কাঁচরাপাড়া: কাঁচরাপাড়া পুরসভা এলাকার তিন নম্বর ওয়ার্ড তৃণমূল কংগ্রেসের যুবনেতা (Triamool Congress ) অভিজিৎ রায় ওরফে বনিকে স্যান্ডো গেঞ্জি, হাফপ্যান্ট পরিয়ে কোমরে দড়ি পড়িয়ে ঘোরাল পুলিশ। পুলিশের তরফে দেওয়া হল কড়া বার্তা।
কাঁচরাপাড়ার এই যুব তৃণমূল নেতাকে দেখেই ‘চোর, চোর’ স্লোগান দেন স্থানীয়রা। ভোট পরবর্তী সন্ত্রাস ও তোলাবাজির অভিযোগে আগেই গ্রেফতার করা হয়েছিল এই অভিজিৎ রায় ওরফে বনিকে। তিনি নিজেই জানান তিনি তৃণমূল কংগ্রেসের যুব সভাপতি পদে ছিলেন। তাঁর এমন দশা কেন হল? কেন শুনতে হল হল চোর স্লোগান? সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে তিনি বলেন, ‘তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা পালিয়ে গিয়েছেন। যাঁরা চুরি করেছেন, তাঁরা পালিয়ে গিয়েছেন, আমি তো চুরি করিনি, তাই আমি এখনও আছি।’
এরপরেই কে চুরি করেছেন, জানতে চাওয়া হলে অভিজিৎ সরাসরি কাঁচরাপাড়া পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান কমল অধিকারীর দিকে আঙুল তোলেন। এই কমল অধিকারীর নাম নিয়োগ দুর্নীতি ও অন্যান্য আর্থিক অনিয়মের তদন্তে জড়িয়েছে। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই তাঁর বাড়িতে এবং পৈতৃক ঠিকানায় সিবিআই (CBI) তল্লাশিও চালিয়েছিল। জেটিয়ায় কাঁচরাপাড়ার চেয়ারম্যান কমল অধিকারীর আদি বাড়িতে গত ৪ জুন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা হানা দিয়েছিল।
হালিশহর পুরসভার তৃণমূলের পুরপ্রধান রাজু সাহানিকে টিটফান্ড মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছিল চিটফান্ড দুর্নীতি কাণ্ডে। তারপর আলিপুর আদালত তাঁকে ১০ দিনের সিবিআই হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছিল। সেই রাজু সাহানির সঙ্গেই এই কাণ্ডে কমল অধিকারীর যোগ পাওয়া গিয়েছিল বলে জানা যায়। তার জেরেই এই সিবিআই তল্লাশি হয়। সিবিআই সূত্রে দাবি করা হয়েছিল, সানমার্গ চিটফান্ডকাণ্ডে কলকাতায় তিনটি এবং হালিশহর, জেটিয়া, কাঁচরাপাড়া-সহ ৭টি জায়গায় তল্লাশি চলে। রাজু সাহানির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার কথা স্বীকার করলেও, চিটফান্ড-যোগ অস্বীকার করেছিলেন কাঁচরাপাড়ার পুর চেয়ারম্যান।
তবে এবার ফের একবার তাঁর নাম চর্চায় উঠে আসে। এই কমল অধিকারীকেই ফের একবার কাঠগড়ায় তুললেন কাঁচরাপাড়ার ধৃত যুব তৃণমূল নেতা অভিজিৎ রায় ওরফে বনি।
প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, হালিশহর পুরসভার তৃণমূলের পুরপ্রধান রাজু সাহানির যে কোনও শর্তে জামিনের আবেদন জানিয়েছিলেন তাঁর আইনজীবী। যেহেতু তিনি একটি নির্দিষ্ট দল করেন, তাই তাঁর বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হয়েছে বলেও দাবি জানানো হয়। রাজু সাহানির আইনজীবীর দাবি, রাজু যানতেন না যে এই চিটফান্ড সংস্থার অন্যতম ডিরেক্টর সৌম্যদীপ ভৌমিক পলাতক রয়েছেন। তিনি রাজুর বন্ধু ছিলেন। রাজুর যেহেতু রিয়েল এস্টেটের একাধিক ব্যবসা রয়েছে, তাই সেই কাজে বছর তিনেক আগে ৩০ লক্ষ টাকা ধার নিয়েছিলেন। সেই টাকা শোধও করে দিয়েছিলেন। তার রসিদও আছে। সেই রসিদ তিনি আদালত চাইলে পেশ করতে পারেন বলে জানান। সেই রসিদ সিবিআইকে দেখাতে চেয়েছিলেন তিনি। কিন্তু, কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা তা গ্রহণ করেননি।
