Voice of Eastern India

West Bengal News : ‘যেমন পেরেছেন টাকা তুলেছেন’, মুম্বইয়ে পরিবারকে পাঠিয়ে নিজে পুরীতে লুকিয়ে ছিলেন সুশান্ত ঘোষ !


শুভেন্দু ভট্টাচার্য, সুকান্ত মুখোপাধ্যায়, আবির দত্ত : প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক উদয়ন গুহ থেকে প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর সুশান্ত ঘোষ। একই দিনে গ্রেফতার হয়েছেন দু’জন। দিনহাটা থানা থেকে বের করার সময় এবং মহকুমা আদালতে ঢোকার সময় উদয়ন গুহকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয় ডিম। ধৃত স্বরূপ বিশ্বাসকেও আজ আলিপুর আদালতে তোলা হয়। 

কেউ প্রাক্তন মন্ত্রী, কেউ কলকাতার প্রাক্তন বোরো চেয়ারম্যান, কেউ প্রাক্তন মন্ত্রীর ভাই। কাউকে গ্রেফতার করা হয়েছে পুরী থেকে। কেউ পুলিশের জালে ধরা পড়লেন কলকাতায়। ক্ষোভ থেকে রেহাই পাচ্ছেন না কেউই। বুধবার কলকাতার ফুলবাগানের বাড়ি থেকে প্রাক্তন উত্তরবঙ্গ উন্নয়নমন্ত্রী উদয়ন গুহকে গ্রেফতার করে পুলিশ। বৃহস্পতিবার তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় দিনহাটায়। তাঁকে যখন থানায় নিয়ে যাওয়া হয়, তখন বাইরে চলছে বিক্ষোভ। এক বিক্ষোভকারী বলেন, “আমরা পচা ডিম নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি উদয়ন গুহকে বরণ করার জন্য। সম্বর্ধনা দেওয়ার জন্য।”

প্রথমে থানা থেকে বের করার সময়, তারপর হাসপাতাল থেকে বেরনোর সময়, দিনহাটা মহকুমা আদালতে ঢোকার সময়ও উদয়ন গুহকে লক্ষ্য করে ছোড়া হয় ডিম। হেলমেট পরেও মেলেনি রেহাই। যে রাস্তাটুকু তিনি প্রিজন ভ্যানের ভিতরে ছিলেন, সেখানে রাস্তার ধার থেকে প্রিজন ভ্যান লক্ষ্য করেই ছোড়া হয় ডিম। ওঠে চোর স্লোগান।

উদয়ন গুহর বিরুদ্ধে আবাস যোজনায় দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, ২ হাজার ২২০ জন উপভোক্তার কাছ থেকে তোলা হয়েছে ৪ কোটিরও বেশি টাকা।

এক মহিলা মেকআপ আর্টিস্টের সঙ্গে অশালীন আচরণ, খুনের চেষ্টা ও তোলাবাজির অভিযোগে আগেই গ্রেফতার হয়েছিলেন প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের ভাই স্বরূপ বিশ্বাস। এদিন তাঁকে আলিপুর আদালতে তোলা হয়। সেখানে সরকারি আইনজীবী দাবি করেন, ফেডারেশনের ডিরেক্টররা চিঠি দিয়ে বলেছিলেন টেকনিশিয়ানদের কাজে নিতে। তখন স্বরূপ বিশ্বাস বলেছিলেন, টাকা দিলে তবে কাজে নিতে। তাছাড়া কোভিডের সময় ১ কোটি টাকা তোলা হয়েছিল।

এদিকে পুরী থেকে প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর ও বরো চেয়ারম্যান সুশান্ত ঘোষকে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশের STF। পুলিশ সূত্রে খবর, ধরা পড়া থেকে বাঁচতে নিজের মোবাইল ফোন সুইচড্ অফ করে দিয়েছিলেন সুশান্ত ঘোষ। মুম্বইয়ে পরিবারকে পাঠিয়ে দিয়ে, নিজে পুরীতে লুকিয়ে ছিলেন তিনি। অভিযোগকারী ব্যবসায়ী বিপ্লব গায়েন বলেন, “সুশান্ত ঘোষ কাউন্সিলর হওয়ার পরে দোকানগুলোর প্যাসেজ ছোট করে দিয়েছে। ভেঙে ২০টা বানানো হয়েছে। এইবার এই এক্স্ট্রা দোকানগুলো ৫ লাখ, ৬ লাখ, ৭ লাখ যেমন পেরেছে ওইভাবে টাকা তুলেছে।” সব মিলিয়ে দিকে দিকে ভয়ঙ্কর অভিযোগ।



Source link

Leave A Reply

Your email address will not be published.