সন্দীপ সরকার, সুদীপ্ত আচার্য, কলকাতা: খুঁটিপুজো নিয়ে বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জের। ১০ দিন ধরে তালা ঝুলিয়ে রাখা হল পদ্মপুকুর পার্কের সমস্ত গেটে। বিবাদের জেরে এক সময় এন্টালি থানাতেও ঝোলানো হয়েছিল তালা। এবিপি আনন্দে খবর সম্প্রচারের পর পার্কের তালা ভাঙলেন পুরসভার কর্মীরা।
কলকাতা পুরসভার পার্ক,সেখানে ১০ দিন ধরে ঝুলল তালা,ঢুকতে পারেনি সাধারণ মানুষ।এমনকি কয়েক ঘণ্টার জন্য তালা ঝোলানো হয়েছিল থানাতেও। চলে বিক্ষোভ।খাস কলকাতার বুকে বিজেপির গোষ্ঠীকোন্দল। যার জেরে এই দুই ছবি ধরা পড়েছে ,এন্টালিতে।ঘটনার সূত্রপাত খুঁটিপুজোকে কেন্দ্র করে। ১২ অগাস্ট, কলকাতা পুরসভার পদ্মপুকুর পার্কে দুর্গাপুজোর খুঁটিপুজো হয়। অভিযোগ, ২ দিনের মাথায় ১৪ অগাস্ট রাতে কেউ পার্কে ঢুকে সেই খুঁটি উপড়ে দেয়।ঘটনা জানাজানি হতেই, পার্কের সমস্ত গেটে কেউ বা কারা তালা ঝুলিয়ে দেয়। এই নিয়ে একে অন্যের দিকে আঙুল তুলছে বিজেপির দুই গোষ্ঠী।
পদ্মপুকুরের বিজেপি কর্মী বলেন, দিলীপ রামরাই এটা করেছে। ওরাই খুঁটি উপড়েছে। আমরা কিছু করিনি। ওরাই এসে ঝামেলা করেছে পদ্মপুকুর পার্কে। খুঁটি ফেলে দিয়েছে, তালা মেরে দিয়েছে। পার্কের সব গেটে তালা। কীভাবে পুজো হবে, চিন্তায় পড়ে যান এলাকার সাধারণ মানুষ। পদ্মপুকুর বাসিন্দা বলেন, আগের যে সরকারে যিনি ছিলেন, তাদের সময়ে কিন্তু এই পার্কটা তালা মারা থাকত, বন্ধ থাকত। যখন বিজেপি সরকারে আসল, তখন কিন্তু এটার তালা খুলে দেওয়া হয় সাধারণ মানুষদের জন্য। লোকাল কিছু লোক, তাঁদের উদ্দেশ্য হয়তো ঠিক না পুজোকে নিয়ে। তারা এসে এখানে তালাটা মেরে দিয়ে যায়। প্যান্ডেল করব সমস্ত কিছু, আমরা কোনওরকমে কাজ শুরু করতে পারছি না। এবিপি আনন্দে এই খবর সম্প্রচারের পর, শনিবার পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে পার্কের একটি গেটের তালা ভাঙেন পুরসভার কর্মীরা।
পদ্মপুকুরের বাসিন্দা বিজয় সাউ বলেন,’পুরসভা এখন একটা গেটে ভেঙে তালা মেরেছে। এটা পুরসভাই এবার খুলবে, পুরসভাই বন্ধ করবে। এবার যদি তালা মারামারি পুরসভার বিরুদ্ধে গিয়ে করে, তাহলে এবার আমরা শান্ত থাকব না। আমাদের এই পুজো করা দরকার, আর আমি এই পুজো করে ছাড়ব।’এর আগে খুঁটি উপড়ানোর প্রতিবাদে, ১৪ অগাস্ট রাতেই লোকজন নিয়ে এন্টালি থানায় হাজির হন বিজেপি নেতা সুদীপ রাম। তিনি বিজেপির উত্তর কলকাতার সাধারণ সম্পাদক ও হিন্দু সেবা দলের রাজ্য সভাপতি। থানার মেন গেটে চেন লাগিয়ে তালা ঝুলিয়ে দেন এই বিজেপি নেতা।থানার বাইরে বসে পড়েন বিজেপির কর্মীরা। ভাইরাল এই ভিডিওতে পুলিশকে হুঁশিয়ারিও দিতে শোনা যায় বিজেপি নেতাকে।উত্তর কলকাতার বিজেপি সাধারণ সম্পাদক সুদীপ রাম বলেন , শুভেন্দুদা বলছেন, ধর্মের অপমান চলবে না। এন্টালির OC বলছেন, ধর্মের অপমান হবে। এই দালাল এন্টালির OC। সবাইকে বলছি বসে থাকুন। ‘থানার সামনে দেখা যায় সুদীপ রামের দাদা দিলীপ রামকেও। যিনি বিজেপির স্বাস্থ্য পরিষেবা সেলের কো কনভেনার।
বিজেপির স্বাস্থ্য পরিষেবা সেলের কো কনভেনার দিলীপ রাম বলেন, হিন্দু হয়ে আমরা পুজো করছি, এখানকার মানুষদের কথা শুনে। আর এই মিরাজ (এন্টালি থানার অফিসার) বলছে লিখিত দিতে। দেব, মিরাজ দেব দেব, লিখিত দেব। হাইকোর্টে রিট ফাইল। এবার ডবল বেঞ্চে যাব, তুই এর অবস্থা দেখবি। দালালি করছিস। কর দালালি। লালবাজার থেকে ডাক, ভবানীভবন থেকে ডাক ফোর্স ডাকার, যত ডাকার আছে ডাক। এইভাবে ১৪ অগাস্ট সারা রাত এন্টালি থানায় তালা ঝুলিয়ে রাখা হয়। ভোরবেলা খোলা হয় তালা। উত্তর কলকাতার বিজেপি সাধারণ সম্পাদক সুদীপ রাম বলেন, থানার তালা আমি লাগিয়েছি। আমি তালা খুলেছি। তার জন্য যা শাস্তি দেওয়ার দিয়ে দিক। কিন্তু মা দুর্গার অপমান, সনাতনের অপমান যারা করেছে, তাদেরকেও উপরওয়ালা শাস্তি দিক। ‘বিজেপি নেতা দিলীপ রামের অবশ্য দাবি, থানায় তালা মারার পর আমি গেছি। কে তালা মেরেছে আমি জানি না। আমি সরকারি আইনজীবী, আমি এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করব না। থানায় চড়াও হওয়ার ঘটনায় মামলা রুজু করেছে এন্টালি থানার পুলিশ। সূত্রের খবর, দিলীপ রাম-সহ বেশ কয়েকজন বিজেপি কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
BJP News: পালাবদলের সাড়ে ৩ মাসেই বিজেপিতে তোলাবাজির কাঁটা
