Suvendu Adhikari : ‘তাঁদের ফেরত পাঠানো হবে’, জনগণনার সেল্ফ এন্যুমারেশন শুরুর আগেই বড় বার্তা শুভেন্দু অধিকারীর
কলকাতা : শনিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে গেল দেশের ১৬ তম জনগণনার প্রথম পর্যায়। সূচনা করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এবারই প্রথম সম্পূর্ণ ডিজিটাল সেল্ফ এনুমারেশন বা স্ব-গণনার চালু হয়েছে । ১ আগস্ট থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত । নাগরিকরা নিজেরাই অনলাইনে জনগণনার তথ্য জমা দিতে পারবেন।
নিজের সেল্ফ এনুমারেশন করেন মুখ্যমন্ত্রী
১ অগাস্ট থেকে শুরু হয়েছে এই প্রক্রিয়া। এর সূচনা করতে গিয়ে শনিবার নিজের সেল্ফ এনুমারেশন সম্পন্ন করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এরপর তিনি রাজ্যবাসীর উদ্দেশে জনগণনায় অংশগ্রহণের আবেদন জানান। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “এবারের জনগণনার দুটি বড় বৈশিষ্ট্য হল ডিজিটাল প্রক্রিয়া এবং সেল্ফ এনুমারেশন। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে আমিও নিজের তথ্য নিজেই জমা দিলাম। সাধারণ মানুষের কাছেও আবেদন, আপনারা নিজেরাই ফর্ম পূরণ করুন এবং জনগণনার কাজে সহযোগিতা করুন।”
১৫ আগস্ট পর্যন্ত সেল্ফ এনুমারেশন
এই কাজের প্রথম পর্যায়ে ১ আগস্ট থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত নাগরিকরা নির্ধারিত অনলাইন পোর্টালে গিয়ে সেল্ফ এনুমারেশন করতে পারবেন।
- আবেদনকারীদের উত্তর দিতে হবে মোট ৩৪টি প্রশ্নের ।
- জানাতে হবে ফর্মে বাড়ির তথ্য, পরিবারের সদস্যদের বিবরণ, বসবাস সংক্রান্ত তথ্য ইত্যাদি।
- অনেক ক্ষেত্রে ফর্ম ফিল আপে সাহায্য করতে পারে সরকারি প্রতিনিধিরাও।
- পুরো প্রক্রিয়াটি শেষ করতে বেশি সময় লাগবে না। ১০ মিনিটে কাজ শেষ হতে পারে।
- যাঁরা অনলাইনে তথ্য জমা দিতে পারবেন না, তাঁদের জন্য ১৬ আগস্ট থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সরকারি কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে সাহায্য ো তথ্য সংগ্রহ করবেন।
- এরপর দ্বিতীয় পর্যায়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের কাজ চলবে ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
সাংবিধানিক দায়িত্ব জনগণনা
অনলাইনে তথ্য জমা দেওয়া নিয়ে অনেকে মনে করতে পারেন যে, ব্যক্তিগত তথ্য বাইরে বেরিয়ে যেতে পারে। সে-ক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ থাকতে পারে সেই প্রসঙ্গেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আশ্বাস দিয়ে বলেন, “কারও কোনও ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হবে না। সমস্ত তথ্য নির্দিষ্ট নিয়ম মেনেই সংরক্ষণ করা হবে।”
জনগণনা প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ( Suvendu Adhikari ) বলেন, এটি কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং একটি সাংবিধানিক দায়িত্ব। “জনগণনার কাজ করা সরকারি কর্মীদের একটি সাংবিধানিক দায়িত্ব। রাজ্য সরকার আলাদা করে কিছু করছে না। সেনসাস অথরিটি অফ ইন্ডিয়ার গাইডলাইন অনুযায়ীই সমস্ত কাজ হবে।”
এই কাজের দায়িত্বে থাকছে, ৩,৪০০ জন সুপারভাইজার । দায়িত্বে থাকবেন মোট ১৪,৩৯৯ জন সরকারি কর্মী। তাঁরা যথাযথ প্রশিক্ষণও পেয়েছেন। দায়িত্বে থাকা সরকারি কর্মীদের সহযোগিতা করার জন্যও সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন জানান মুখ্যমন্ত্রী। তিনি সকলকে সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘বীরভূমে একটা ত্রুটি হয়েছিল আগের সরকারের আমলে। একজন ভারতীয়কে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আমাদেরও সতর্ক থাকতে হবে, যাতে একজন ভারতীয়ও সমস্যায় না পড়েন’
দেশের নাগরিক না হলে কী ব্যবস্থা ?
জনগণনা প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নাগরিকত্ব ও সীমান্ত-সংক্রান্ত বিষয়েও মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, জনগণনার সঙ্গে ভারতীয় এবং অ-ভারতীয় নাগরিকদের তথ্যের সম্পর্ক রয়েছে। অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে একই সঙ্গে প্রশাসনকে সতর্ক থাকার বার্তাও দেন তিনি। তাঁর কথায়, “আমাদের এমনভাবে কাজ করতে হবে, যাতে একজন প্রকৃত ভারতীয় নাগরিকও কোনও সমস্যার মুখে না পড়েন।” পাশাপাশি তিনি বলেন, শরণার্থীদের ক্ষেত্রে ২০১৯ সালের সংশ্লিষ্ট আইনের বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার, স্ব-গণনার সুযোগ এবং দ্রুত তথ্য সংগ্রহের ব্যবস্থা, সব মিলিয়ে এবারের জনগণনাকে দেশের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, “জনকল্যাণ ও বিকশিত ভারতের লক্ষ্য পূরণে আধুনিক জনগণনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সকলের সহযোগিতাতেই এই কর্মসূচি সফল হবে।”
