কলকাতা : ভোটে গোহারা হারার পর, যখন একে একে সব নেতা-সাংসদ-বিধায়করা পাশ থেকে সরে যাচ্ছিলেন, তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে লড়াইটা চালিয়ে যাচ্ছিলেন দু-জন, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কুণাল ঘোষ। দুই সলতের মধ্যে, একটি কার্যত নিভু নিভু। কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় আজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ‘আল্টিমেটাম’ দিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করলেন। আর কার্যত কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে দাঁড়িয়েছেন কুণাল ঘোষ। তৃণমূলের অন্দরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে ‘হুইসেল ব্লোয়ার’ যদি কাউকে বলা যায় তিনি হলেন এই কল্য়াণ বন্দ্যোপাধ্যায়। দু-হাজার বাইশের তেরোই জানুয়ারি তিনি বলেছিলেন, ‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়া আমি কাউকে নেতা বলে মানি না। সাংগঠনিক জায়গায় যে যাকে ইচ্ছে বসাতে পারে, আমার নেত্রী কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।’ তৃণমূলের অন্দরে নবীন-প্রবীণ দ্বন্দ্ব নিয়েও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উল্টোমত ছিল কল্য়াণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের। দু-হাজার তেইশের এগারোই ডিসেম্বর তিনি বলেছিলেন, ‘রাজনীতিতে নিঃসন্দেহে ম্যাচিওরিটির দরকার আছে। তুমি যদি বলো যে না চলবে না, তাহলে ম্যাচিওর লোক থাকবে না। নেব না।’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যেদিন তৃণমূলের লোকসভার দলনেতা হন, সেদিনই তৃণমূলের চিফহুইপের পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়।
আর বৃহস্পতিবার, ক্ষোভ উগরে দিয়ে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। বললেন, অভিষেকে বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভব্য আচরণ সব কিছু ধ্বংস করে দিয়েছে। কয়েকদিন আগেও যিনি অভিষেকের উপর হামলার প্রতিবাদে পথে নেমেছিলেন। CID-র অভিযানের খবর পেয়ে ছুটে গিয়েছিলেন কালীঘাটে। সেই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ই এবার অভিষেকের সব মামলা থেকে সরে দাঁড়ালেন। এই আবহে ঘণ্টাখানেক সঙ্গে সুমন অনুষ্ঠানের ‘পোল’ সেগমেন্টে তুলে ধরা হল এই সংক্রান্ত একাধিক প্রশ্নে মানুষের প্রতিক্রিয়া।
অনলাইন জনমত সমীক্ষা (Poll) য় প্রশ্ন ছিল—
“কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলছেন, হারের জন্য তো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ই সবচেয়ে বেশি দায়ী। এই দাবি ঠিক বলে আপনি মনে করেন?”
দেখা গিয়েছে ভোটদাতাদের বিপুল অংশ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্যের সঙ্গে একমত হয়েছেন।
সমীক্ষার ফলাফল
| বিকল্প | ভোটের শতাংশ |
|---|---|
| হ্যাঁ | ৯১% |
| না | ৭% |
| জানি না / বলতে পারব না | ২% |
সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণ
- সমীক্ষায় অংশগ্রহণকারীদের ৯১ শতাংশ মনে করেন, দলের হারের জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দায়ী—কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই দাবি সঠিক।
- মাত্র ৭ শতাংশ ভোটার এই দাবির সঙ্গে একমত নন।
- ২ শতাংশ উত্তরদাতা এ বিষয়ে কোনও মত দিতে চাননি বা নিশ্চিত নন।
পোল-এর প্রশ্নগুলি আগে ইউটিউব চ্যানেলে পোস্ট করা হয় ( @sangesuman2025 ) । একই ভাবে তা পোস্ট করা হয় ফেসবুক, ইউটিউব, এক্স, ইনস্টাগ্রাম, থ্রেড-এ। প্রশ্নের উত্তর দেন দর্শকরা। মাল্টিপল চয়েজ থাকে। তার মধ্যে একটি বাছতে হয়। সোশ্যাল মিডিয়ায় যা প্রতিক্রিয়া উঠে আসে, তা তুলে ধরা হয় ঘণ্টাখানেক সঙ্গে সুমন অনুষ্ঠানের পোল সেগমেন্টে। এখন প্রত্যেকে জানেন, ফেসবুক, ইউটিউব, এক্স, ইনস্টা, থ্রেড, সবজায়গায় তারা মন্তব্য পাঠাতে পারেন।
Tmc News | তৃণমূল সাংসদ শত্রুঘ্ণ সিন্হার মুখেও এবার মোদি বন্দনা ! | ABP Ananda LIVE
