সুকান্ত মুখোপাধ্যায়, কলকাতা : কাজের দিনে আলিপুরে সরকারি অফিসে আগুন। দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পরিষদ ভবনে একাধিক তলে আগুন লেগেছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকলের একাধিক ইঞ্জিন। প্রাথমিকভাবে AC মেশিন থেকে আগুন লেগেছে বলে অনুমান দমকলের।
বিস্তারিত…
কাজের দিনে দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা পরিষদ ভবনে বিধ্বংসী আগুন। দাউদাউ করে জ্বলছে অফিস। অফিসের একটা দিকে ছড়িয়ে পড়েছে আগুনের লেলিহান শিখা। দমকল আধিকারিকরা বলছেন, সম্ভবত এসি থেকে আগুন লেগেছে। পরে তা বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে। পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছে একাধিক ফ্লোর। কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গিয়েছে চারপাশ। এক একটা করে জানালার কাঁচ ভেঙে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন দমকলকর্মীরা। যদিও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আগুনের তীব্রতা বাড়ছে। এই মুহূর্তে গ্রাউন্ড ফ্লোর থেকে হোস পাইপের মাধ্যমে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছেন দমকলকর্মীরা। কিন্তু, জল তিনতলার বেশি পৌঁছাচ্ছে না। অথচ আগুন লেগেছে তারও উপরের ফ্লোরে। ফলে, এখানে ল্যাডার কেন ব্যবহার করা হচ্ছে না তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
আগুনের তীব্রতা এতটাই বেশি রয়েছে যে তীব্র তাপে কাঁচ ফেটে যাচ্ছে। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অফিসে রয়েছে এই বিল্ডিংয়ে। সেসব কার্যত ভস্মীভূত। যদিও কতগুলো ডিপার্টমেন্ট আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তা এই মুহূর্তে বোঝা সম্ভব হচ্ছে না। প্রশাসনের একটা বড় অংশের যাবতীয় কাজ হয় জেলা পরিষদের এই অফিসে। এহেন একটা অফিসে আগুন লেগে অনেক গুরুত্বপূর্ণ জিনিস নষ্টের আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, সকাল ৯টা ৫০ মিনিট নাগাদ দমকলের একটি ইঞ্জিন আসে। কিন্তু, জলের গতি কম থাকায় পরবর্তীকালে আরও ইঞ্জিন আসে। সেই সময়ের মধ্যে আগুন অনেকটা ছড়িয়ে যায় বলে দাবি করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
এই অফিসের পাশেই রয়েছে আলিপুর কোর্ট। সেখানে আইনজীবীদের অফিস রয়েছে। শুধু তা-ই নয়, তার পাশে রেজিস্ট্রার অফিস রয়েছে। মোটর ভেহিক্যাল ট্রেনিং পরীক্ষা করানো হয়। তার অফিস রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে এরকম একটি অফিসে কী করে আগুন লাগল তা তদন্ত-সাপেক্ষ।
তবে আপাতত দমকলের কাছে সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জে, এই যে আগুন প্রায় আট তলা পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছে, সেই আট তলা পর্যন্ত দমকলকর্মীরা পৌঁছাবেন কী করে। সেখানে পৌঁছে গুরুত্বপূর্ণ যেসব নথিপত্র রয়েছে তা বাঁচাবেন কী করে। এরমধ্যে মাঝেমধ্যেই বিল্ডিংয়ের ভিতর থেকে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে। ফলে, পরিস্থিতি কঠিন।
