রুমা পাল, কৃষ্ণেন্দু অধিকারী, আবীর দত্ত, কলকাতা: শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় নন, বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্য়োপাধ্যায়ই। বিধানসভার স্পিকারের সিদ্ধান্তে কোনও হস্তক্ষেপ করল না কলকাতা হাইকোর্ট। কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ জারি করল না বিচারপতি কৃষ্ণ রাও-এর বেঞ্চ। কে বিরোধী দলনেতা তা নিয়ে আইনি লড়াইয়ের মধ্য়েই, বৃহস্পতিবার বিরোধী দলনেতার চেয়ার নিয়েও তপ্ত হল বিধানসভা।
আরও পড়ুন, রাজ্যের তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিধ্বংসী আগুন ! ঘটনাস্থলে একের পর এক দমকলের ইঞ্জিন
বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নিয়ে হাইকোর্টে ধাক্কা খেল কালীঘাটপন্থী তৃণমূল। বিরোধী দলনেতা পদে হাল রইলেন ঋতব্রত বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ জারি করল না হাইকোর্ট। ভোটে ভরাডুবির পর, তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায় বিধানসভার স্পিকারকে চিঠি দিয়ে জানিয়েছিলেন, বিরোধী দলনেতা হিসেবে শোভনদেব চট্টোপাধ্য়ায়কে বেছে নেওয়া হয়েছে। এরপর বিধানসভার স্পিকার নির্দেশ দেন, যে বৈঠকে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসাবে মনোনীত করা হয়েছে, সেই বৈঠকের প্রস্তাব, বিধায়কদের সই-সহ বিধানসভায় জমা দিতে হবে।
সেই মতো বিধায়কদের সই-সহ একটি চিঠি পাঠান অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। সেখানে ৭০ জন বিধায়কের সই ছিল। কিন্তু, তার মধ্য়ে একাধিক সই জাল বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর বিদ্রোহী তৃণমূল বিধায়কদের সমর্থনে, বিরোধী দলনেতা হন ঋতব্রত বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। তাতে সম্মতি জানান বিধানসভার স্পিকারও। এরপরই স্পিকারের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন শোভনদেব চট্টোপাধ্য়ায়। সেই মামলায়, বৃহস্পতিবারের শুনানিতে কোনও অন্তবর্তী নির্দেশ দিলেন না বিচারপতি কৃষ্ণ রাও।
জুলাই মাসে এই মামলার পরবর্তী শুনানি আছে। তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, আমরা বিরোধী দল। বিরোধী দলনেতার নাম শোভনদেব চট্টোপাধ্য়ায়।+ মানুষের দরবারে, বাংলার রাজনীতিতে সেটাই প্রতিষ্ঠিত থাকবে। মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের নেতৃত্বে তৃণমূল কংগ্রেস করব। কে বিরোধী দলনেতা তা নিয়ে আইনি লড়াইয়ের মধ্য়েই, বৃহস্পতিবার বিরোধী দলনেতার চেয়ার নিয়েও তপ্ত হয় বিধানসভা। অধিবেশন শেষে কুণাল ঘোষ দাবি করেন, বিরোধী দলনেতার আসনে বসেছিলেন শোভনদেব চট্টোপাধ্য়ায়ই।
বেলেঘাটা তৃণমূলবিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, বাঁদিকের প্রথম আসনটি স্পিকারের, একদম সামনের প্রথম আসনটি যেটি যুগে যুগে বিরোধী দলনেতারা পেয়ে এসেছেন, সেটি কিন্তু শোভনদেব চট্টোপাধ্য়ায়ের জন্য়ই আজ বরাদ্দ ছিল। চাটন-ঋত যেখানে বসেছিল, সেটা একটু পরে, দূরে। শিল্পমন্ত্রী ও বিজেপি বিধায়ক তাপস রায় বলেন, বিরোধী দলনেতা হিসাবে জয়নাল আবেদিন একটা জায়গায় বসতেন। বিরোধী দলনেতা হিসাবে অতীশ সিনহা একটা জায়গায় বসতেন। বিরোধী দলনেতা হিসাবে পঙ্কজ ব্য়ানার্জি একটা জায়গায় বসতেন। বিরোধী দলনেতার নির্দিষ্ট কোনও জায়গা ছিল না।
বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন, শুভেনদু অধিকারী যে আসনে বসতেন, সেই চেয়ারেই বসতে দেখা যায় বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্য়োপাধ্য়ায়কে।বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্য়োপাধ্য়ায় বলেন, যদি এই ভেবে উনি আনন্দ পান, শোভনদেব চট্টোপাধ্য়ায় বিরোধী দলনেতার আসনে বসেছেন, সমস্য়ার কী আছে? ঘটনাচক্রে আমি যে কালেক্টিভ টিমের মধ্য়ে আছি, আমার পজিশনের নাম বিরোধী দলনেতা। তাই আমি ওই সিটটায় বসেছি। এই সিটে ড. সূর্যকান্ত মিশ্রও বসেছেন। আব্দুল মান্নানও বসেছেন। বর্তমান মুখ্য়মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও বসেছেন। বিধানসভা ভোটের ফল বেরোনোর পর থেকে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে পদে পদে চমক।
TMC News: শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাবের খেলার মাঠের ঘর থেকে উদ্ধার প্রচুর ত্রাণ সামগ্রী
