Voice of Eastern India

Madan Mitra: মদন মিত্রর মুখে রাহুল-প্রিয়ঙ্কা-ককরোচদের ‘ভূয়সী প্রশংসা’, জ্ঞানেশ কুমারকে নিয়ে বিধায়ক বললেন…


কৃষ্ণেন্দু অধিকারী, কলকাতা : জ্ঞানেশ কুমার ইস্যুতে উত্তাল গোটা দেশ। দিকে দিকে দফায় দফায় চলছে বিক্ষোভ, প্রতিবাদ। জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি উঠেছে। শুধু ককরোচ জনতা পার্টি কিংবা জেন জি নয়, জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে পথে নেমেছে কংগ্রেসও। এবার গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা এবং কামারহাটি বিধায়ক মদন মিত্রর মুখে শোনা গিয়েছে, রাহুল গাঁধী এবং প্রিয়ঙ্কা গাঁধীর ভূয়সী প্রশংসা। তাঁর প্রশংসার তালিকায় রয়েছেন সিজেপি সমর্থক এবং আন্দোলনকারীরাও। সিজেপি নেতাদেরও প্রশংসা করেছেন তিনি। 

মদন মিত্র বলেছেন,  ‘গোটা ভারবর্ষ দুটো ইস্যুর দিকে তাকিয়ে আছে। একটা জ্ঞানেস কুমার ইস্যুতে সারা ভারতবর্ষব্যাপী বিজেপি বিরোধী আন্দোলন… জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং গ্রেফতার… রাহুল গাঁধী, প্রিয়ঙ্কা গাঁধী রাস্তায় শুয়ে পড়ছেন। আজকে প্রিয়ঙ্কা একদম দিল্লীর রাজপথে… প্রিয়ঙ্কা গাঁধী শুয়ে পড়েছেন। বাড়িতে রেখে এসেছেন দুটো লাশ। একটা লাশের নাম ইন্দিরা গাঁধী। আরেকটা লাশের নাম রাজীব গাঁধী। এগুলো সব দেশের মানুষ জানে। অন্যদিকে, পালিত হচ্ছে ‘২৫ বছর’। আন্দোলনটা অগ্নিগর্ভ যেকোনও মুহূর্তে হয়ে যাবে তার কারণ ভারতবর্ষের মেজর জনসংখ্যা জনবসতি হচ্ছে ৩৫- এর নীচে, ৩৫ থেকে ৪০। ফলে এই ককরোচ, জেন জি এদের যারা টিটকিরি করছে, তারা কিন্তু ভুল করছে, আন্ডার এস্টিমেট করছে। ২৫০-৩০০ এমপি এক জায়গায় চলে আসছে। রাহুল গাঁধী, প্রিয়ঙ্কা গাঁধী… ব্যাপক গণ আন্দোলনের একটা অগ্নিপথের সূচনা।’ 

পুজোর আগে কলকাতায় তসলিমা, ‘সম্ভব হলে ইডেন গার্ডেনে মহালয়ার অনুষ্ঠানে থাকব’, জানালেন লেখিকা 

তিনি আরও বলেছেন, ‘গণতন্ত্রের সংজ্ঞাটা কিন্তু আমি আমি আমি, এজেন্সি এজেন্সি এজেন্সি, আর কত কোম্পানি মিলিটারি – এটা নয়। ভারী বুটের আওয়াজ, কামান গোলা, রকেট লঞ্চার নয়। বাংলাদেশ, নেপাল, পাকিস্তান নয়। গণতন্ত্রের সংজ্ঞা হচ্ছে, অফ দ্য পিপল, ফর দ্য পিপল, বাই দ্য পিপল – মানুষের দ্বারা, মানুষের জন্য এবং মানুষের। যদি মানুষের জন্যই সরকার তার পথ থেকে সরে যেতে শুরু করে, তাহলে একদিন তো বিদ্রোহ হবেই। আপনি কতদিন চেপে রাখবেন… পশ্চিমবঙ্গে আর কিছু না হোক শুভেন্দু দৌড়াদৌড়ি করছে, চেষ্টা করছে। পারবে কি পারবে না, সেটা পরের প্রশ্ন। দুর্নীতি ধরছে। শুধু দুর্নীতি ধরলে আর কত ফ্লাইট বেড়েছে এটা দেখালে হবে। ফ্লাইটে যাওয়ার জন্য যে ট্যাঁকের জোর, সেটা থাকতে হবে। এই জেন জি এবং সিজেপি… এ ব্যাপারে কোনও সন্দেহ নেই মানুষের মনে একটা… পুজোর আগে মানুষ ভারাক্রান্ত… এই টিপিকাল পলিটিশিয়ান, যাদেরকে মানুষ মনে করে, পলিটিক্স ইজ দ্য লাস্ট রিসোর্স অফ স্কাউন্ড্রেলস… এই পলিটিশিয়ানদের অবস্থা খারাপ… আমিও তার মধ্যে পড়ি নিঃসন্দেহে… আমাকেও লোকে পছন্দ করছে না। কিন্তু এই বাস্তবটাকে কেউ মেনে নিতে পারছে না। মানুষ চাইছে নতুনদের হাতে… নতুনদের আহ্বান করছে।’ 

মদন মিত্র বলেছেন, ‘আমি বুঝতে পারছি চলতে ফিরতে, আমি মদন মিত্র একটা টিভি প্রোগ্রামে গেল যে কটা লোক দেখবে, মন্তব্য করবে, আর সেখানে ওই একটা বাচ্চা মেয়ে, খায় না মাথায় দেয়, নামও জানি না, নেহা বোরা… নেহা কক্করের নাম সবাই জানত, সেখানে নেহা বোরা। তাদের কোনও পার্টিতে… সর্বভারতীয় ভিত্তিতে কী… পায়ের তলার ভিত্তি সেইভাবে… কিন্তু তার একটা স্টেটমেন্ট নাড়া দিচ্ছে। রেস্তোরাঁয়, সিনেমা হলে, বিয়েবাড়িতে, রাজনৈতিক মহলে – সব জায়গায় আলোচনা হচ্ছে। এই যে সাপোর্ট… সবচেয়ে বড় কথা যেটা আমার মনে হয়, যেটা কেন্দ্রীয় সরকার খুব ইগনোর করছে, সারা পৃথিবীব্যাপী কিন্তু এদের সাপোর্ট রয়েছে। যেকোনওদিন দেখা যাবে, এদের সাপোর্টে কিন্তু লং আইল্যান্ড থেকে নিউ জার্সি, নিউ ইয়র্ক থেকে কানাডা, ব্রিস্টল থেকে শুরু করে রোম, পিটার্সবার্গ, ইতালি – সব জায়গায় কিন্তু রাস্তায় মিছিল বেরোবে। তার কারণ সারা পৃথিবীর মানুষ যারা ভারতবর্ষের নাগরিক, তাঁরা বুঝতে পারছেন যে ভারতবর্ষের তথাকথিত পলিটিকাল লিডারদের এবার যাওয়ার সময় এসেছে।’ 

মদন মিত্রর কথায়, ‘মানুষ বুঝতে পেরে গিয়েছে, মেনস্ট্রিমের যাঁরা পলিটিশিয়ান, তাঁরা শুধুমাত্র তাঁদের দলের যে স্বার্থ, সেই ব্যাপারেই তাঁরা ডেডিকেটেড। তাঁদের একমাত্র আগ্রহ তাঁদের পার্টি, তাঁদের পার্টির জয় এবং তাঁদের পার্টির শাসন ক্ষমতা ব্যাপারে। কিন্তু এই জেন জি- রা এরা পাগল, উন্মাদ। এরা কেউ প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য দৌড়োচ্ছে না। কিন্তু এরা দৌড়োচ্ছে যে, দেশে একটা অন্যায় হচ্ছে… একটা সিস্টেমকে চেঞ্জ… আমার আজকের শেষ কথা… জ্ঞানেশ কুমারকে যেতে হবে এবং উনি যাবেনই।’ 



Source link

Leave A Reply

Your email address will not be published.