মনোজ বন্দ্যোপাধ্যায়, পশ্চিম বর্ধমান : ফের প্রকাশ্যে তৃণমূলের দুর্নীতি ও কারচুপির চিত্র। তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ের ভিতরে স্তূপ করে রাখা সাদা থান। শয়ে শয়ে গামছা, লুঙ্গি, ধুতি এবং সরকারি প্রকল্প ‘মিশন নির্মল বাংলা’র বালতি! এই দৃশ্য সামনে আসতেই শোরগোল পড়ে যায় দুর্গাপুরে। ঘটনাটি ঘটেছে নিউ টাউনশিপ থানার মামরা বাজারের ২৪ নম্বর ওয়ার্ড তৃণমূলের দলীয় কার্যালয়ে।
বিজেপির অভিযোগ, ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন পুরমাতা লাভলি রায়ের দলীয় কার্যালয়ে বিপুল পরিমাণ সাদা থান মজুত রাখা হয়েছিল। শুধু তাই নয়, সরকারি প্রকল্পের বালতিও দলীয় কার্যালয়ের ভিতরে রাখা ছিল বলে দাবি বিজেপির। পাশাপাশি কার্যালয়ের ভিতরে কুড়ুল, কাটারি-সহ একাধিক ধারালো অস্ত্র পাওয়া গিয়েছে বলেও অভিযোগ। অনেকের মনে প্রশ্ন কী চলত দলীয় কার্যালয়ে? কেন সরকারি জিনিস মজুত ছিল দলের কার্যালয়ে। সাধারণ মানুষের প্রাপ্য সরকারি জিনিস তৃণমূল নেতারা এভাবেই নয়ছয় করত? ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই সম্ভিত হয়ে যান এলাকার মানুষরা।
বিজেপির জেলা ওবিসি মোর্চার সাধারণ সম্পাদক স্বাধীন রায় অভিযোগ করে বলেন, “তৃণমূল ভেবেছিল তারা নির্বাচনে জয়লাভ করবে। তারপর বিজেপি কর্মীদের পরিবারকে আতঙ্কিত করতে ও আমাদের কর্মীদের বউদের বিধবা করার মানসিকতা নিয়েই এই সাদা থান মজুত করে রাখা হয়েছিল। এলাকায় সন্ত্রাস কায়েমের জন্য অস্ত্রও রাখা হয়েছিল। আর সরকারি মিশন নির্মল বাংলার বালতি দলীয় কার্যালয়ে এনে রাখা হয়েছিল অন্য উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার জন্য।”
আরও পড়ুন – নেতার ঘরে সরকারি ত্রাণসামগ্রী ! উদ্ধার বস্তাবন্দী হাঁড়ি, কড়াই, গামলা-সহ বহু জিনিস, ঘটনা কী ?
ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় নিউ টাউনশিপ থানার পুলিশ। কীভাবে এত সরকারি প্রকল্পের জিনিস মজুত থাকল এবং অস্ত্রই বা কেন মজুত ছিল তা নিয়ে পুলিশ পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু করেছে।
উল্লেখ্য, তৃণমূল কংগ্রেসের বিষ্ণুপুর – ২ ব্লকের সভাপতি নবকুমার বেতালের বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ সরকারি ত্রাণসামগ্রী উদ্ধার হয়। অভিযোগ, তৃণমূল নেতা নবকুমার বেতালের বাড়িতে ২০২০ সালের বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য বরাদ্দ ত্রাণসামগ্রী মজুত করে রাখা হয়েছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা বাড়ির দরজা ভেঙে বস্তাবন্দী সামগ্রী, হাঁড়ি, কড়াই, গামলা-সহ বিভিন্ন গৃহস্থালির সামগ্রী দেখতে পান। তাঁদের দাবি, গরিব মানুষের মধ্যে বিতরণ না করে ওই সামগ্রী নিজেরা আত্মসাৎ করছে। নবকুমার বেতালের স্ত্রী সোমাশ্রী বেতাল জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ এবং তৃণমূলের মনোনীত প্রার্থী। দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে বলেও দাবি স্থানীয়দের।
