Voice of Eastern India

‘অসুস্থ ছিলেন না, তাঁর জায়গায় অরাজনৈতিক যুবককে নিয়ে আসা হয়’, সুদীপ মমতার সঙ্গ ছাড়তেই যা বললেন সুখেন্দুশেখর


বিজেন্দ্র সিংহ, নয়াদিল্লি : “অসুস্থতার অজুহাত দেখিয়ে সরিয়ে দেওয়া হল। যদিও তিনি অসুস্থ সেই সময় ছিলেন না।” কয়েক দশকের পুরনো সঙ্গী সুদীপ বন্দ্য়োপাধ্য়ায় তৃণমূলনেত্রীর সঙ্গ ছাড়তেই এমনই মন্তব্য করলেন সদ্য সাংসদ পদ ও তৃণমূলত্যাগী সুখেন্দুশেখর রায়। তিনি বলেন, “সুদীপদা খুবই প্রবীণ নেতা। ১৯৭২ সালে যখন তিনি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য যুব কংগ্রেসের সভাপতি ছিলেন, তখন তাঁর অধীনে আমরা কাজ করেছি। তখন থেকে তাঁকে চিনি। ৫৪ বছর হয়ে গেল। লোকসভায় দলনেতা ছিলেন। তাঁকে অসুস্থতার অজুহাত দেখিয়ে সরিয়ে দেওয়া হল। যদিও তিনি অসুস্থ সেই সময় ছিলেন না। যথেষ্ঠ সুস্থ ছিলেন। তাঁর জায়গায় নিয়ে আসা হল একটি অরাজনৈতিক যুবককে। যেটাতে আমার মনে হয়, সুদীপদা নিজে যেমন অপমানিত হয়েছেন, দলেও এ ব্যাপারে অনেকে খুব ক্ষুব্ধ এবং অপমানিত ছিলেন।” 

মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের সংসদীয় দলে ফের বড়সড় ভাঙন। তৃণমূলনেত্রীর সঙ্গ ছাড়লেন তাঁর কয়েক দশকের পুরনো সঙ্গী সুদীপ বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। দিল্লিতে গিয়ে প্রথমে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব ও তারপর বৈঠক করলেন খোদ কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে। দলে আরও একলা হলেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। 

শনিবার তৃণমূলের বিদ্রোহী সাংসদ শতাব্দী রায়ের সঙ্গে একই বিমানে দিল্লিতে পৌঁছন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখান থেকেই সোজা চলে যান ৯ মোতিলাল নেহেরু মার্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদবের বাড়িতে। 

শুক্রবারই সামনে এসেছিল ১৯ জন বিদ্রোহী সাংসদের সই সম্বলিত চিঠি। সূত্রের খবর, লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে যে চিঠি সোমবার দেওয়া হবে, শনিবার তাতে সই করেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্য়ায়। এরপরই চলে যান অমিত শাহের সঙ্গে দেখা করতে। সূত্রের খবর, ৩০ মিনিট ধরে বৈঠক হয়। রবিবারই দিল্লিতে বিদ্রোহী ব্লকের বৈঠক রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গেও তাঁদের বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে। তার আগেই ফের বড়সড় ভাঙনের মুখে পড়ল তৃণমূল। 

সূত্রের খবর, সোমবার অধ্যক্ষের সঙ্গে দেখা করে লোকসভায় অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের থেকে পৃথক ব্লকের দাবি জানাবেন সুদীপ বন্দ্য়োপাধ্য়ায়রা। যারা NDA-কে সমর্থন করবেন। 

৬ বারের সাংসদ সুদীপ বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। ২০১১ সালে মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায় যখন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তখন লোকসভায় সুদীপ বন্দ্যোপাধ্য়ায়কে তৃণমূলের দলনেতা করা হয়। ২০১৭ সালে রোজ ভ্যালি চিট ফান্ড দুর্নীতি মামলায় যখন গ্রেফতার হন, তখনও লোকসভায় তৃণমূলের দলনেতা ছিলেন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্য়ায়। কিন্তু গতবছর তাঁকে সরিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায়কে লোকসভায় তৃণমূলের দলনেতা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। প্রথম সারি থেকে দ্বিতীয় সারিতে যায় সুদীপ বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের বসার জায়গা। 



Source link

Leave A Reply

Your email address will not be published.