Biryani: বিরিয়ানিতে মরা মাছি! গ্রাহককে ১০ প্লেট ফ্রি বিরিয়ানি ও ১০,০০০ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ আদালতের
নয়া দিল্লি: খাবারে মাছি পাওয়া নিয়ে এক রেস্তোরাঁকে এই ভুলের জন্য বড়সড় মাশুল গুনতে হল। বিরিয়ানির মধ্যে মরা মাছি পাওয়ার অভিযোগে এক গ্রাহককে ১০,০০০ টাকা ক্ষতিপূরণ এবং সঙ্গে ১০ প্লেট ফ্রি বিরিয়ানি দেওয়ার নির্দেশ দিল উপভোক্তা আদালত।
খাবারের গুণগত মান এবং পরিচ্ছন্নতা নিয়ে আদালতের এই রায় বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে।
ঠিক কী ঘটেছিল?
রিপোর্ট অনুযায়ী, পুদুচেরির এমজি রোডে অবস্থিত ‘বিরিয়ানি অ্যান্ড কোং’-এর বিরুদ্ধে পি. সুন্দরকুমারা মানিকন্দন এই অভিযোগটি দায়ের করেছেন। এক ব্যক্তি একটি জনপ্রিয় রেস্তোরাঁ থেকে বিরিয়ানি অর্ডার করেছিলেন। খাওয়ার সময় তিনি লক্ষ্য করেন যে বিরিয়ানির ভেতরে একটি মরা মাছি রয়েছে। এই অস্বাস্থ্যকর খাবার দেখে তিনি অত্যন্ত বিরক্ত হন এবং রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ জানান। কিন্তু রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে তেমন কোনো সদর্থক পদক্ষেপ না নেওয়ায়, ওই গ্রাহক ন্যায়বিচারের আশায় উপভোক্তা আদালতের (Consumer Court) দ্বারস্থ হন।
পরিদর্শনের সময়, তাঁরা পরিবেশন করা বিরিয়ানিতে একটি মৃত পোকা দেখতে পান বলে অভিযোগ করেছেন। অভিযোগকারী তাৎক্ষণিকভাবে ভিডিও রেকর্ড করে এবং ছবি তুলে ঘটনাটি নথিভুক্ত করেন। তিনি দাবি করেন যে, পোকাটির উপস্থিতি ওই প্রতিষ্ঠানে দুর্বল স্বাস্থ্যবিধির পরিচায়ক। তিনি আরও দাবি করেন যে, এই ঘটনাটির কারণে তিনি মানসিক যন্ত্রণা, সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকির ভয় এবং একজন ভোক্তা হিসেবে আস্থার সঙ্কটে পড়েছেন।
আদালতের কড়া নির্দেশ
আদালতে মামলার শুনানির সময় রেস্তোরাঁর এই চরম গাফিলতি প্রমাণিত হয়। উপভোক্তা সুরক্ষা আদালত স্পষ্ট জানায় যে, গ্রাহকদের স্বাস্থ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অধিকার কোনো রেস্তোরাঁর নেই।
আরও পড়ুন, দিঘার জগন্নাথ মন্দিরের সঙ্গে আর ব্যবহার হবে না ‘ধাম’ শব্দ, প্রত্যাহার করল রাজ্য সরকার
মামলার রায় দিতে গিয়ে আদালত রেস্তোরাঁ কর্তৃপক্ষকে নিম্নলিখিত নির্দেশগুলো দেয়:
আর্থিক ক্ষতিপূরণ: মানসিক হয়রানি এবং অস্বাস্থ্যকর খাবার পরিবেশনের জন্য গ্রাহককে ১০,০০০ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
ফ্রি বিরিয়ানি: ক্ষতিপূরণের পাশাপাশি ওই গ্রাহককে ১০ প্লেট একদম বিনামূল্যে (Free) বিরিয়ানি দিতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রায় সাধারণ গ্রাহকদের অধিকার রক্ষায় একটি বড় দৃষ্টান্ত স্থাপন করল। কমিশন রায় দিয়েছে যে, দূষিত খাবার পরিবেশন করা ২০১৯ সালের ভোক্তা সুরক্ষা আইনের অধীনে ‘পরিষেবার ত্রুটি’ হিসেবে গণ্য। রেস্তোরাঁটিকে দায়ী করে কমিশন অভিযোগকারীকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আদেশ দিয়েছে।
