কলকাতা: কেউ করতেন রাজমিস্ত্রীর কাজ, কেউ চালাতেন রিক্সা, তবে এবার পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অনুপ্রবেশে (Bangladeshi Infiltration) ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির জেরে বাংলাদেশ সীমান্তে বাড়ছে ভিড়। SIR-এর আগে দেখা গিয়েছিল যে ছবি, উত্তর ২৪ পরগনার স্বরূপনগরের হাকিমপুর সীমান্তে ফের সেই ছবিই দেখা যাচ্ছে।
এবার অনুপ্রবেশকারীদের হঠাতে সরকারের তৎপরতার মধ্য়েই এ দেশ ছেড়ে ও দেশে ফেরার তৎপরতা। তড়িঘড়ি দেশে ফিরলে বাঁচা যায়. একদিকে সীমান্তে কাঁটাতার বসাতে BSF-কে জমি হস্তান্তর শুরু হয়ে গেছে। অন্য়দিকে অনুপ্রবেশকারীদের জন্য জেলায় জেলায় হোল্ডিং সেন্টার খোলা হচ্ছে! এই পরিস্থিতিতে অবৈধভাবে ভারতে ঢুকে পড়া বাংলাদেশিদের মধ্যে এবার ফেরার তাড়া। সোমবারের পর মঙ্গলবারও উত্তর ২৪ পরগনার হাকিমপুর চেকপোস্টে দেখা গেল এই ছবি।
কেউ দালাল ধরে, কেউ বা কাঁটাতার পেরিয়ে ঢুকে পড়েছিলেন। তারপর এক বছর, কেউ সাত বছর, কেউ বা এক যুগ ধরে থাকছেন এরাজ্যে! যেমন খুলনার বাসিন্দা ওবায়দুল। তিনি শিকার করে নিচ্ছেন পাসপোর্ট ছাড়াই এদেশে আসেন তিনি। তবে এখন বাধ্য হয়েই ফিরছেন তিনি। ‘চলে যাচ্ছি এখন সরকার থাকতে দিচ্ছে না তাই’, ওয়াবদুল।
বছর দু’য়েক আগে সীমান্ত পেরিয়ে এসেছিলেন। বাংলাদেশের নাগরিক সিরাজুল, সাতক্ষীরায় দিয়ে নীচে দিয়ে পার হয়ে এসেছিলেন। এদেশেই ছিলেন এক বছরের মতো। তবে এখন দেশে ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন। খুলনা থেকে আসা আরেক অনুপ্রবেশকারী এখানেই রং মিস্ত্রী, জঙ্গল সাফাইয়ের কাজ করতেন। তিনি জানান, ‘এখানে থাকতাম দুর্গানগরে। এক বছর হয়ে গেছে। এখন ফিরে যাচ্ছি, সরকার বলছে দেশের মানুষ দেশে চলে যাও।’
খুলনার মহম্মদ রাজ্জাক, প্রায় ৮ বছর ধরে থাকতেন উত্তর ২৪ পরগনার শাসনে। তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘এই ৭-৮ বছর আগে। এমনি চলে এসেছিলাম। পাসপোর্ট ছিল না গো বাবা।’ BSF বাধা দেয়নি? প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তখন পার হলাম, এদিক সেদিক করে ওই…‘
চোদ্দ পুরুষের বাস পদ্মাপারে! এমন লোকজনও বেআইনিভাবে ভারতে ঢুকে আধার কার্ড তৈরি করে ফেলেছিলেন, যেমন যশোরের মোশারফ। তিনি জানান, ‘১০-১৫ বছর। কাগজ কুড়াতাম, রিকশ চালাতাম। পুলিশ ধরত। একজন বলল, পুলিশের অত্যাচার, কোনও তোর ডকুমেন্ট নেই। তুই এখানে থাকতে পারবি না। একটা ডকুমেন্ট করিয়ে নে। তাই অনলাইনে করলাম। আমি কোনওদিন ভোট দিইনি। শুধু আধার কার্ডটা করেছি।
বাংলাদেশের যশোরের বাসিন্দা মহম্মদ ফিরোজ। ৪ বছর আগে ধামাখালি হয়ে পশ্চিমবঙ্গে ঢোকেন। থাকতেন মেটিয়াবুরুজে। তাঁর দাবি তিনি ধামাখালি দিয়ে লোকজনের সঙ্গে বর্ডার পার করে এদেশে চলে আসেন। তিনি বলেন, ‘এই জায়গায় NRC শুরু হয়েছে। আমাদের তো কিছু নেই। আমাদের কোনও প্রমাণ নেই। আমাদের কোনও… বেআইনি ভাবে…’
গত দেড় বছর ধরে দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতায় থাকতেন বাংলাদেশের হোসেন আলি বিশ্বাস। রাজ্যে হোল্ডিং সেন্টার তৈরির ঘোষণা হতেই দেশে ফিরছেন তিনিও।
