কলকাতা: ED-র ভূমিকায় প্রশ্ন তুলে হাইকোর্টের দ্বারস্থ সুজিত বোস। গ্রেফতার করার সমস্ত প্রক্রিয়াকেই চ্যালেঞ্জ করেছেন তিনি। ED-র পদক্ষেপে রাজনৈতিক অভিসন্ধি রয়েছে বলেও দাবি রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রীর। কাল মামলার শুনানি।
আরও পড়ুন, মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তার পরেই গ্রেফতার ১১ বাংলাদেশি, ধৃতদের পাঠানো হল হোল্ডিং সেন্টারে
২০১০ সাল থেকে দীর্ঘদিন দক্ষিণ দমদম পুরসভার ভাইস চেয়ারম্য়ান ছিলেন সুজিত বসু। পুরসভায় নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় CBI যে চার্জশিট দিয়েছিল, তার ১১ নম্বর পাতায় দাবি করা হয়, বেআইনিভাবে সবচেয়ে বেশি চাকরি দেওয়া হয়েছে দক্ষিণ দমদম পুরসভায়। ২০১৪ সালের পর সেখানে ৩২৯ জনের নিয়োগ হয়েছে টাকার বিনিময়ে। ED সূত্রে দাবি, সুজিত বসুর সুপারিশে বিভিন্ন পদে ১৫০ জনের চাকরি হয়। আদালতে ইডির আইনজীবীর চাঞ্চল্যকর দাবি ছিল, দক্ষিণ দমদম পুরসভা-সহ একাধিক পুরসভায় ১৫০ জনের চাকরি হয়েছে সুজিত বসুর সুপারিশে। এমনকী ইডির দাবি, চাকরির বিনিময়ে টাকা ছাড়া জমিও নেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি আদালতে ইডির আইনজীবী দাবি করেছিলেন, করোনাকালে যখন লকডাউন চলছে, তখন দেখা যাচ্ছে সুজিত বসুর নিজস্ব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, তাঁর চাইনিজ রেস্তোরাঁ এবং তাঁর ছেলের বেঙ্গল ধাবা রেস্তোরাঁয় কোটি কোটি টাকা জমা পড়েছে। সুজিত বসু, তাঁর পরিবার ও পরিচিতদের অ্যাকাউন্টে জমা পড়ার অঙ্কটা প্রায় ৮ কোটি টাকা। সেই টাকার একটা ব্রেকআপও দেন ইডির আইনজীবী।
আদালতে তিনি জানান, যখন লকডাউন চলছিল তখন লেকটাউনে সুজিত বসুর চাইনিজ রেস্তোরাঁর অ্যাকাউন্টে ১ কোটি ১১ লক্ষ টাকা জমা পড়ে। অথচ সেইসময় রেস্তোরাঁ বন্ধ ছিল। সুজিত বসুর ছেলে সমুদ্র বসুর বেঙ্গল ধাবা রেস্তোরাঁয় ২০২০ সালের এপ্রিলে ১ কোটি ২০ লক্ষ টাকার নগদে বিক্রি দেখানো হয়। তখনও সেই রেস্তোরাঁ বন্ধ ছিল। এমনকী সুজিত বসুর ব্যক্তিগত অ্য়াকাউন্টেও জমা পড়ে ২ কোটি ২০ লক্ষ টাকা। ইডির আইনজীবী সেসময় জানিয়েছিলেন, সুজিত বসুর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বিভিন্ন দিক থেকে বিপুল টাকা ঢুকেছে। কিন্তু কোনও বৈধ লেনদেন দেখাতে পারেননি।
