Voice of Eastern India

Flood Panic : এই বুঝি সব ভেসে গেল, সুবর্ণরেখার ভয়ঙ্কর রূপ দেখে আতঙ্কে ৩০০ পরিবার


অমিতাভ রথ, পশ্চিম মেদিনীপুর : “নদীর পাড়ে বাস যার, আতঙ্ক তার বারো মাস”, বর্ষা এলেই এই প্রবাদ যেন বাস্তব হয়ে ওঠে নদী পাড়ের মানুষের জীবনে। সুবর্ণরেখা নদীর জলস্তর বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে ভাঙনের আশঙ্কাও। সুবর্ণরেখা নদীর  ভাঙন  এখন পশ্চিম মেদিনীপুরের গোপীবল্লভপুর-১ নম্বর ব্লকের করবনিয়া গ্রামের প্রায় ৩০০টি পরিবারের কাছে বড় আতঙ্কের কারণ। এই বুঝি সব ভেসে গেল। 

বর্ষার শুরু থেকেই সুবর্ণরেখার পাড়ে ভাঙন ক্রমশ তীব্র হচ্ছে বলে অভিযোগ গ্রামবাসীদের। ইতিমধ্যেই বিঘার পর বিঘা চাষের জমি নদীগর্ভে চলে গিয়েছে। নদীর জল বেড়ে  এগিয়ে এসেছে অনেকটাই। আর তার জেরে,  শুধু কৃষিজমিই নয়, বিপদের মুখে পড়েছে গ্রামের গুরুত্বপূর্ণ স্কুল কলেজ চিকিৎসালয়, মন্দিও । করবনিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়, সরকারি জল পাম্প এবং নদীপাড়ের একটি শিবমন্দির এখন ভাঙনের আশঙ্কায় । করবনিয়া গ্রামের বহু পরিবার কৃষিকাজের উপর নির্ভরশীল। গ্রামের একটি বড় অংশের বাসিন্দা তপসিলি উপজাতি সম্প্রদায়ের। তাঁদের কাছে চাষের জমিই জীবিকা নির্বাহের অন্যতম প্রধান অবলম্বন। ফলে একের পর এক জমি নদীগর্ভে চলে যাওয়ায় শুধু সম্পত্তির ক্ষতি নয়, ভবিষ্যৎ নিয়েও তৈরি হয়েছে গভীর অনিশ্চয়তা।

প্রতি বছর বর্ষা এলেই নদীভাঙনের সমস্যা বাড়ে। কিন্তু এবার পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার নিয়েছে। বলছেন গ্রামবাসীরা। নদীর পাড় ক্রমশ বসে যাওয়ায় অনেকেই বাড়িঘর নিয়েও চিন্তায় রয়েছেন। রাতের অন্ধকারে নদীর জলের আওয়াজে আতঙ্ক বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে।  আশঙ্কা, প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে আগামী দিনে আরও বহু জমি এবং বসতবাড়ি নদীর গ্রাসে চলে যেতে পারে। উদ্বেগ তৈরি হয়েছে করবনিয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ঘিরে। গ্রামের শিশুদের  বেশিরভাগই পড়াশোনা করে এই স্কুলে। নদীভাঙন যেভাবে এগিয়ে আসছে, তাতে স্কুলবাড়িটিও নিরাপদ থাকবে কি না, তা নিয়ে শঙ্কা। স্কুলের পাশাপাশি সরকারি জল পাম্প এবং নদীপাড়ের শিবমন্দির নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। স্থানীয়দের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙনের সমস্যার কথা প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে জানানো হলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি। বর্ষার সময় পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠলে তৎপরতা বাড়ে, কিন্তু নদীভাঙন রোধে স্থায়ী বাঁধ বা প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে না উঠলে সমস্যা থেকেই যায়।

গ্রামবাসীরা দ্রুত সুবর্ণরেখার পাড়ে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, এখনই যদি নদীর পাড় সংরক্ষণের কাজ শুরু না হয়, তাহলে আগামী দিনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়বে। কৃষিজমি হারানোর পাশাপাশি স্কুল, মন্দির, পানীয় জলের পরিকাঠামো এবং বসতবাড়িগুলিও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। প্রশাসনের কাছে তাঁদের একটাই আবেদন, আর অপেক্ষা নয়, দ্রুত নদীভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে গ্রাম ও গ্রামবাসীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক। 

 



Source link

Leave A Reply

Your email address will not be published.