Kakoli Ghosh Dastidar: ‘কেউ হাসপাতালে ভর্তি করতে চাননি, আমি সারা রাত ওঁর পাশে…’, কেমন ছিল মমতা-কাকলির চার দশকের সম্পর্ক?
কলকাতা: সাতের দশকে ছাত্র রাজনীতি দিয়ে শুরু। তারপর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে আলাপ। তখন থেকেই তাঁর ছায়াসঙ্গী কাকলি ঘোষ দস্তিদার। বারাসাতের চার বারের সাংসদ। কিন্তু ভোটে দলের ভরাডুবি ও লোকসভায় পদ হারানোর পর সেই কাকলি ঘোষ দস্তিদারই এখন বেসুরো। তবে তিনি ভোলেননি পুরনো দিনের কথা, ভোলেননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক। যেদিন তিনি লোকসভার ভেতরে তৈরি করা একটি আলাদা ব্লক বা গোষ্ঠীর মুখ হয়ে উঠলেন, নেতৃত্ব দিলেন বিরোধী ব্লকের, সেদিনই তাঁর মুখে শোনা গেল, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর পুরনো সম্পর্কের কথা!
এদিন এবিপি আনন্দে ‘ঘণ্টাখানেক সঙ্গে সুমন’ অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে কাকলি ঘোষ দস্তিদার বলেন, ‘আমি দীর্ঘদিন থেকে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। প্রায় ৪২ বছর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কাজ করছি। আমি আজকে রাজনীতিতে আসিনি। ২০১১ সালের পরেও সুখের পায়রার মতো আসিনি। উনি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) ১৯৮৪ সালে যখন যাদবপুর লোকসভা থেকে দাঁড়িয়েছেন, তখনও কর্মী হিসেবে কাজ করেছি। তারও আগে থেকে ওঁর সঙ্গে আমার পরিচয়। ২০১১-র আগে বাংলার মানুষের স্বার্থে যতগুলো আন্দোলন হয়েছে.. সে সিঙ্গুর হোক বা নেতাই, সমস্ত জায়গায় ওঁর পাশে ছিলাম। মার খেয়েছি। উনি মরতে মরতে বেঁচেছেন, ওঁকে কোনও ডাক্তার ভর্তি করতে চাননি, তিনি সুদর্শন ঘোষ দস্তিদারের আন্ডারে কর্মরত ছিলেন। আমি সারারাত ওঁর পালস ধরে বসে থাকতাম। তাই যাঁরা আজ ট্যুইটারে লিখছেন, আমি নাকি বিশ্বাসঘাতক.. তখন তাঁরা বোধহয় জন্মান ও নি।’
১৯৭৬ সালে, যোগমায়া দেবী কলেজে তখন কংগ্রেসের ছাত্র সংগঠন ছাত্র পরিষদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ১৯৭৯ সাল থেকে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজে ছাত্র পরিষদ করেছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। ছাত্র রাজনীতির সময়কাল থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁর আলাপ। দিনে দিনে যে সম্পর্ক ক্রমেই জোরদার হয়। ১৯৮৪ সালে যাদবপুরে সিপিএমের সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়কে হারিয়ে লোকসভায় যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তখন থেকে কার্যত মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের অন্যতম ছায়াসঙ্গী কাকলি। এই সম্পর্ক আরও জোরালো হয়, যখন ১৯৯৬ সালে যাদবপুর বিধানসভা কেন্দ্রে, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যর বিরুদ্ধে কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে কংগ্রেসে টিকিট প্রার্থী করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
১৯৯৮ সালে তৈরি হয় তৃণমূল। ওই বছরেই (১৯৯৮) ডায়মন্ড হারবার লোকসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের হয়ে দাঁড়ান কাকলি ঘোষ দস্তিদার। পরের বছর হাওড়া লোকসভা কেন্দ্রে লড়েন তিনি। ২০০১ সালে বালিগঞ্জ বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূলের টিকিটে লড়েন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। ২০০৫ সালের পুরভোটে কলকাতার ৮৮ নম্বর ওয়ার্ডে, কংগ্রেস প্রার্থী মালা রায়ের বিরুদ্ধে লড়েছিলেন তৃণমূলের কাকলি। আর ২০০৯ থেকে টানা চারবার বারাসাত লোকসভা কেন্দ্র থেকে জিতেছেন তিনি। অর্থাৎ ১৯৮৪ থেকে ২০২৬…আক্ষরিক অর্থেই চার দশক ধরে মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের সঙ্গে রয়েছেন তিনি। তবে আজ.. বিরোধী ব্লকের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তিনি। কাকলি ঘোষ দস্তিদার বলছেন, ‘আমি ৫টা নির্বাচনে লড়েছি, উনি বলেছিলেন বলে। মার খেয়েছি, রাতে আটকে রেখেছে.. কিন্তু লড়াই ছাড়িনি। লড়াইয়ের ময়দানে ছিলাম। কারণ আমার একটা রাজনৈতিক পরিচিতি রয়েছে।’
