Voice of Eastern India

ক্লাবে পার্টি অফিস, ছেলের জন্য ব্যাডমিন্টন কোর্ট! মমতার ভাইয়ের থেকে ‘দখলমুক্ত’ হল হরিশ পার্ক


কলকাতা: পালাবদলের পর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর আরেক ভাই, কার্তিক বন্দোপাধ্যায়ের (Kartik Banerjee) ‘দখলমুক্ত’ হল হরিশ পার্কের ক্লাব। দীর্ঘদিন হরিশ পার্ক ব্যায়াম সমিতি দখল করে রাখার অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে। তবে পালাবদলের পর অবশেষে কার্তিকের ‘দখলমুক্ত’ ক্লাব।

খাস কলকাতায় হরিশ পার্ক ক্লাব নামে আস্ত একটি পার্ক ও হরিশ পার্ক ব্যায়াম সমিতি নামের ক্লাব কার্তিক বন্দোপাধ্যায় দখল নিয়ে নিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। পার্কের পাশে আস্ত একটি ব্যাডমিন্টন কোর্ট তৈরি হয়েছিল কার্তিকের ছেলে আবেশ বন্দোপাধ্যায়ের জন্য। আবেশ যখন সেখানে অনুশীলন করতেন, তখন অন্যদের প্রবেশ নিষিদ্ধ ছিল বলে জানাচ্ছেন স্থানীয় ব্যক্তি থেকে প্রাক্তন ক্লাব সদস্যরা। 

এই হরিশ পার্কেই কার্তিক বন্দোপাধ্যায়ের ক্লাব বিবেকের না না অনুষ্ঠান খেলাধুলো, যেমন বিবেক কাপ, বিবেক মেলা সবই এখানে হত। সাধারণ মানুষের যত্রতত্র আনাগোনা নিষিদ্ধ ছিল। ২০২২ সালের পর এই হরিশ পার্ক ব্যায়াম সমিতি দখলে চলে যায় বলে অভিযোগ। ক্লাব পার্টি অফিসে পরিণত হয়ে গিয়েছিল বলে উঠছে অভিযোগ। তবে ৪ঠা মে-র পর ক্লাবের প্রাক্তন সদস্য ও সাধারণ নাগরিকরা পুনরায় ক্লাবের দখল নিয়েছে।

এক স্থানীয় ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, ‘শুধু ভবানীপুর, গোটা কলকাতার যেখানে যেখানে ওঁ মনিটারিং করত, সেটা এখান থেকেই হয়েছে। ওঁ তো এটা করবে বলেই ক্লাবের সকলকে বার করে দিয়ে, জবরদখল করে নিজেদের মতো মেম্বর কমিটি  নিজেদের মতো বানিয়ে নিয়ে, সবকিছু সাজিয়ে গুজিয়ে ক্লাবটাকে পার্টি অফিসে পরিণত করে দিয়েছে।’

‘৭৩ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূলের পার্টি অফিস হয়ে গিয়েছিল এটা। তৃণমূলের কিছু ছেলে যারা হরিশ পার্কের সঙ্গে কোনদিনও যুক্ত ছিল না, ক্লাবে ৯০ শতাংশ সেইসব সদস্য ছিল আর ছিলেন যারা ৮০, ৮৫ বছর বয়সি বয়স্করা। যারা ক্লাবের সদস্য তারা তো এর সঙ্গে লড়াই করতে পারবে না, মুখ্যমন্ত্রীর ভাইয়ের সঙ্গে কেই বা লড়াই করবে। আর মাঠটা তো আমরা সাধারণ মানুষরা ব্যবহারই করতে পারতাম না। ওঁ যেভাবে এখানে এসেছেন, সেটা একেবারেই বাজে, জঘন্য কালচার হয়ে গিয়েছিল।’ অভিযোগ করেন একজন স্থানীয়।

আরেক স্থানীয়ের অভিযোগ এই পার্কে আয়োজিত মেলা থেকে তোলা হত টাকা। তিনি বলেন, ‘এখানে চালু করল প্রথমে বিবেক, কার বিবেক জানি না, তাঁর তো নেই, কারণ বিবেক থাকলে তো এখনে এমন কিছু হত না। লোক ধরে নিয়ে এসে মেলায় প্রতিদিন বিভিন্ন স্টল থেকে  টাকা তোলা, আর্টিস্ট নিয়ে আসা হত, তাঁদের বলতে হত গান গাইতে হবে। পয়সা কিছু দিত না। তবে সরকার থেকে যে টাকাটা আসত, সেটা বিবেকের নামে চলে যেত। সৌগত রায়ও বিবেক, শোভনদেবও বিবেক, কার্তিক বন্দোপাধ্যায়ও বিবেক। এত বিবেক এখানে রয়েছে… সাধারণ মানুষ এখানে আসতে পারে না, বাচ্চারা আসতে পারে না।’ 

স্থানীয়রা জানান, তাঁরা ক্লাবে আগের ঝোলানো তালা ভেঙে নতুন তালা লাগিয়েছেন। প্রাক্তন সদস্যরা পূর্বতন ক্লাব কমিটিও ভেঙে দেওয়া হয়েছে। তবে ওই কমিটি এখনও ইস্তাফা দেয়নি। যদি সেই ইস্তফা না দেওয়া হয়, তাহলে সদস্যরা পুলিশ প্রশাসনের সহায়তা নেবে বলেও জানানো হয়েছে। 

‘তালা ঝোলানো ছিল, ৪ তারিখের পর তৃণমূল হেরে যায় যখন ঘোষণা হয়ে যায়, যখন তোলাবাজদের শাসন শেষ হয়ে যায়, তখন আমরা ক্লাবের সদস্যরা এসে তালা ভেঙে প্রবেশ করি। সেখানে গিয়ে দেখি আস্তে আস্তে কীভাবে সব জিনিসকে অন্যরকমভাবে গুছিয়ে ফেলা হয়েছে। কিছু জিনিস অ্যান্টিক জিনিসগুলি লোপাট করা হয়েছে, তার হিসাব দেওয়া হয়নি। আর কিছু লোককে কার্তিক বন্দোপাধ্যায়ই পাঠিয়েছিলেন যারা আসামী, তোলাবাজ, চিটিংবাজ তারাই ছিলেন ক্লাবে।’ অভিযোগ আরেক স্থানীয়ের



Source link

Leave A Reply

Your email address will not be published.