Voice of Eastern India

Gaighata Case: ‘থানা থেকেই বলেছে এনকাউন্টার করে দেবে’, প্রহ্লাদ দাসের এনকাউন্টার নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন তার পরিবারেরই একাংশ


গাইঘাটা: নাবালিকাকে ধর্ষণ-খুনে ধৃত অভিযুক্ত প্রহ্লাদ দাসের এনকাউন্টারের পর নির্যাতিতার বাবা বললেন, “যেভাবে এনকাউন্টার করেছে খুব ভালই করেছে”। পুলিশকে সমর্থন করেছে এনকাউন্টারে নিহতের ভাইও। অন্যদিকে, চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন প্রহ্লাদ দাসের আত্মীয়দের একাংশ।

আরও পড়ুন: ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব উড়ানে, ব্যাহত একাধিক শহরের উড়ান পরিষেবা, বাতিল হয়েছে কলকাতা থেকে একাধিক বিমান

ক্লাস ইলেভেনের ছাত্রী। স্বপ্ন ছিল পড়াশোনা করে পরিবারের অভাব দূর করা। কিন্তু রবিবারই মর্মান্তিক পরিণতি হয় উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটার এই নাবালিকার। তাকে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ ওঠে। লক্ষ্মীপুজোর সকালেই উদ্ধার হয়েছিল নাবালিকার নিথর দেহ।

নিহত নির্যাতিতার বাবা এদিন কাঁদতে কাঁদতে বলেন, “মেয়ে ইলেভেনে পড়ত। বলেছিলাম, তুই যেটুকু পড়তে পারিস, আমি তোকে পড়াব। আমি জানি যে, আমার যা হয়েছে আর কোল যেন খালি না হয়। পুলিশ খুব দ্রুত বেগে কাজ করছে, এটাই আমি শান্তি পেয়েছি। যে আর যেন কারও কোল খালি না করে কেউ। আমার মেয়েকে তো আর খুঁজে পাব না। আমার মেয়েকে কি আর ফিরিয়ে দিতে পারবে? যেভাবে এনকাউন্টার করেছে, খুব ভালই করেছে।”

যদিও চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন নিহত প্রহ্লাদ দাসের আর এক আত্মীয়। তিনি বলেন, “যেদিন ধরে নিয়ে গেছে, সেদিনই বলেছে এনকাউন্টার করতে হবে। ওই থানার থেকেই বলেছে।” সেই আত্মীয় আরও বলেন তাঁদের সরাসরি কিছু না বললেও প্রহ্লাদ দাসের বাবা ও মা শুনে এসেছে এই কথা। কী শুনেছেন তাঁরা? প্রহ্লাদের ওই আত্মীয় বলেন, “বলছে আপনারা মনে পাষাণ দিয়ে থাকেন, ওর এনকাউন্টার করে দেবে। যেদিন ধরে নিয়ে গিয়েছিল ওইদিনকেই বলেছে।”

নিহত নাবালিকার পরিবারের দাবি, শনিবার আত্মীয়দের সঙ্গে বাজারে গিয়েছিল ওই নাবালিকা। তারপর সেখান থেকে সে নিখোঁজ হয়ে যায়। নির্যাতিতার মামা বলেন, “লক্ষ্মীপুজোর দিন বিকেলে ও ওর মামি মিলে বাজার করে, বাড়িতে ফিরে পুজোর আয়োজন শেষ করে, বাড়ি থেকে বাজারে একটা অনুষ্ঠান ছিল, সেই অনুষ্ঠানে ওরা গিয়েছিল। যাওয়ার পর ওখান থেকে ছিল, অনুষ্ঠানে সে ছিল। সেখান থেকে নিখোঁজ হয়ে যায়, আমরা বুঝতেও পারিনি কেউ পরিবারের কেউ। সবাই ভেবেছে অনুষ্ঠানেই আছে। তারপর খোঁজাখুঁজির পরে ভোররাত থাকতে যখন শুনতে পাওয়া যায়, এই অবস্থা।”

রবিবার সকালে উদ্ধার হয় নাবালিকার দেহ। পরিবার ধর্ষণ-খুনের অভিযোগ তোলার পর প্রহ্লাদ দাসকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এনকাউন্টারে নিহত ক্যামেরার সামনে স্বীকার করে তার ওই নাবালিকার উপর রাগ ছিল। কারণ হিসাবে সে জানায় তার মাকে নাকি ওই নাবালিকা গালিগালাজ করেছিল। আর সেই কারণেই সে গলা টিপে হত্যা করে তাকে।

এনকাউন্টারে প্রহ্লাদ দাসের মৃত্যুর পর, পুলিশকে সমর্থন করেছে তার ভাই। প্রহ্লাদের ভাই বলেন, “পুলিশ যেটা করেছে, সেটাই ঠিক করেছে। আমি কিছু বলতে চাই না।” প্রহ্লাদ দাসের এক আত্মীয়ও বলেন, “মেয়েটাকে মার্ডার করেছে ও নিজে মুখে স্বীকার করেছে। আমাদের কাছেও স্বীকার করছে। আমরাও নিজে মুখেই যখন স্বীকার হয়েছে মার্ডার করেছে, এবার ওর যা শাস্তি ওকে দিয়েছে।”

সেই আত্মীয় আরও স্বীকার করেন, প্রহ্লাদ কোনও দিনই আগ্নেয়াস্ত্র বা বন্দুক চালাতে পারত না। আর এবার এনকাউন্টারের পর নাবালিকাকে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগে ধৃত প্রহ্লাদ দাসের এনকাউন্টার নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন তার পরিবারেরই একাংশ। 



Source link

Leave A Reply

Your email address will not be published.