Swarup Biswas Arrest: কার্ডে লেখা ‘অ্যাসিন্ট্যান্ট ডিরেক্টর’, কিন্তু কখনও সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজই করেননি স্বরূপ বিশ্বাস!
সুকান্ত মুখোপাধ্যায়, কলকাতা: অন্যায়ভাবে অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টরস গিল্ডের সদস্য হয়েছিলেন স্বরূপ বিশ্বাস। টালিগঞ্জের প্রাক্তন বিধায়ক অরূপ বিশ্বাসের ভাইয়ের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ আনলেন অভিনেত্রী ও যাদবপুরের বিজেপি বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায়। পাশাপাশি ছোট বিশ্বাসের বিরুদ্ধে তোলাবাজি-সহ একাধিক অভিযোগ করেছেন তিনি।
গ্রেফতারির পরেই ভুরি ভুরি অভিযোগ
আর ডিরেক্টরের চেয়ারে নেই ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’। হাত বদল হয়ে গেছে, লাইট-সাউন্ড-ক্যামেরার কন্ট্রোল। গ্রেফতারের পরই স্বরূপ বেরিয়ে পড়েছে বিশ্বাস-এর। সামনে আসছে তাঁর বিরুদ্ধে লম্বা নালিশের তালিকা। অন্যায়ভাবে গিল্ডের কার্ড দখল, তোলাবাজি, সিনেমা জগতে সিন্ডিকেটরাজ চালানো-সহ ভুরি ভুরি অভিযোগ উঠে আসছে অরূপ বিশ্বাসের ভাইয়ের বিরুদ্ধে। যিনি খাতায়কলমে ছিলেন অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টরস গিল্ডের সদস্য, কিন্তু জীবনে একটি ছবিতেও সহকারী নির্দেশকের ভূমিকা পালন করেননি তিনি।
কার্ডে লেখা, অথচ কখনও অ্যাসিন্ট্যান্ট ডিরেক্টর হিসেবে কাজই করেননি স্বরূপ বিশ্বাস!
কার্ডে সত্যিই তাঁর ডেসিগনেশন রয়েছে, অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর? যাদবপুরের অভিনেত্রী ও বিজেপি বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায় বলছেন, ‘অদ্ভুত! ছড়ি ঘোরাত সেই লোকটি। নতুন আর্টিস্ট হলে পরে, তাদের একটা কাটমানির বিষয় ছিল। গিল্ডের কার্ডের জন্য যে টাকাটা নেওয়া হত কেন? স্বরূপ বিশ্বাস, ২০১১ সালের পর থেকে এই ছেলেটিকে দেখেছি। এই ছেলেটি না কোনওদিন তাঁকে অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর দেখেছি।’ এখানেই শেষ নয়। স্বরূপ বিশ্বাস ও তাঁর দলবলের বিরুদ্ধে সামনে এসেছে আরও অভিযোগ। শর্বরী মুখোপাধ্যায় বলছেন, ‘২০২১-এর পর থেকে ৫টা বছর একদিনের জন্যও কাজ করতে পারিনি। একদিনের জন্যও স্টুডিওতে ঢুকতে পারিনি। আমি এতদিনের একজন আর্টিস্ট, আমি এখনও OTT-তে কোনও দিন কাজ করিনি, কারণ কাজ করতে দেওয়া হয়নি। এই বিশ্বাস ব্রাদার্স একটা ভিতরে ঢুকেছে, আর একজন কিউ, কিউতে আছেন। এরা ইন্ডাস্ট্রিটাকে যেভাবে ব্যবহার করল, গত ১৫ বছর ধরে সে তো মুখে বলার নয়।’
তৃণমূল আমলে কার্যত যে স্বরূপ বিশ্বাসের আঙুলের ইশারায় চলত স্টুডিওপাড়া। এখন ‘ছোট বিশ্বাস’ রয়েছেন গরাদের ওপারে। ইতিমধ্যেই শ্যুটিংয়ে ফিরেছেন, অনির্বাণ ভট্টাচার্য, দেবের সঙ্গে নতুন সিনেমার শ্যুটিং শুরু করেছেন তিনি। বিশ্বাস ব্রাদার্সের’ একাধিপত্য থেকে মুক্তি পিয়ে এবার কি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলবেন শিল্পী ও কলাকুশলীরা? জবাব দেবে সময়।
