি। নইলে আজ পুলিশের হাতে আজ আমরা শেষ হয়ে যেতাম।”
