Voice of Eastern India

Kunal Ghosh on Asish Banerjee: ‘পিঠের চামড়া গুটিয়ে নেবেন বলেছিলেন, কোনও ভদ্রলোক নিতে পারে না’, আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুতে বিজেপি নেতার গ্রেফতারি চাইলেন কুণাল ঘোষ


কলকাতা: দলীয় কার্যালয় থেকে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী, ডেপুটি স্পিকার তথা বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতা আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের। ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া ‘সুইসাইড নোট’ নিয়ে কাটাছেঁড়া চলছে, তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। আশিসের মৃত্যুতে প্রভাব পড়েছে রাজ্য রাজনীতিতেও। উদ্ধার হওয়া নোটে যা লেখা রয়েছে এবং শেষ পর্যন্ত যে চরম সিদ্ধান্ত নিলেন আশিস, তার জন্য রাজ্য রাজনীতির বর্তমান পরিস্থিতির দিকে আঙুল তুললেন তৃণমূল বিধায়ক, ‘কালীঘাট শিবিরে’র কুণাল ঘোষ। তাঁর মতে, মানুষকে কলঙ্কিত করে দেওয়া, চোর বলে দাগিয়ে দেওয়া, ডিম মারা, পুলিশ দিয়ে ভয় দেখানোর যে ‘ট্রেন্ড’ শুরু হয়েছে, তার জ্বলন্ত প্রমাণ আশিস। (Asish Banerjee Death Mystery)

আশিসের মৃত্যুতে বীরভূমের পাশাপাশি, রাজ্য রাজনীতিতেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সব দলের রাজনীতিকরাও গোটা ঘটনায় শোকস্তব্ধ। সেই আবহেই মুখ খুলেছেন কুণাল। তাঁর বক্তব্য, “এই যে একটা ট্রেন্ড চলছে-কাউকে কলঙ্কিত করে দাও, চোর বলে দাও, দুর্নীতিগ্রস্ত বলে দাও, ডিম মারো, পুলিশ দিয়ে ভয় দেখাও…কোনও অভিযোগ প্রমাণের আগেই সামাজিক ভাবে কলঙ্কিত করার চেষ্টা চলছে। ভয় দেখানো হচ্ছে, ডিম মারা হচ্ছে, আতঙ্কিত করা হচ্ছে মানুষকে, চাপ বাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে মনের উপর। আশিসের মৃত্যু এর জ্বলন্ত উদাহরণ।” (Kunal Ghosh on Asish Banerjee)

২১ জুলাই উপলক্ষে কলকাতা আসার সময় আশিসের সঙ্গে ঘটা একটি ঘটনারও এদিন উল্লেখ করেন কুণাল। তিনি বলেন, “কয়েক দিন আগের সেই ভিডিও প্রকাশ্যে আছে। আপনারা দেখিয়েছেন। ২১ জুলাই তিনি যদিও ভাল তৃণমূলের অনুষ্ঠানে যাচ্ছিলেন। তাঁকে এক বিজেপি নেতা মাঝরাস্তায় যেভাবে অপমান করেছেন…বলেছেন, ‘বয়স কম হলে পিঠের চামড়া গুটিয়ে নিতাম’, এটা কোনও ভদ্রলোক নিতে পারবে না। এই ঘটনা যদি আত্মহত্যা হয়ও, বিজেপি-র ওই গুন্ডাটাকে অ্যারেস্ট করা উচিত। ফেসবুকে সেই ভিডিও পোস্ট করেছেন কুণাল।

আরও পড়ুন: ‘দুর্নীতি করিনি’, লেখা রয়েছে নোটে, রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী, ডেপুটি স্পিকার, বর্ষীয়ান তৃণমূল নেতার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার

এদিন সকালে বাড়ি লাগোয়া দলীয় কার্যালয় থেকে আশিসের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। সেখান থেকে উদ্ধার হয় একটি নোটও, যা ‘সুইসাইড নোট’ বলে মনে করছে পুলিশ, তা নিয়ে কাটাছেঁড়া শুরু হয়েছে। কারণ ওই নোটে লেখা রয়েছে, ‘আমাকে কালিমালিপ্ত করার জন্য যা সব করা হল, তাকে ধিক্কার জানাই। আজ তাই মনে হচ্ছে, রাজনীতিতে আসাটাই ভুল হয়েছে। আমার বংশের ছেলেদের রাজনীতি না করারই পরামর্শ দিচ্ছি। ওরা ওদের নিজ নিজ কাজের মধ্যেই থাক’।

ক্ষমতায় আসার পর তারাপীঠ উন্নয়ন পর্ষদে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিল বিজেপি। একসময় পর্ষদের মাথায় থাকা আশিসের দিকেও আঙুল ওঠে সেই নিয়ে। সেই নিয়ে নোটে লেখা হয়েছে, ‘TRDA-তে জেনারেল মিটিং ছাড়া আর কোনও দায়িত্ব ছিল না। আমি টেন্ডার কমিটিতে ছিলাম না। আমার চেক পাওয়ার ছিল না। আমি প্ল্যান পাস বা নো অবজেকশন সার্টিফিকেট ইস্যুর ব্যাপারেও ছিলাম না। ছাত্রাবস্থা থেকেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। কোনও দিন কোনও দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত হইনি। বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক হয়েছি। সেখানেও কোন দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত হইনি। রাজনৈতিক বাকবিতণ্ডা হয়েছে। কখনও তা শত্রুতার রূপ নেয়নি। সর্বদা দলীয় সব অন্যায় মেনে নিতে না পারলেও প্রতিবাদ করতে পারিনি। সারাজীবনে এক পয়সা কোনও কাজের বিনিময়ে নিইনি আমি। যেসব ছেলেরা অ্যাটেন্ড্যান্ট হয়েছেন, তাঁদের থেকে একটা মিষ্টি পর্যন্ত খাইনি’।

আরও পড়ুন: ‘আমরা আর রাজনীতিতে নেই’, কান্নায় ভেঙে পড়লেন আশিস বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের ভাইপো

দুর্নীতির অভিযোগ, সেই নিয়ে টিকা-টিপ্পনিতে আশিস মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েছিলেন, দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন বলে জানাচ্ছেন তাঁর অনুগামী থেকে আশপাশের লোকজনও। রামপুরহাট পুরসভার প্রাক্তন ভাইস চেয়ারম্যান তথা তৃণমূল নেতা সুকান্ত সরকার বলেন, “নানা রকম মন্তব্যগুলো মেনে নিতে পারেননি। একজন সৎ মানুষ। বাড়িতে বসে গেলেন প্র্যাক্টিক্যালি। দুঃখ পাচ্ছিলেন। ওঁর কোনও শত্রু ছিল না। সবার সঙ্গে ভাল ব্যবহার করতেন। সচরাচর যা করেন না, কাল ফেসবুকে ছবিও দিয়েছিলেন। এরকম হয়ে যাবে ভাবিনি।”



Source link

Leave A Reply

Your email address will not be published.