Voice of Eastern India

Abhishek Banerjee : এই প্রশ্নে CID কে এক্কেবারে বিপরীত জবাব কুণাল-অভিষেকের ! কে বললেন সত্যি, কে মিথ্যে ?


আশাবুল হোসেন, কৃষ্ণেন্দু অধিকারী, কলকাতা : বিধানসভার সই জালিয়াতিকাণ্ডের তদন্তে নতুন মোড়। রবিবার প্রায় আট ঘণ্টা ধরে জিজ্ঞাসাবাদের পর তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করে CID। রাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থার দাবি, জেরার সময় অন্তত দুই থেকে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে দু’জনের বয়ানে অসঙ্গতি ধরা পড়েছে।

CID সূত্রে খবর, বিধানসভায় বিরোধী দলনেতা নির্বাচন সংক্রান্ত একটি বৈঠককে কেন্দ্র করেই মূলত প্রশ্ন করা হয় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও কুণাল ঘোষকে। তদন্তকারীরা জানতে চান, ওই বৈঠকে শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে মনোনীত করার জন্য কোনও আনুষ্ঠানিক রেজলিউশন গৃহীত হয়েছিল কি না।

তদন্তকারী সংস্থার দাবি, এই প্রশ্নের উত্তরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানান যে বৈঠকে রেজলিউশন নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু একই প্রশ্নের উত্তরে কুণাল ঘোষ দাবি করেন, ওই বৈঠকে কোনও রেজলিউশনই গৃহীত হয়নি। এই পরস্পরবিরোধী বক্তব্য তদন্তকারীদের নজরে এসেছে বলে সূত্রের দাবি। ঘটনার সূত্রপাত বিধানসভার বিরোধী দলনেতা নির্বাচনকে ঘিরে। ভোটে ভরাডুবির পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিধানসভার স্পিকারের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়ে জানান, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিরোধী দলনেতা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে। এরপর স্পিকারের তরফে নির্দেশ দেওয়া হয়, সংশ্লিষ্ট বৈঠকের প্রস্তাব এবং বিধায়কদের সই-সহ নথি বিধানসভায় জমা দিতে হবে। সেই নির্দেশ মেনে ৭০ জন বিধায়কের সই-সহ একটি চিঠি জমা দেওয়া হয়। পরবর্তীতে অভিযোগ ওঠে, ওই নথিতে থাকা একাধিক সই জাল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই শুরু হয় CID তদন্ত। CID সূত্রে দাবি, এই রেজলিউশন বুকের খোঁজে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি সংলগ্ন তৃণমূলের পার্টি অফিস এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ক্যামাক স্ট্রিটের অফিসে তল্লাশিও চালানো হয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত সেই নথি উদ্ধার করা যায়নি।

রবিবারের মুখোমুখি জেরায় রেজলিউশন বুক কোথায় রয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন করা হয় দু’জনকে। CID-র দাবি, এই ক্ষেত্রেও দু’জনের বক্তব্যে ফারাক রয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, রেজলিউশন বুক কোথায় রয়েছে তা তিনি জানেন না, অফিসের কর্মীরা এ বিষয়ে বেশি জানেন। তাঁর দাবি, সংশ্লিষ্ট চিঠি তাঁর কাছে অ্যানেক্সচার-সহ সই করার জন্য এসেছিল। অন্যদিকে কুণাল ঘোষ জানান, বিধায়ক হিসেবে ওই নথির অবস্থান জানা তাঁর দায়িত্বের মধ্যে পড়ে না। 

তদন্তকারীদের দাবি, সই কারা করেছেন এবং কখন করেছেন, তা নিয়েও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও কুণাল ঘোষের বক্তব্যে উল্লেখযোগ্য অমিল পাওয়া গিয়েছে।  যদিও জেরার পর কুণাল ঘোষ সাংবাদিকদের বলেন, তিনি তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করেছেন এবং কোনও দোষ বা বিতর্কিত কাজ করেননি। মুখোমুখি জেরার বিষয়টি স্বীকার করলেও তদন্তের স্বার্থে তিনি বিস্তারিত কিছু বলতে চাননি।

এদিকে সোমবার তদন্তের পরবর্তী ধাপে বিধানসভায় পৌঁছয় CID-র একটি দল। তারা বিধানসভার প্রধান সচিবের ঘরে গিয়ে বিভিন্ন নথি ও তথ্য সংগ্রহ করে। তদন্তকারীদের লক্ষ্য, অভিযোগের সূত্রপাত যেখান থেকে, সেই জায়গা থেকে আরও তথ্য সংগ্রহ করে সই জালিয়াতিকাণ্ডের প্রকৃত চিত্র সামনে আনা। অন্যদিকে বিরোধী শিবির ইতিমধ্যেই এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে রাজ্য সরকার ও তৃণমূল কংগ্রেসকে নিশানা করতে শুরু করেছে। তদন্তের অগ্রগতির দিকে এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।



Source link

Leave A Reply

Your email address will not be published.