Rampurhat TMC Leader Death Mystery: ‘দুর্নীতি করিনি’, লেখা রয়েছে নোটে, রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী, ডেপুটি স্পিকার, বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার
ভাস্কর মুখোপাধ্যায়, রামপুরহাট: রহস্যমৃত্যু রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী তথা বিধায়ক আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের। বাড়ি লাগোয়া দলীয় কার্যালয় থেকে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হল তাঁর। ঘটনাস্থল থেকে একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়েছে, যার ছত্রে ছত্রে দুর্নীতিতে যুক্ত না থাকার কথা রয়েছে। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপি-র ধ্রুব সাহার কাছে পরাজিত হন আশিস। রাজ্যে পালাবদলের পর তৃণমূলের চেয়ারম্যানের পদও ছেড়ে দেন। (Asish Banerjee)
রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী বা বিধায়কই নন শুধু. বিধানসভার ডেপুটি স্পিকারও ছিলেন আশিস। তিনি তারাপীঠ উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যানও ছিলেন। ওই তারাপীঠ উন্নয়ন পর্ষদে ব্যাপক দুর্নীতি হয় বলে ভোটে জিতে আসার পর অভিযোগ তোলে বিজেপি। সেই নিয়ে শুরু হয় তদন্ত। রাজ্যের তরফে তারাপীঠ উন্নয়ন পর্ষদের জন্য বরাদ্দ, প্রায় ৫০০ কোটি টাকা নয়ছয় হয়েছে, তাতে আশিস-সহ অন্যরা জড়িত ছিল বলে অভিযোগ তুলেছিল বিজেপি। সুইসাইড নোটে তার উল্লেখ রয়েছে। (Rampurhat TMC Leader Death Mystery)
জানা যাচ্ছে, দুর্নীতির অভিযোগে একেবারে ভেঙে পড়েন আশিস। মনমরা হয়ে পড়েন তিনি। সুইসাইড নোটেও তার উল্লেখ রয়েছে। লেখা রয়েছে, তারাপীঠ উন্নয়ন পর্ষদে কোনও ক্ষমতা ছিল না তাঁর। জেনারেল মিটিংয়ে উপস্থিত থাকা ছাড়া কোনও প্ল্যান পাস করেননি, চেকে সই করেননি। তাই দুর্নীতির অভিযোগ ঠিক নয়। তিনি কোনও ভাবে দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। রামপুরহাট কলেজে অধ্যাপনার কথাও রয়েছে সুইসাইড নোটে। লেখা রয়েছে, দীর্ঘদিন অধ্য়াপনা করেছেন, ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে থেকেছেন, মিশেছেন। কখনও কোনও ছাত্রছাত্রীর থেকে টাকা নেননি। চিঠিতে বার বার করে লেখা রয়েছে, তিনি কোনও দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। চাকরি দুর্নীতি, আর্থিক দুর্নীতি, কারও থেকে টাকা নেওয়া, কোনও কিছুর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না তিনি। টাকার বিনিময়ে কিছু করে দেবেন বলে কখনও কাউকে বলেননি। রাজনৈতিক জীবনে বহু মানুষের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। কিন্তু টাকার বিনিময়ে কখনও কিছু করেননি। কলেজে অধ্য়াপনা করার সময়ও কোনও অন্যায় সুযোগ সুবিধা নেননি।
পরিবারের জন্যও বার্তা রয়েছে ওই সুইসাইড নোটে। পরিবারের লোকজনের উদ্দেশে লেখা রয়েছে, রাজনীতিতে আসা ভুল হয়েছে তাঁর। রাজনীতিতে এসে প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন। পরিবারের কেউ যেন কখনও রাজনীতিতে আসেন, তাও লেখা রয়েছে। লেখা রয়েছে, ভাইয়ে ভাইয়ে সম্পর্ক যেন বজায় থাকে। অর্থাৎ পারিবারিক কোনও সমস্যা যে ছিল না, তা বোঝা যাচ্ছে। চিঠির একেবারে শেষে লেখা রয়েছে, তাঁর মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী নয়।
বরাবর পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি ছিল আশিসের। নিজের এলাকায় তো বটেই, অনুগামীদের কাছে তিনি ছিলেন ‘মাস্টারমশাই’। যখনই মিছিল-মিটিংয়ে যেতেন, সাধারণ মানুষ থেকে দলী কর্মীরা ডাকতেন ‘স্যর’ বলে। দীর্ঘ সময় রামপুরহাট কলেজে অধ্যাপনা করার দরুণ সম্মান পেতেন সকলের কাছ থেকে। কিন্তু দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় ভাবমূর্তিতে কালি লাগে। সুইসাইড নোটে সেকথা ফুটে উঠেছে।
বীরভূম যখন একেবারে লাল-গড়, সেই সমই দু’-দু’বার রামপুরহাট থেকে বিধায়ক হন আশিস। তৃণমূল ক্ষমতায় আসার পর রাজ্যের মন্ত্রীও হন। জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত জেলা তৃণমূলের চেয়ার ছিলেন তিনি। সভাপতি ছিলেন অনুব্রত মণ্ডল। অনুব্রত জেলে যাওয়ার পর আশিসের হাত ধরেই তৃণমূলের সংগঠন দাঁড়িয়ে ছিল বীরভূমে। তাঁর কাছের লোকজন, রাজনীতি সম্পর্কে ওয়াকিবহাল সকলে জানিয়েছেন, সারাজীবন লড়াই করেছেন যিনি, এভাবে তাঁর মৃত্যু হতে পারে বলে ভাবতেও পারছেন না তাঁরা।
