পাটনা : বিহারের লখিসরাইয়ে ইন্দ্র দমনেশ্বর মহাদেব মন্দিরে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। মন্দিরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে অন্তত ৭ পুণ্যার্থীর মৃত্যু, আহত অন্তত ৬। শ্রাবণ মাসের সোমবার উপলক্ষে মন্দিরে জড়ো হয়েছিলেন প্রচুর পুণ্যার্থী । বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে পরপর মৃত্যুর জেরে গোটা মন্দির চত্বরে প্রাণভয়ে হুড়োহুড়ি শুরু হয়ে যায়। ধাক্কাধাক্কিতে ব্যারিকেড ভেঙে যায়, বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন । বিদ্যুৎ স্তম্ভে কোনও বিদ্যুৎসংযোগ ছিল না, দাবি জেলাশাসকের ।
বিহারের লখিসরাই জেলার অশোক ধাম মন্দিরে সোমবার সকালে ভক্তদের ভিড় ছিল যথেষ্ট। সোমবার শিবের পুজো দিতে বিপুল সংখ্যক ভক্ত মন্দিরে জড়ো হয়েছিলেন। অভিযোগ, সেই সময় হঠাৎ বিদ্যুতের একটি খুঁটি ভেঙে পড়ে। তার জেরে মন্দির চত্বরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। সকলে এদিন ওদিক ঠেলাঠেলি , ছোটাছুটি শুরু হয়। দুর্ঘটনায় অন্তত সাত জন ভক্তের মৃত্যু হয়েছে । আহত হয়েছেন আরও বেশ কয়েকজন।
লখিসরাইয়ের জেলাশাসক শৈলেন্দ্র কুমার জানিয়েছেন, সকাল সাড়ে ৬টা থেকে পৌনে ৭টার মধ্যে পরপর দু’টি ট্রেন এসে পৌঁছনোর পর মন্দির চত্বরে ভক্তদের ভিড় আচমকাই অনেকটা বেড়ে যায়। বিপুল সংখ্যক মানুষ একসঙ্গে মন্দিরের দিকে যেতে শুরু করেন। পরিস্থিতি সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে। ভিড়ের চাপে মন্দিরের বাইরে একটি ব্যারিকেড ভেঙে পড়ে। এরপর বিদ্যুতেরএকটি খুঁটি পড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। খুঁটিতে বিদ্যুৎ সংযোগ ছিল কি না, তা নিয়ে ভক্তদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার গুজব ছড়িয়ে পড়তেই ভিড়ের মধ্যে হুড়োহুড়ি শুরু হয়। বিশেষ করে মহিলাদের লাইনে ভিড়ের চাপ অত্যন্ত বেড়ে যায়। আতঙ্কিত হয়ে অনেকে পালানোর চেষ্টা করেন। সেই সময় একজনের উপর একজন পড়ে গিয়ে বেশ কয়েকজন ভক্ত আহত হন। পদপিষ্ট হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়। প্রশাসনের তরফে দাবি, দুর্ঘটনার খবর পেয়েই পুলিশ আধিকারিকরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছন। শুরু হয় উদ্ধারকাজ। আহতদের তড়িঘড়ি করে লখিসরাই সদর হাসপাতাল ও অন্যান্য নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাঁদের চিকিৎসা চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে মন্দির চত্বরেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
বিহারের মুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী বলেন, এই ঘটনাকে অত্যন্ত মর্মান্তিক। আহতদের যাতে দ্রুত এবং যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হয়, সে বিষয়ে প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি উদ্ধার ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের কাজেও জোর দেওয়া হয়েছে। লখিসরাইয়ের সাব-ডিভিশনাল পুলিশ অফিসার শিবম কুমার জানিয়েছেন, ঘটনায় এখনও পর্যন্ত সাত জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে অনুমান করা হচ্ছে, একটি বিদ্যুতের খুঁটি পড়ে যাওয়ার পর বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ঘটনা ঘটে। এরপরই ভিড়ের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং পদপিষ্ট হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়।
অশোক ধাম মন্দির স্থানীয়ভাবে শ্রী ইন্দ্রদামনেশ্বর মহাদেব মন্দির নামেও পরিচিত। মন্দিরটিতে রয়েছে বিশালাকার একটি শিবলিঙ্গ। মানুষের বিশ্বাস, শ্রাবণ মাসে এখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বিপুল সংখ্যক ভক্ত পুজো দিতে আসেন। বিশেষ করে সোমবারগুলিতে মন্দিরে ভিড় কয়েক গুণ বেড়ে যায়। দুর্ঘটনার পর মন্দির চত্বরে ভিড় নিয়ন্ত্রণে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন পুলিশ ও প্রশাসনের আধিকারিকরা। আহতদের চিকিৎসা এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ খতিয়ে দেখার কাজ চলছে।
