উজ্জ্বল মুখোপাধ্যায়, মনোজ বন্দ্যোপাধ্যায়, কলকাতা : সকাল সকাল ঝাঁটা হাতে মুখ্যমন্ত্রী। বাগবাজারে নিজের হাতে পরিষ্কার করলেন ঐতিহ্যবাহী মায়ের ঘাট। গঙ্গার ঘাটে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ঝাড়ু হাতে সাফাই অভিযানে অংশ নিলেন রাজ্য মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্য। ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের মূল অনুষ্ঠান এবার কলকাতায় অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ওই মেগা ইভেন্টের আগে বিশেষ সাফাই অভিযান কর্মসূচি নিয়েছে রাজ্যের বিজেপি সরকার। তার নাম, ‘স্বচ্ছতা সে স্বাগত’।
২১ জুন প্রধানমন্ত্রীর রাজ্য সফরের আগের দিন, অর্থাৎ, ২০ জুন, ‘স্বচ্ছতা সে স্বাগত’ কর্মসূচি শেষ হবে। প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে সেই কর্মসূচিতে অংশ নিলেন মুখ্যমন্ত্রী। বাগবাজারে ঐতিহাসিক মায়ের ঘাটের সিঁড়িতে নিজে হাতে ঝাড়ু দিলেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর পাশাপাশি বাগবাজারে মায়ের ঘাটে ঝাঁট দিলেন শিল্পমন্ত্রী তাপস রায়, পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। উপস্থিত ছিলেন তথ্য সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী পূর্ণিমা চক্রবর্তী, ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ মন্ত্রী ইন্দ্রনীল খাঁ। দূষণমুক্ত গঙ্গার ঘাট। এই সঙ্কল্প নিয়ে শুরু হয়েছে কাজ। এদিন বাগবাজারে মায়ের ঘাট সাফাইয়ের আগে প্রথমে বৃক্ষরোপণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। ঘাটের সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে গঙ্গার দু’পাড় পরিদর্শন করেন তিনি।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘ বাগবাজার ঘাট, আহিরীটোলা ঘাট, শোভাবাজার ঘাট, মল্লিক ঘাট, বাবুঘাট, রামকৃষ্ণপুর ঘাট…এই ঘাটগুলির মধ্যে ২টির সৌন্দর্যায়নের কাজ শেষ হয়ে গেছে। মানে শেষ হওয়ার পথে। আর বাকি ৪টেও টেক আপ করতে বলা হয়েছে এবং দুর্গাপুজো পর্যন্ত টার্গেট দেওয়া হয়েছে। ‘ কলকাতায় বেশ কয়েকটি গঙ্গার ঘাট সংস্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার। একথা আগেই ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেইমতো বাগবাজার ঘাট, আহিরীটোলা ঘাট, শোভাবাজার ঘাট, মল্লিক ঘাট, বাবুঘাট, রামকৃষ্ণপুর ঘাটের সৌন্দর্যায়নের কাজ চলছে। দুর্গাপুজোর আগেই কলকাতার ঘাটগুলির সৌন্দর্যায়নের কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে রাজ্য সরকার।
এর আগে গতকাল, মঙ্গলবার দুর্গাপুরে ঝাঁটা হাতে স্বচ্ছতা অভিযানে নামেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। পরিষ্কার জানিয়ে দেন, যত্রতত্র ময়লা ফেলা হলে বা বাস থেকে থুতু বা পিক ফেলা হলে করা হবে আর্থিক জরিমানা। এদিন তিনি ঝাঁটা হাতে দুর্গাপুরের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা সিটি সেন্টার বাসস্ট্যান্ডে নিজে সাফাই অভিযানে নামেন। এদিন পশ্চিম বর্ধমান জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের সাথে ও দুর্গাপুর কর্পোরেশনের আধিকারিকদের সঙ্গে নিজে সাফাই অভিযানে যোগ দেন । সিটি সেন্টার বাসস্ট্যান্ডে, সাধারণ যাত্রী থেকে শুরু করে ব্যবসায়ী দোকানদার সকলকে সাবধান করেন এবং কাউকে কাউকে ঝাঁটা হাতে পরিষ্কার করতে বলেন নিজের দোকানের সামনের আবর্জনা । তিনি জানান, কলকাতা বা বিধাননগর কর্পোরেশনের মত হেল্পলাইন নম্বর রাজ্যের বাকি কর্পোরেশন গুলিতে শুরু হবে । সেখানে সাধারণ মানুষ পুরসভা অন্তর্গত যে কোন সমস্যার কথা জানাতে পারবে।
TMC News: শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাবের খেলার মাঠের ঘর থেকে উদ্ধার প্রচুর ত্রাণ সামগ্রী
