প্রকাশ সিনহা, কলকাতা: আরজি কর মেডিক্যাল কলেজে তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুন মামলার তদন্তে একের পর এক বড় পদক্ষেপ করেছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী কথা দিয়েছেন, আর জি কর তদন্তের খাতা খুলবেই। সেইমতোই একের পর এক অ্যাকশন নেওয়া হচ্ছে। ৩ IPS অফিসারকে সাসপেন্ড করেছে রাজ্য। নতুন করে সক্রিয় হয়েছে CBI-এর বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT)। তদন্তের অংশ হিসেবে মঙ্গলবার পানিহাটি শ্মশানঘাটে পৌঁছন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা।
২০২৪ সালের ৯ অগাস্ট নিহত চিকিৎসকের দেহ এই শ্মশানেই দাহ করা হয়েছিল। সেই সময় মৃতার পরিবার অভিযোগ করেছিল, অত্যন্ত তাড়াহুড়ো করে দাহকাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। কেন এত দ্রুত দেহ দাহ করা হয়েছিল, কারা সেই প্রক্রিয়ার পিছনে ছিল এবং সেই দিনের ঘটনাক্রমে কোনও অসঙ্গতি ছিল কি না, তারই উত্তর খুঁজতে শ্মশানঘাটে যান তদন্তকারীরা। কেউ দাহ কাজে তাড়া দিয়েছিল কি না। নিহত চিকিৎসকের দেহ দ্রুত সৎকার করে ফেলার জন্য কোনও প্রভাবশালীর চাপ ছিল কিনা খোঁজ নেবেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা।
সূত্রের খবর, শ্মশানের কর্মী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে ওই দিনের পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করছে CBI। আরজি কর মামলার তদন্তে এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে তদন্তকারী মহল। ২০২৪ সালের ৯ অগাস্ট রাতে পানিহাটি শ্মশানে ঠিক কী ঘটেছিল? তার পুঙ্খানুপুঙ্খ জানতে, পানিহাটি শ্মশানের অফিসে কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ করেন তাঁরা। অভয়ার দেহ সৎকারের রাতের রেজিস্টার চেক করেন তাঁরা। নিহত পিজিটি ছাত্রীর দেহে শ্মশানের কর্মীরা কী দেখেছিলেন? কে তাঁকে দাহ করেছিলেন? নির্যাতিতার দেহ দ্রুত পুড়িয়ে ফেলার জন্য কোনও চাপ তৈরি করা হয়েছিল কিনা? কেন তড়িঘড়ি দেহ সৎকার, এমন একাধিক প্রশ্নের উত্তর জানতে চান তদন্তকারীরা। রাজ্যে বিজেপি সরকার আসার পরেই খুলেছে আর জি কর কাণ্ডের ফাইল। ৩ IPS অফিসারকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। গত সোমবার CBI-এর পূর্বাঞ্চলীয় যুগ্ম অধিকর্তা রাজেশ প্রধানের নেতৃত্বে ৬ সদস্যের একটি তদন্তকারী দল আর জি কর মেডিক্যাল কলেজে যায়। এবার পানিহাটি শ্মশানে তদন্তকারী দল।
ইতিমধ্যেই হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশের পর সোমবার, আর জি কর মেডিক্যালে তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুনের মামলার ফের তদন্ত শুরু করেছে CBI। ২ দিন আগেই সিবিআই-এর পূর্বাঞ্চলীয় যুগ্ম অধিকর্তা রাজেশ প্রধানের নেতৃত্বে ৬ সদস্যের একটি তদন্তকারী দল আর জি কর মেডিক্যাল কলেজে পৌঁছয়। এ প্রসঙ্গে অভয়ার মা ও বিজেপি বিধায়ক, রত্না দেবনাথ বলেন, ‘ আমরা যেমন গিয়ে দেখেছিলাম সেমিনার হলে কিছুই ঘটেনি। CFSL রিপোর্টেও তাই বলেছে যে, সেমিনার হলে কিছুই ঘটেনি। ওকে খুন অন্য জায়গায় করা হয়েছে। এনে সেমিনার রুমে রাখা হয়েছে।তাঁর মুখে একাধিক ক্ষত ছিল। গলায় আঙুলের ছাপ ছিল। যারা PM করেছে তারা সেগুলো কোনও তদন্তের আওতায় আনেনি।’
এর আগে নিহত চিকিৎসকের মা – বাবা দুজনেই অভয়ার মৃত্যুর পর কীভাবে তার দেহ তড়িঘড়ি করে ময়নাতদন্ত করে শ্মশানে পাঠিয়ে দেওয়া হয়, কীভাবে তাড়া দিয়ে দাহ করে দেওয়া হয়, সে বিষয়টি সামনে আনেন। এবার এই বিষয়গুলি নিয়ে তদন্তকারী অফিসাররা খোঁজ নেবেন। এর পিছনে কোনও প্রভাবশালী সংযোগ ছিল কিনা , খতিয়ে দেখা হবে।
TMC News: শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাবের খেলার মাঠের ঘর থেকে উদ্ধার প্রচুর ত্রাণ সামগ্রী
