Voice of Eastern India

Suvendu Adhikari : কাশ্মীরের জঙ্গিদের টার্গেট তিনি ? হুমকি পেয়েছিলেন আরেক মন্ত্রীও? কী জানালেন শুভেন্দু অধিকারী?


কলকাতা : বর্ধমানের রেনেসাঁ হাউসিং থেকে জইশ-ই-মহম্মদের (Jaish-e-Mohammed) সাজ্জাদ ভাট গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত সন্দেহভাজন জঙ্গি হামিদ মণ্ডলকে গ্রেফতারের ঘটনায় রাজ্যজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। ধৃতের বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর গতিবিধির উপর নজরদারি চালানো, পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা ISI-এর সঙ্গে যোগাযোগ রাখা এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের মতো একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যেই শুক্রবার দুপুরে নবান্নে সাংবাদিক বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে মুখ্যমন্ত্রী কী বলেন?  

শুক্রবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “বর্ধমান থেকে কাশ্মীরের জঙ্গি গ্রেফতারের বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল। এই মুহূর্তে এ নিয়ে কোনও মন্তব্য করব না।” তবে তিনি জানান, শুধু তাঁর উপরই নয়, রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাইও জঙ্গিদের নজরে ছিলেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে বলেও ইঙ্গিত দেন মুখ্যমন্ত্রী। 

রাজ্যের প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাই বলেন, তিনি রাজ্যের মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে একাধিক বার হুমকি ফোন পেয়েছেন। তাঁর সন্দেহ ফোনগুলি পাকিস্তান থেকে এসেছে। তাঁর ছেলেকে অপহরণের হুমকিও দেওয়া হয়। তিনি একথা প্রকাশ্যে না জানালেও, তিনি পুলিশকে জানিয়েছিলেন। 

এর আগে রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF) সূত্রে জানা যায়, বর্ধমানের রেনেসাঁ হাউসিংয়ে আত্মগোপন করে ছিল হামিদ মণ্ডল। তদন্তে উঠে এসেছে, কিছুদিন নিউটাউনের একটি ঠিকানাতেও সে ছিল। তদন্তকারীদের অভিযোগ, এই সময়ে সে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি ও সংবেদনশীল স্থানের তথ্য সংগ্রহের কাজ চালিয়েছিল। STF-এর দাবি, হামিদ মণ্ডলের সঙ্গে জইশ-ই-মহম্মদের সাজ্জাদ ভাট গোষ্ঠী এবং পাকিস্তানের গুপ্তচর সংস্থা ISI-এর যোগাযোগ ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে সে জঙ্গি সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখত বলে অভিযোগ।

তদন্তকারী সংস্থার আরও দাবি, সাজ্জাদ ভাট গোষ্ঠী ও ISI-এর নির্দেশে হামিদ বিভিন্ন এলাকায় রেকি (Reconnaissance) চালাত। শুধু গুরুত্বপূর্ণ এলাকা নয়, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের গতিবিধির উপরও নজর রাখার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। পাশাপাশি জঙ্গি সংগঠনের জন্য নতুন সদস্য সংগ্রহের দায়িত্বও সে পালন করছিল বলে STF-এর দাবি। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, গত আড়াই থেকে তিন মাস ধরে সে এই কাজ চালিয়ে আসছিল।

ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তার ডিজিটাল ডিভাইস, যোগাযোগের নেটওয়ার্ক এবং সম্ভাব্য সহযোগীদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চলছে। তদন্তকারীদের লক্ষ্য, রাজ্যের মধ্যে আরও কোনও জঙ্গি চক্র সক্রিয় রয়েছে কি না এবং সংগৃহীত তথ্য কোথায় পাঠানো হচ্ছিল, তা খতিয়ে দেখা।  

 



Source link

Leave A Reply

Your email address will not be published.