Voice of Eastern India

কলেজ পরিচালন সমিতির মাথায় বিজেপির সাংসদ-বিধায়ক, মমতা জমানার প্রতিচ্ছবি বিজেপি আমলেও?


কলকাতা: পরিবর্তনের জমানাতেও শিক্ষায় দলতন্ত্রের সেই চেনা ছবি। কলেজ পরিচালন সমিতির মাথায় শুধু বিজেপির সাংসদ-বিধায়ক। ২৪৭টি কলেজের তালিকা প্রকাশ করল উচ্চ শিক্ষা দফতর। কলেজে কলেজে মমতা জমানার প্রতিচ্ছবি বিজেপি আমলেও। কলকাতা থেকে জেলা-শাসক নেতারাই কলেজ কমিটির মাথায়। কলেজের পরিচালন সমিতির মাথায় সাংসদ-বিধায়ক থেকে মন্ত্রী।  

ক্ষমতার পালাবদল হওয়ার পর কলেজের গভর্নিং বডি-সভাপতি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল তৃণমূলের নেতা-মন্ত্রীদের। উচ্চশিক্ষা দফতরের তরফ থেকে একটা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশে আনা হয়েছে যেখানে ২৪৭টি কলেজ কলকাতা সহ গোটা রাজ্যে ২৪৭টি কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি কারা হবেন তার একটা তালিকা আজকে প্রকাশ করা হয়েছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে প্রত্যেকটা কলেজের মাথায় গভর্নিং বডির বা পরিচালন সমিতির মাথায় আছেন বিধায়ক অথবা সাংসদ অথবা মন্ত্রী।  

সেই তালিকায় দেখা যাচ্ছে প্রত্যেকেই শাসক দলের এবং রাজ্যের শিক্ষা মন্ত্রী থেকে রাজ্যের উচ্চশিক্ষা মন্ত্র,  রাজ্যের অর্থমন্ত্রী তারা প্রত্যেকটাই এক-একটা কলেজে আছেন। কলকাতার ক্ষেত্রে সজল ঘোষ তৃণমূল কলেজে আছেন বঙ্গবাসীর, সুরেন্দ্রনাথ ল কলেজে। আশুতোষ কলেজে স্বপন দাশগুপ্ত। 

রাজ্যের শাসক দলের যারা বিধায়ক, রাজ্যের শাসক দলের যারা সাংসদ মন্ত্রী তাদেরই গভর্নিং বডির সভাপতি পদে রাজ্যের উচ্চশিক্ষা দপ্তর নিয়োগ করেছে। তৃণমূল জমানাতে একই ছবি ছিল যদিও তৃণমূল জামানায় একটা নিয়ম করা হয়েছিল যে গ্র্যাজুয়েট হতে হবে এক্ষেত্রেও গ্র্যাজুয়েটদের রাখা হয়েছে। 

তৃণমূল জমানাতেও দেখা গিয়েছিল একটার পর একটা কলেজে শাসক দলের সাংসদ, শাসক দলের কাউন্সিলর, এমএলএ, মন্ত্রীরা তারা কলেজে কলেজে গভর্নিং বডির সভাপতি হয়েছিল। পাঁচটা কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি ছিলেন শশী পাঁজা। 

বিগত জমানার বিরুদ্ধে পরিবর্তনের পর এই সরকারের আমলে দেখা গেল সেই একই ছবি। ২৪৭টি কলেজের গভর্নিং বডির যে তালিকা নামের তালিকা প্রকাশে এসছে দেখা যাচ্ছে উত্তর দিনাজপুর থেকে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা, উত্তর চব্বিশ পরগনা থেকে পূর্ব বর্ধমান, নদীয়া প্রত্যেকটা জেলায় যে সমস্ত কলেজের গভর্নিং বডির নামের তালিকা প্রকাশে এসেছে সেখানে দেখা যাচ্ছে যে প্রত্যেকটা জায়গায় শাসক দলের অর্থাৎ বিজেপির সাংসদ এবং বিধায়ক মন্ত্রিরা। 

প্রশ্ন উঠছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনার পর রাজ্যের শাসক দলের তরফ থেকে শিক্ষা ক্ষেত্রে রাজনীতিকে মুক্ত করার দাবি করা হচ্ছে, তাহলে কেন উচ্চশিক্ষা দপ্তর যেটা প্রকাশ্যে এনেছে সেই তালিকায় দেখা যাচ্ছে যে শাসক দলের নেতারাই উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান অর্থাৎ কলেজগুলিতে সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত কলেজের মাথায় বসছেন এবং সেই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ্যে এসেছে উচ্চশিক্ষা দপ্তরের তরফ থেকে।



Source link

Leave A Reply

Your email address will not be published.