মনোজ বন্দ্যোপাধ্যায়, দুর্গাপুর : ‘সিন্ডিকেট করলে চামড়া তুলে নেব।’ দুর্গাপুরে কড়া হুঁশিয়ারি পুলিশের। দুর্গাপুরের বিধাননগরের বেসরকারি হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় পার্কিংকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ ঘিরে এই হুঁশিয়ারি দেয় পুলিশ। এরপরেই সতর্ক হয়ে যায় অবৈধ কারবারিরা। হাসপাতালের আশপাশের সরকারি জায়গা দখল করে কোনও ধরনের সিন্ডিকেট বা ব্যক্তিগত নিয়ন্ত্রণ বরদাস্ত করা হবে না বলে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে।
ঘটনা কী ?
দুর্গাপুরের মিশন হাসপাতালের আশপাশে রাস্তার ধারে থাকা সরকারি জায়গায় গাড়ি রাখাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অভিযোগ উঠছে। অভিযোগ, কয়েকজন ব্যক্তি ওই জায়গার উপর নিজেদের প্রভাব বিস্তার করে গাড়ি পার্কিং নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছেন। সেখানে সাধারণ মানুষ গাড়ি রাখতে গেলে বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে। শুধু বাধা দেওয়াই নয়, গাড়ি রাখতে আসা মানুষজনের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে।
হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় ছড়াল উত্তেজনা…
হাসপাতাল একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। সেখানে চিকিৎসার প্রয়োজনে প্রতিদিন বহু মানুষ আসেন। তাঁদের অনেকেই দূরদূরান্ত থেকে রোগী নিয়ে গাড়িতে করে হাসপাতালে পৌঁছন। হাসপাতাল চত্বরে পর্যাপ্ত পার্কিংয়ের ব্যবস্থা না থাকায় রাস্তার ধারের ফাঁকা জায়গায় গাড়ি রাখার প্রয়োজন হয়। কিন্তু সেই জায়গাতেও যদি কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠী নিজেদের মতো করে নিয়ন্ত্রণ কায়েম করে, তাহলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়ে। তারই প্রতিফলন দেখা গেল সোমবারের একটি ঘটনায়। এমনই একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় উত্তেজনা ছড়ায় বলে অভিযোগ।
কী ঘটে সোমবার ?
চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে এসেছিলেন এক মহিলা ও তাঁর স্বামী। রাস্তার ধারের ফাঁকা জায়গায় গাড়ি রাখতে গেলে কয়েকজন তাঁদের বাধা দেন বলে অভিযোগ। এরপর শুরু হয় বচসা। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ঘটনার পরেই প্রশ্ন উঠেছে, সরকারি জায়গায় কে গাড়ি রাখবেন বা রাখবেন না, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার কি কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর রয়েছে ? হাসপাতালের সামনে রোগী নিয়ে আসা সাধারণ মানুষকে পার্কিংয়ের জন্য যদি বাধার মুখে পড়তে হয়, তাহলে প্রশাসনের নজরদারি নিয়েও প্রশ্ন উঠবে বলে অনেকের মত।
কী বলছেন স্থানীয়রা ?
এই পরিস্থিতি নিয়ে সরব স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের অভিযোগ, সরকারি জায়গা ঘিরে কয়েকজনের এই ধরনের নিয়ন্ত্রণ দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে। ফলে, বিষয়টি শুধুমাত্র পার্কিং সমস্যা হিসেবে দেখলে চলবে না। এর সঙ্গে সরকারি জায়গা দখল, প্রভাব খাটানো এবং সিন্ডিকেটের অভিযোগও জড়িয়ে রয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের একাংশের।
কড়া বার্তা পুলিশের…
এই পরিস্থিতিতেই পুলিশের কড়া বার্তা সামনে এসেছে। হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় কোনও ধরনের দাদাগিরি, বেআইনি দখলদারি বা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা হলে তা বরদাস্ত করা হবে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। ‘সিন্ডিকেট করলে চামড়া তুলে নেব’, পুলিশের এই কড়া হুঁশিয়ারির পরেই সতর্ক হয়ে যায় অবৈধ কারবারিরা।
