Durga Puja 2026: পুজো শেষে উঁচু জায়গায় বেঁধে রাখা হয় ভোগ, মজায় খেলায় মাতেন ভক্তরা! অবাক করা এই দুর্গাপুজোর রীতি
সুদীপ চক্রবর্তী, উত্তর দিনাজপুর: কলকতা জোড়া থিমের পুজো। তবে তার মধ্যেও, জেলায় জেলায় যে সমস্ত পুরনো পুজো হয়.. তার মাধুর্য্যই আলাদা। সেখানে কত পুরনো গল্প, কত ইতিহাস জমাট বেঁধে রয়েছে। ঠিক যেমন, ভূপালপুর রাজবাড়ির বহু পুরনো পুজো। এবারেও এক চালার ডাকের সাজের প্রতিমা দিয়ে জমিদারি প্রথা অনুসারে দুর্গা পুজো করতে চলেছেন রাজা ভূপাল চন্দ্র রায় চৌধুরীর বংশধরেরা। উত্তর দিনাজপুর জেলার ইটাহার ব্লকের দূর্গাপুরে ভূপালপুর জমিদার বাড়ি এলাকার মানুষদের কাছে তথাকথিত রাজবাড়ির পূজো নিয়ে বাসিন্দাদের কাছে একটা বাড়তি উন্মাদনা থাকে।
বহুকাল থেকে ভূপালপুর রাজবাড়িতে পূজিতা হন প্রতিমা
রাজা ভূপাল চন্দ্র রায় চৌধুরী পরিবারের বংশধরের হাত ধরে এখানে দেবী পূজিতা হন। ইতিহাসের পথ বেয়ে আজও দূর্গাপুর রাজবাড়িতে পূজো করে আসছেন তাঁদের বংশধরেরা। দেবী দূর্গা কয়েকশো বছরের প্রাচীনত্বের গন্ধ মেখে নিয়ম নিষ্ঠার সাথে পূজো পেয়ে থাকেন এই রাজবাড়ির ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন দূর্গা দালানে। তবে সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে কিছুটা পুজোর পদ্ধতির পরিবর্তন ঘটেছে রাজবাড়ির পূজোয়। আগে মহালয়ার দিন থেকেই দূর্গার আরাধনায় মেতে উঠতেন রাজ পরিবারের সদস্যরা এবং এতদঅঞ্চলের বাসিন্দারা। জোড়া মোষ ও পাঠাবলীর মাধ্যমে আগে দেবীর বোধন হত মহালয়াতেই। এখন মহাষষ্ঠীতেই দেবীর বোধনের পাশাপাশি বন্ধ হয়ে গিয়েছে বলি প্রথা। তবে পূজোর নিয়ম নিষ্টা রয়ে গিয়েছে আগের মতোই।
মূর্তির কী কী বিশেষত্ব রয়েছে এখানে?
এখানে অসুরের গায়ের রঙ হয় ঘন সবুজ আর দেবী দূর্গার মাথার উপরে ব্রহ্মা, বিষ্ণু, মহেশ্বরের অধিষ্ঠান থাকে। রাজ পরিবারের বর্তমান বংশধর অভিষেক রায় চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের আদি বাড়ি ছিল ইটাহারের চূড়ামন এলাকায়। সেখানেই দেবী দূর্গার আরাধনা হত। মহানন্দা নদীর করাল গ্রাসে রাজবাড়ি ও রাজ্যপাট চলে যায় নদীগর্ভে। তারপর সেখান থেকে চলে এসে দূর্গাপুরে নির্মিত হয় রাজপ্রাসাদ ও দেবী দূর্গার মন্দির। মহালয়ার দিন থেকে রাজবাড়ির পূজোকে কেন্দ্র করে যাত্রাপালা, থিয়েটার, সার্কাসের আসর বসত। পূজোর ক’টা দিন এলাকার সর্বস্তরের হাজার হাজার মানুষের ভোজনের ব্যবস্থাও থাকত। আমোদ প্রমোদে মেতে উঠতেন সকলেই।’
ভোগের অদ্ভুত নিয়ম
কালের পরিবর্তনে সেসব এখন ইতিহাস। তবে রাজবাড়ির দূর্গাপূজা নিয়ে এখনও এলাকার মানুষের মধ্যে একটা আলাদা উন্মাদনা থাকে। নবমীর পুজোয় ভূপালপুর রাজবাড়ির বিশেষত্ব হল, এদিন পুজোর ভোগ ও প্রসাদী ফল পুজোর পর ঠাকুর দালানের উঁচু জায়গায় বেঁধে রাখা হয়। এরপর গ্রামের বাসিন্দা ও পরিবারের লোকেরা যে যেভাবে যতটা ফল প্রসাদ পেড়ে নিতে পারে, সেটাই একটা খেলার মাধ্যমে আনন্দ উপভোগ করা হয়। ভূপালপুর রাজবাড়ির দূর্গাপুজো নিয়ে এলাকার মানুষের প্রতিবছরই ব্যাপক উন্মাদনা থাকে। অনেক দূর দুরান্ত থেকে গরুর গাড়ি চেপে এখানে পুজো দেখতে আসতেন বহু মানুষ। আর এখন সেভাবে না হলেও এখানে পুজো দেখতে বহু মানুষ আছেন। দশমীতে খুব বড় করে এখানে মেলা বসে এই মেলাতে আমরা খুব আনন্দ করি বলে জানান তিনি।
Nandigram News | ভোট দিলেন নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান | ABP Ananda LIVE
