Sudip Bandyopadhyay Exclusive: “আমাকে সরিয়ে অভিষেককে নেতা করা হয়…”, কোন ব্যথার কথা বললেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়? কীই বা বললেন নতুন দল নিয়ে?
শিবাশিস মৌলিক, দিল্লি: ভেঙে খান খান তৃণমূলের সংসদীয় দল। স্পিকারের কাছে তৃণমূলের ২০ ‘বিদ্রোহী’ সাংসদ। আর ২০ নম্বর নামটা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের। জানা গিয়েছে, NDA-এর বন্ধু নতুন এক দলে নাকি যোগ দিচ্ছেন তাঁরা। ত্রিপুরার ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়ায় যোগ দিচ্ছেন তৃণমূলের ‘বিদ্রোহী’ সাংসদরা। আর এই নিয়ে এবিপি আনন্দের মুখোমুখি হয়ে কী বললেন সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়?
প্রশ্ন: আইনি জটিলতায় যদি যাওয়া হয়, তৃণমূল দল কাদের ৮ জনের নাকি ২০ জনের? সেই জটিলতা এড়িয়ে চলতেই কি NCPI?
সুদীপ: আমি যতদিন লোকসভায় আছি, যতদিন এই সংসদীয় রাজনীতিতে আছি, আমি জানি দলত্যাগ আইন তাদের প্রতি বর্তায় না, যদি দুই তৃতীয়াংশ সদস্য দল থেকে বেরিয়ে আসে। এটা লোকসভা হোক বা বিধানসভা হোক। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে সেটা সম্ভব হয়েছে। সুতরাং, আমার নিজের বিশ্বাস শেষ পর্যন্ত দলের যাবতীয় স্বীকৃতি এই দিকেই থাকবে।
প্রশ্ন: দলত্যাগ বিরোধী আইন নিয়ে একটা আলোচনা উঠে আসছে, সেই ক্ষেত্রে তৃণমূল ছাড়ার একটা সম্ভাবনা তৃণমূলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের? কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শতাব্দী রায়, তাঁদের সামনে দলত্যাগের একটা সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে?
সুদীপ: আমি তো দেখছি আমার থেকে ওরা বেশি শক্তিশালী। আরও বেশি শক্ত। মানে এই দলটাকে বাঁচিয়ে রাখার ক্ষেত্রে। ২০ নম্বর সইটা আমার। আমি আজ সেই সইটা স্পিকারের ঘরে গিয়ে করেছি। গতকাল পর্যন্ত যা প্রচার হচ্ছিল, আমার সই ছিল না। সুতরাং ২০ নম্বর সইটা আমার। এই দলটাকে জন্মলগ্ন থেকে তৈরি করা, এর সমস্ত সুখে দুঃখে, বিপদে আপদে থাকা, সব মিলিয়ে একটা ব্যথা তো থাকে মনের মধ্যে। কিন্তু কোনও উপায়ই নেই। এত সংখ্যায় মানুষ কেন বেরিয়ে আসছে, সেটাও ভাবতে হচ্ছে।
আরও পড়ুন: আজ জোড়া বৈঠকে বিদ্রোহী ব্লক, যোগ দিতে পারেন আরও ২ সাংসদ! আগামিকালই লোকসভায় আলাদা হয়ে যাছে তৃণমূল?
প্রশ্ন: উত্তর কলকাতার জেলা সভাপতির পদ থেকে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে বের করে দেওয়া হল, দলের পক্ষ থেকে। দল এমন সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। প্রতিষ্ঠাতা সদস্যকে কতটা অপমান করে? কতটা হেনস্থা করে? কতটা ব্যথিত করে?
সুদীপ: এর আগে আমি সংসদীয় দলের নেতা ছিলাম। আমাকে সরিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে সংসদীয় দলের নেতা করা হয়। একটা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে। আমি তার আগে ১৫ বছর দলের নেতা ছিলাম। ১৫ বছর চিফ হুইপ ছিলাম। তাহলে জিতেছি মোট, ১০ বার। লোকসভা আর বিধানসভা মিলিয়ে। আমার স্ত্রী চৌরঙ্গী বিধানসভা থেকে ৫ বার জিতেছে। তাহলে স্বামী আর স্ত্রী মিলিয়ে একটা পরিবার থেকে জিতেছে ১৫ বার, স্বাধীন ভারতে এমন দ্বিতীয় কোনও পরিবার নেই। তাদের কোনও জেলা সভাপতি থেকে কেউ রাখল, কেউ সরাল, এসব নিয়ে ভাবনা চিন্তা করার আমার কোনও সময় নেই।
Swapan Samaddar : ধৃত স্বপন সমাদ্দার, আদালতে নিয়ে যাওয়ার সময় তাকে ঘিরে ‘চোর চোর’ স্লোগান
